স্বপন রায় এবং বারীন ঘোষাল

একই কাব্যগ্রন্থের দুটি পত্রপাঠ

ডাকনাম, জলের নিবিড়ে / অনিন্দিতা গুপ্ত রায়

অনিন্দিতা
ডাকনাম, জলের নিবিড়ে পড়লাম। তোমার লেখায় এক অসাধ্য সহজ রয়েছে, এত সাবলীল যে মনে হয় কবিতা এত সহজ, এত স্বাভাবিক! তুমি গল্পের ভাঙা আলোয় কষ্টের সরু সরু
দাগ রেখে দাও,ভালোবাসার নির্মম ছবিতে মিশিয়ে দাও,’যাদুটুপি,চশমা ও দূরবীন... আর
কবিতা মৃত্যুর কাছে এসে বলে ওঠেঃ’ঝরণাকলম গেঁথে থাকা আঙুল / ভারি হয়ে জুড়ে স্বচ্ছ হংসপাতা....’এই বিভিন্নতা তোমার কবিতায় কত ভাবেই না এসেছে, আর মানুষ জীবনের চেয়ে যে বড় নয় এই সত্যে এসেও তুমিও যাওয়াকে এমন ঔদাসীন্য দিতে
পারলেঃ”লাস্টবাস চলে যাক নামলিপি ছড়াতে ছড়াতে ওই দিকে,অতলান্তিকে..”কি ভাবে
পারলে অনিন্দিতা?
#
তিনটি পর্যায় তোমার বইটিতে। জলছবিতে তুমি নিজেকে ছাপিয়ে গেছো!’দীর্ঘ সেমিকোলনের শান্ত ফোঁটায়...”সহজ নয় এখানে পৌঁছনো,আর “ঢুকে পড়ি আর লিখিত
হতে থাকি..’’এক কথায় দারুণ!
#
তুমি ছবিকে অনুচ্চারিত করে দাও!’কারুবাসনার গায়ে মফঃস্বলী ভ্যাপসা বাতাস’
বা ‘আপাতত কুড়িয়ে নেওয়ার জন্য/কয়েকটা মধ্যাহ্ণ আর পুরোনো জলছবি’ এমন সব
পঙক্তিতে বার বার আটকে গিয়েছি!
#
ভালো লাগলো অনিন্দিতা,আরো লেখো,আরো বিভিন্ন হও,ভালো থেকো!


শুভেচ্ছায়,
স্বপন রায়

[page]
'যাদুটুপি চশমা ও দূরবীন' পরা কবি অনিন্দিতাকে --

তোমার বই 'ডাকনাম জলের নিবিড়ে' আজ পড়লাম। ভাল লাগলো। তার প্রথম কারণ--
তোমার প্রথম কবিতার প্রথম লাইনে 'দু এক কদম জল আর জলে ডোবা কদম'-- জল আর কদমর স্থান বদলে ঝলমলিয়ে উঠল কবিতা। এটা একটা সামান্য কথা নয়। সেই যে বলে না-- আগে দর্শনধারী,তাহে গুণ বিচারি-- এটা তাই, ফার্স্ট ইম্প্রেশন ইজ দ্য বেস্ট ইম্প্রেশন।
বইটাতে কোনো উৎসর্গ পত্র ব্যবহার করোনি। প্রচ্ছদ সুন্দর। রচনাগুলো উচ্চারণে সাবলীল,গীতল(লিরিকাল), সাধারণত মূলধারা বা আবহমান বাংলা কবিতা বলতে আমরা যা বুঝি তোমার কবিতা সেরকম,স্মুথ। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবনা ও ভাষার যোগবন্ধন হয়েছে। তোমার এতগুলো কবিতা একসাথে পড়ার সৌভাগ্য হল আজ। আমি তো মিডিয়া বা ব্যবসায়ী পত্রিকা পড়িনা,তবে মনে হয় এই কবিতা ছাপতে কারুর অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দুঃখ,কষ্ট,বিষাদ মিলিয়ে জীবনের মায়াসুরে বাঁধা। সঙ্গীতময়। পড়ে খুশি হয়েছি।
ভাষাবিন্যাসে ও শব্দযোজনায় বিপ্লব করতে বসোনি তুমি। প্রেম আছে,কিন্তু কবিতাহীন যৌনতা নেই যা জনমনোরঞ্জনের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিছু কিছু বিন্যাস ও শব্দবন্ধ আমার মনে বিশেষ দাগ কেটেছে, যা থেকে আমার কবিতার বীজ পেয়েছি, তা তো
ভুলবার নয়। যেমন--'তবু যদি কষ্ট না-ই পাও কিরকম ভালোবাসলে বলো?'--- 'অসময়ে স্নোফল ভিজে ওঠা বিজন বাতাস'---'আবহমান এস্কেলেটর'---'নিরক্ত করবী'-- 'বাতিল দূরবীন চোখে কারা যেন মেপে নিচ্ছে নদীর ওপার'(এখানে 'কারা যেন' এই ইনডেফিনেন্সিতে খটকা লাগে)---'আয়ত আইজ অসহ্য মায়ালীন'---'কোন মেটাফর দিয়ে আঁকছি না দেখ/তোকে'---'আঁচের প্রপাত'--'মৃদু পথরেখা'--'লুকোনো জলরঙ তিস্তায় সমস্ত হ্যালুনিসেশন'---'অসম্পূ� ��্ণ পাকদন্ডী'--- 'তোর না থাকার মিশেও কিরকম বৃষ্টিসম্ভব
হয়ে উঠেছিল'--- 'জমে ওঠা জলসাজ'-- 'পাসপোর্ট ফটো আঁকা গানবাড়ি'---'জ্যোৎস্নাই� ��েল'---'ডার্ক সার্কেলের মত অবাধ্য জ্যামিতি-----'ম্যাগনিফাই হয়ে ওঠা লন্ডভন্ড মেঘ'---- ইত্যাদি উজ্জ্বল চুমকির মতো যেখানে সেখানে ঝলমল করে ওঠে,পাঠকের কাছে,যা অবশ্যই কবির হাতে সাজানো। দারুণ,অনিন্দিতা। 'আমি কেবল লবণ করেছি বপন'--- তোমার একমাত্র দুর্বলতা বলে মনে হল। লিখতে লিখতে মাঝপথে তুমি যতিচিহ্ন বাদ দিয়েছো। বেটার লাগল পড়তে।
জলপাইগুড়ি অঞ্চলে নানা কবিতার আসরে ছবিতে তোমাকে দেখি। আর নিজেকে ওই বন্ধুমহলে কল্পনা করি। ভালো থেকো। অনেক লেখো।

ভালবাসায়----
বারীনদা