'য়া দশক


Nayadashak September, 2021

সম্পাদকীয়

সেপ্টেম্বর, ২০২১

খুব সহজেই বলা যায়, ছবি হলো নীরব কবিতা। তাহলে কবিতা কি সরব? বইয়ের ভাঁজে পড়ে থাকলে সে মৃত অক্ষরসমষ্টি মাত্র। তাকে নাদ দিলে সে জীবিত। প্রবল ভাবে জীবিত। আমরি যে কোনো ভাষাতেই। এবার ভাষান্তর ঘটলে তার রূপ অরূপ অপরূপের কী বদল হলো তা নিয়ে মত ও মতান্তর থাকবেই। অনেকেই ট্রান্সলেটেড বলার বদলে ট্রান্সক্রিয়েটেড পছন্দ করে থাকেন। তাদের যুক্তি ও প্রতিযুক্তিও আছে। বৃহত্তর সংযোগ সাধনে কবিতার ভাষান্তর প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে নীচের লিংকদুটি কার্যকরী হবে বলে মনে হয়। বাংলার লিখিত কোন গদ্য বা প্রবন্ধ থেকে থাকলে পাঠক জানাবেন। আপনিই সহায়।

https://blackbird.vcu.edu/v17n2/nonfiction/henry-b/translation-page.shtml

https://www.poetryfoundation.org/harriet-books/2016/11/translation-as-poetrys-corrupt-double-an-essay-by-johannes-goransson


প্রচ্ছদের ছবি আবীরা বসু


Cover February 2021 Nayadashak

ফেব্রুয়ারি, ২০২১

সম্পাদকীয়

এই গোলাপে সন্তাপ ফোটে। গৃহস্থের কাঙাল ফোটে।
আর কাঙালের হরিনাথ।
আমার কী ফোটে বুঝি না। রেকাবীতে রাখা রয়েছে কমলা। নীচে রূপো রঙের চাকু। এখনই আকাশে সন্ধ্যে ফুটে উঠবে।
যাতে তারা লেখা যায়। অযুত নিযুত তারা। শুনেছি, মরে যাওয়ার আগে তারা আর নতুন করে ফোটে না। তবে
চোখের পাতায় কী একটা ফোটে যেন। মুদ্রা মনে হয়। প্রাচীনতম।
মুদ্রার সেই কী এক অনবদ্য মুদ্রায় ফুটে যাওয়া।



Cover October 2020 Nayadashak

অক্টোবর ২০২০

আস্ত একটা সম্পাদকীয়ই লিখে ফেললাম...

এটা না লিখলে কিছুই হচ্ছিল না।
সম্পাদকীয় লিখতে আমার অনীহা। ফাঁকি  দিচ্ছিলাম। অভী ধরে ফেললো।
আসলে কিছু লেখার নেই।
এতো এতো শব্দ চারপাশে। এত সশব্দময়। তাই ভয় হয়।
তবু কথার পিঠে কথা আসে। গত মার্চ মাস থেকে কীরকম একটা যেন বেজন্ম যাপন করছি। যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছি, ততো আর্তনাদ করেছি। মূলতঃ এক প্রকার 'খবর' পরিবেশনের মাধ্যমে।
সোস্যাল মিডিয়া এখনো পর্যন্ত যেহেতু মুফত মিডিয়া, এবং, বহু অর্বাচীন কান পেতে থাকে, সেহেতু সেখানেই বেশী।
সমস্যা সেখানে নয়, বাঙালির প্রাণের ধন 'কবিতা'ও, প্রায় এক প্রকার ওই খবর হয়ে গেছে। যা মূলতঃ এক গুজবের ভাষা। এক রাতের বিকিকিনি।
এট্টু সমাজ, এট্টু অর্থশাস্ত্র, এট্টু ভূগোল, এট্টু ইতিহাস, এট্টু স্ট্রীম অফ..., এট্টু জাতীয়তাবাদ, এট্টু এল ও সি, এট্টু লাকা, এট্টু কালেক্টিভ... এবং এট্টু এবং এট্টু এবং এট্টু  কী নয়!
এখানেই এট্টু অভিমান।
তবে কীসের যেন একটা মনোপলি,  সেটা একদম টুটে ফুটে গেছে।
বিশ্বাস করুন, বগলাকুসুম বার্ষিক শুকতলা বলে কোন পুরস্কার নেই।
তাই বলে যে কাশ ফোটে নি তা নয়। মেলা ফুটেছে। ঘর থেকে দু পা দূরে গিয়ে চলুন ঘরটাকে দেখি।
প্রকৃতি তো রইলোই।
আগমনীও। তবে এ এক অন্য আগমনী।
ধর্মাবতার, মনে রাখবেন।
এর অনন্য সাক্ষী আমরা সবাই। যারা চোখ খুলে রেখেছিলাম, চোখ বুঁজেও।
উল্লাস।


