ছেলেটা বাস্কে বা সাইমন্ড, যে কেউ হতে পারে। আমি ওকে প্রথম দেখি জলপাই রঙের পোশাকে ও মেজাজে, ডি-১ কম্পার্টমেন্টে। পাতালে এখন চোখে পড়ার মত সতর্কতা। কিন্তু রোজ-ই আমি ট্যাবলেটটা পাঞ্চ করার আগে, রুকস্যাকটা স্ক্যানারে চাপিয়ে ভাবি, ভাবতে বেশ লাগে, আমি ও আমার মত অনেকের শার্টের নিচে, কোমর আর পিঠের ওপর, ৯ এম এমগুলো শুধু শুধু ভিজে যাচ্ছে।

তা, আমি আমার রুকস্যাকটা নিয়ে স্বয়ংক্রিয় সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নেমে ডি-১ কম্পার্টমেন্টে উঠে পড়ি। একটা বসার জায়গা পাই। বসেই ঠিক দেখি উল্টোদিকে বাস্কে বা সাইমন্ড। যে কেউ। আয়াম নট শিওর। ছিপছিপে বললে কম বলা হল, মনোরম সবুজ উর্দি-ক্র্যু ছাঁট-ভারী জুতো ছেলেটা বাঁ হাতে একটা এ কে ৫৬-র শরীর জড়িয়ে, ডান হাতে নলের মুখ চেপে বসে আছে।

জঙ্গল-মহল এই মুহূর্তে এই ভূখণ্ড আর ভূখণ্ডের মানুষের কাছে স্বাদু কয়েনেজ। যত্র তত্র যার্থে তার্থে ব্যবহার করা যায়। বিশেষত পরিবর্তনের পর। ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট বলছে বাস্কে বা সাইমন্ড আত্মসমর্পণের ঠিক তিন মাস সতের দিন পরে স্পেশালাইজড টাস্ক ফোর্স (সার্ফেস ট্রান্সপোর্ট)-এ জরুরী ভিত্তিতে চাকরি পায়।

এটা আমার জানার কথা নয় এবং আমি জানিও না। কিন্তু এয়ার-কন্ডিশনিং এই পাতালের প্রাগৈতিহাসিকটার পেটের মধ্যে সিঁধিয়েও বাস্কে বা সাইমন্ড ঘামছে। বিন্দু বিন্দু জপমালা ভিড় করে আছে ওর কপালে।

আমি নিশ্চিত সেটা ওর চাপা চোখে মাপা তাকানোর জন্য। এটাও প্রাগৈতিহাসিক। যেন ও জানে, আর, জানাটাই ওর কাজ যে ৯ এম এমগুলো কার কার পিঠ আর কোমরের ওপর শোয়ানো আছে। ও শুধুমাত্র তাকায় না, তাকানোর সাথে সাথে শুনতে, শোনার সাথে সাথে শুঁকতে ও স্বাদ পেতে থাকে। তারপর ওর মাথা ঝিম ঝিম করে। বড় বড় গাছগুলো, বটম শটে, ঘুরতে থাকে। সাথে আকাশটাও।

আমার মনে হয়, ভুল মনে হয়, একজন বাস্কে বা সাইমন্ডের এটা কোন কাজ হতেই পারে না। অথবা, এটাই একমাত্র কাজ হতে পারে।

এই বাস্কে অথবা সাইমন্ড, ইন্টার্নাল রিপোর্ট বলছে, শিক্ষানবিশিকালের ঠিক ২৯ দিনের মাথায়, দিনের শেষ ট্রেইনটা যখন দক্ষিণের প্রান্তিক স্টেশানে ঢুকেছে, তখন একে একে জামা-জুতো খুলে,তার বাস্কেয়ান বা সাইমন্ডীয় আবলুশ কালো চেহারাটা নগ্ন করে বেরিয়ে আসে। ট্র্যা ট্র্যা করে শূন্যে তার কাছে মজুত সমস্ত ধাতব শব্দ ছুঁড়ে দেয়। বিকট অঙ্গ-ভঙ্গিমায় নাচে। তারপর।

তারপর, আমার ৯ এম এমটা চিবুকের নিচে লাগিয়ে, নলটা একটু ওপরের দিকে ঠেলে, ওর মূর্ত শরীরে একটা বিমূর্ত সংগীত তোলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই সময় ওর মাথা থেকে কিছু থ্যাতলান সবুজ বেরিয়ে আসে, এবং, কংক্রিট প্লাটফর্মের ওপর দিয়ে তারা সামান্য গড়িয়ে যায়।