এক।।

টেরাকোটা খুলে গেল হাতের সামনে। আপ্যায়নে একটা বন্ধন রাস্তার উলটো দিক থেকে। খুব পাশে শহর উঁকি মারছে জল সাজিয়ে, পসরাদের এপিঠে ওপিঠে। পায়ে তবু পাল্লা বাজলো। নখের রাংতা থেকে আমাদের কিছুটা খসে পড়া মন, ধ্যানস্থ সিঁড়ি চেয়ে দূরের আকাশ আর আবাহনের এইপক্ষ একটা কর্ণারে।
সেখানে টেবিল তাকিয়ে আছে চোখের জন্য। আর ভিজে ওঠা জিভে লেগে গেলে গোল্ডেন ইয়েলোর বজরা... সাজানোদের শুধু দেখা যায় বিশ্রামের নথিমাখা অরণ্যের কাছে। লুকোনো হাতের যে রেখাদৃশ্য এই মুহূর্তে ধরা দেবে ডুব আর তালের নেভানো দিশায়
তার পরিশয্যায় ফিরে আসছে পাহাড়ের টুকরো বনিবনা... এই মানুষজন। স্থির সানগ্লাসের ভেতর থেকেও বোঝা যায় সেতুদের ভাষা , বেডরুম থেকে লাগাতার হা করে বেঁধে রাখা আকাশ কিম্‌বা
বাজার আর বিক্রেতার অছিলায়
কিন্তুরা একটু একটু করে বৈধ মাখছে বুকের পাখনায়......

আমি তাকিয়েছিলাম গাড়িটার দিকে।
সকাল থেকে ওকে কেউ চালায় নি।
কেউ ওর শরীরে গড়িয়ে যায় নি এখনো।
তবু কাচের ওইদিক থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মাইলমিটার।
হয়তো গতকাল কেউ কেউ উজাড় করে রেখে গেছে হাসি আর পুতুল চাদর।

ডাকো, একটু আধটু সেইসব লাইটহাউসদেরই ডাকো। আরেকটা নতুন খেলা শুরু হোক...মুগ্ধ হোক গ্রামগুলি আমাদের বিবাহ উৎসবে

[page]
দুই।।

রাস্তায় এখনও তার চেয়ার পড়ে আছে। আর মানুষটা? মাইল পেরিয়ে আসার পরেও লুকিংগ্লাসে কিছুই দেখা গেল না। যাচ্ছে না হারমোনিয়ামের রিডে রাখা নরম আঙুলগুলো এতক্ষণ যে সুর ভাসিয়ে গেল, তারও ইচ্ছে ছিল আজ সন্ধ্যায় আড্ডা হবে, গান হবে, তারপর অনেকটা মহুয়া...
পাখিরাও এখন প্রতিভায় বাল্মিকী হয়ে গেছে। মেয়েটা ক্রমশ বেড়ে উঠছে শব্দ নিয়ে ওড়া নিয়ে তাকানো নিয়ে। কিন্তু তাকালেই কি মেঘের আপোস দেখতে পাওয়া যায়? সহবাস করলেই কি বোঝা যায় আমাদের দাম্পত্য গুলি ঠিকঠাক মানিয়ে আছে......বিবাহের ছবিটার মতো?
মালা এইভাবেই বদলও হয়, বদলিও হয়ে যায় সাড়ায় সাড়ায়। তুমি বাড়িতে পড়াও। শ্রেনিতেও । আর পড়তে পড়তে ক্লান্ত আমি ফিরে যাই বাথরুমে। একটা ইশারা আসে ছোট্ট জানালা দিয়ে। রান্নার গন্ধও। কারু’র গানের আওয়াজে। এভাবেই ঘন্টা পড়ে সাবান জলে। জরিপ নেমে আসে টাওয়াল বরাবর।

হঠাৎ ড্রয়ারের কোণে মনে এলো চাবি।
বিছানায় পাঞ্জাবি গড়াচ্ছে। পাশে তামাকের বাক্স।
আগুনের বেকায়দায়। আয়না না থাকায় ভালই হয়েছে।
পাড়ার বেড়ালদের সাথে আমারও বয়েস বাড়ে না।
শুধু খোঁজ...... সেতো আমারই। ঠিক ঘন্টায় ঘন্টায় ঝাপ্‌টা বদলানো, আর শরীর।

দেওয়ালের সাঁকোটা আজকাল ভীষণ একলা লাগে। ওখানে একটা ছবি লাগালে বেশ হয়।কার ছবি লাগাবো? সেকি আমার সাথে কথা বলবে? ভালবেসে মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে? আর দিলেই বা কি......আবারতো আমি সেই রাগ করেই ভেঙে ফেলবো সমস্তটা
তবু যাই দেখি, এই শিরোনামের পর কিছু ভাবতে পারি কিনা।নয়তো কাল আবার একটা পথের দিকে তাকিয়ে থাকা। যদি মানুষটার দেখা পাই...
আর আমার হারানো কোমর

[page]
তিন।।

সদর বাজানো ফুলেরা আজ চুলের চারপাশে। খোঁপাতে বেঁধে রাখা রোদ এখনো বাহার দিচ্ছে পায়ের দিকে। পিছনের দিকে। গতকাল শহরে যে বৃষ্টির আশ্রয় ছিল, তার কাছাকাছি আমরা পৌঁছোতে পারি নি। যেমন পারি না আঁচল সরালেই কিভাবে তুমি নদী হয়ে ওঠো বরাবর নিজের কৌশলে।
দরজায় একটা টোকা। তক্ষুনি বেজে ওঠেন গুলজার। ঠিক ফুলটার কাছে আরেকটা মৌমাছি আমাকে পৃষ্ঠা দেবে বলে

ভেজা জামাদের সরাতে গেলাম
সরাতে গেলাম তারের টুকরো থেকে
প্রায় মিশে যাওয়া নখের দাগ
পর্যন্ত
এই বেওয়ারিশ ছাদে এখনও ঘুরে বেড়ায় কিছু কিছু সংহার। যাদের পরিপাটি শিবিরে ঋজু’র কোন চিহ্ন নেই। নেই চারাগাছেরও।
এভাবে তপোবন দেখা যায় না। আর আমার ছাড়ানো স্পর্শগুলো হারিয়ে যাবে মুছে ফেলার নেশায়।
ঋতুর আমদানিতে তাই ব্যথার উৎসব। এই বুকে করে একটা শরীর যখন শুধু গামছায়
ঢেকে রাখতে হয় নিয়ম এড়াতে
আমাদের অভিমান, শব্দের আহ্লাদ সব টের পায় শুধু ঊ... ষা... দি......

সমস্ত কবিতাই তখন দেহাতের জ্বালায় বেহাত হয়ে যায়। করলার পেট আর ভারি হয় না। শুধু উৎসর্গ আর প্রকাশের দিনে সেগুন ভেস্তে গেলে সেলাই-এ সেলাই-এ। কার্ণিশের পাখিটাও জানে এইসব কথা।
আর কথায় কথায় ধোঁয়াটে তল। তলানীরা আসছে। সামান্য মুখোশ নিয়ে।
আমাদের দুইহাত পতনের বেলায়......