প্রচ্ছদের ছবি শ্রেয়সী গাঙ্গুলি


Cover August 2020

অগাষ্ট, ২০২০

সম্পাদকীয়র বদলে

এই জুলাই মাসটাও বেঁচে বর্তে রইলাম। কথা নয়। তবু রইলাম।
খানিকটা নিষ্ঠুর ভাবেই। খানিকটা নির্দয়ও।
কিন্তু রইলাম। বৃষ্টি দেখলাম। বৃষ্টি শেষের আকাশ দেখলাম। ধোয়া মাটি। গা ধোওয়া গাছও দেখলাম। দেখতে বেশ লাগলো। জানলার অর্ধেকটা দিয়ে বাকি পৃথিবীর অর্ধেক নয়।
খালি চোখে দেখলাম। যেভাবে তাকে দেখেছি, আগে পরে ও মাঝের সময়টুকুতে।
ভাবলাম, যার গালে টোল পরে, তার দু বুঁদ ধরে রাখা।

আমি আর মুগ্ধ হতে পারি না।

তার প্রিয় উর্ণিটাকে মাঝে মাঝে দেখি। ভাঁজ বদলে রাখি।
একটা ভারী ভয় হয়।

এই বোধহয় পুলক হল আমার।


নিকনো হয়েছে দেওয়াল

প্রচ্ছদের ছবি সুকমল মাশ্চারাক

[email protected]


Cover April 2020

এপ্রিল, ২০২০

সম্পাদকীয়

ভাগ্যিস একটা ঝড় হল, ক’দিন প্রদাহের পর
আমার স্যুপ খাওয়া মাথায় উঠল
পাতারা ডানা ঝেড়ে ফেলছে
আমি ভাবছি, তুই ঊর্ধ্বশ্বাসে ঘরমুখো
মাথার ওপর উর্ণি টেনেছিস
আর গোড়ালির দ্রুত ওঠানামা
ঐশ্বরিক কণারা উড়ছে
তোর বুকের ভেতর লীন হচ্ছে তাপ
জিব দিয়ে প্রথম বৃষ্টির জল ধরলি
জলও গড়িয়ে গেল তোর পুঙ্খানুপুঙ্খ
সব সম্পর্কই কাল্পনিক, যারা রাতে ফোটে
যাদের রং শাদা হয়
যাদের সুগন্ধিতে একমাত্র কৌমার্য্য জেগে থাকে

তার বহু পর একটা গসপেল লেখা হয়


প্রচ্ছদের ছবি প্রীতম গাঙ্গুলি

[email protected]


Cover

ডিসেম্বর, ২০১৯

সম্পাদকীয়

একটা বাড়ি ক্রমাগত ঘর বার করছে। তার ছাদে আলসে লাগানো চিলেকোঠা। চিলেকোঠায় নিষিদ্ধ বইসব। মেঝে ফাটানো সেলার। সেলারে পিপেতে নিষিদ্ধ পানীয়। একটা ঠিক পোকা নয়, বুকে হাঁটে এমনও নয়, হামাগুড়িও দেয় না, দাঁড়ায় যে তেমনও না একটা অতি বদসুরৎ ঢ্যামনা গোছের কী যেন কী একটা গুটি গুটি চিলেকোঠায় ওঠে আবার গুটি গুটি নেমে মেঝের ফাটলে ঢুকে যায়।
কেউ কেউ বলে, তাকে দেখেছে। তার বেশী বানিয়ে ছেড়েছে তাকে। বিশ্বাস করেছে। করিয়েওছে বেশ কিছু। তাদেরই কারো কারোর বাড়িটায় ঢুকলে মনে হয় মালটা লেপ্টে আছে কোথাও। হাতের মুঠো থেকে থকথকে বেরিয়ে ছিটকে পড়ার মতো জেলীসদৃশ কোথাও পড়ে আছে।
তারা কেউ কেউ উঠোন মারালেই বাড়িটা অস্থির হয়ে পড়ে। ঘর বার করতে থাকে। একতলাতেই মনে হয় এথলেটিক ক্লাব ছিলো, পরে যুবর ইউনিট কোথাও একটা বসতো, যখন রাংতাপোড়ানো এলো তখন পুলিশ রেইড করেছিলো, এখানেই নীলাঞ্জন, মানে নীলু, সুদীপ্তাকে পেট থুড়ি গর্ভ দেয়, শিব মন্দিরে পুজো করতো আশীষ চিলেকোঠাতেই দড়ির সাথে লাট খাচ্ছিলো, মেঝের ফাটা থেকে বেরিয়েছিলো ঝুমার মা, অনেকটা উবু হয়ে অনেকটা ছড়িয়ে বাসন মাজতো-র পলা পরা একটা হাত।
এই বাড়িটা প্রমোটারেরও অরুচি। সরু এক অন্ধ গলির শেষ প্রান্তে দুকাঠার থেকে সামান্য বেশী জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। থাকতে দাও। থাকতে দাও।
বারো শরীকের বাড়ি। যেমন আছে থাকতে দাও।
বারোজোড়া জানলা আর বারোটা দরজা। যখন যেমন রোদ ছায়ায় বন্ধ হয় খোলে, হতে দাও।
প্রবেশাধিকার নিষেধ লটকে আছে বিপজ্জনক বাড়ির নিচে। কবে সেই লটকেছে।
গোচরের ভেতরে ও ভেতরের বাইরে আমি খালি সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে উঠি। নামিও সিঁড়ি ভেঙে। ভেঙে।

এতোসব তালিতাপ্পির জোরে।


প্রচ্ছদের ছবি তিলক শর্মা

[email protected]


Cover

সম্পাদকীয়, অথবা...

অগাষ্ট, ২০১৯

আমাকে লেখে যে আমি তার কথা ভাবি। এক গোপন অক্ষর ঘর থেকে উঠে আসে। পায়ে পায়ে চেপে ধরে মাথা। ফের বুঝি ও বোঝাই তাকে এটাই যৌনতা। বলি তাকে ধরে রাখো যে চাপ ধরায়। ওমে ওম রাখো যে শীৎকার ফলায়। আমি তাকে ছিঁড়ে ফেলি অঙ্গ থেকে। সঙ্গ থেকে দূরে রাখি। আমি তার চোখ আঁকি। ব্রহ্মে পাতি সই। পাতায় পাতায় মেলে যে মেলান্তি খেলা, শেষে বলি সমাধিস্থ হও। আমি তবে এইবেলা এপিটাফ হই।


প্রচ্ছদের ছবি আবীরা বসু



×

CONTACT

RAJARSHI CHATTOPADHYAY (EDITOR)

289, ASHOKEGAR

PURNIMA VILLA

1ST FLOOR

KOLKATA – 700108

Copyright © 2019 www.nayadashak.co.in
A Literary Venture of Naya Dashak (S/SC NO.26851 of 2014-2015)