কি জ্বালা বলুন দেখি? উফফফ ছেলে হয়ে জন্মাবার জ্বালা কি তা বুঝলেন কোনদিন? খালি খালি উপমা দেওয়া হীরের আংটির... আজকের দিনে হীরের দাম কত হয়েছে জানেন? পড়াশোনা করতে হবে, খেলাধূলো করতে হবে, গীটার বাজিয়ে গান সব কিছু করেও যে ভাল কলেজে সুযোগ বা ভাল চাকরি জুটবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। কোথাও যাবার নেই কিচ্ছু করার নেই, একটা গান শুনব তারও জো নেই... মাঝে মাঝে মনে হয় জেলখানায় বন্দী হয়ে রয়েছি।

দিনের মধ্যে ২৪ ঘন্টা তো আর সৃষ্টিশীল হয়ে থাকা যায় না। আমি কি পানের পিক নাকি? যেখানে ফেলে দেবে সেখানেই সেঁটে গিয়ে নিজের রঙ ছড়াব? আরে বাবা রাস্তার জমা জলও তো খানা খন্দে কিছুক্ষণ থাকার পর উবে যেতে শুরু করে। আমিও যদি সময় কাটাবার নাম করে একটু আধটু নেশা টেশা করি, এদিক ওদিক চাঁদমারি, ওদিক সেদিক মার ঝারি তাহলে দোষের কি বলুন তো?

দিন না মশাই একটা জুতসই চাকরি, যেখানে দু ঘন্টা কলমের ডগা চিবলেই মার্সিডিজের চাবি হাতে চলে আসে সঙ্গে বিলিতি পণ্যের ঠেকা। সে তো করবেনই না তার বদলে সামনে বসিয়ে দিয়েছেন ধর্মীয় আপেল। আহ! বেশ ছিলাম ন্যাংটা ভবঘুরের বেশে। খেতাম দেতাম আর পাঁজর চুলকিয়ে বগল বাজাতাম ধিনতা ধিনতা ধা...

তা না এক জাব্দার মতো জানু দিয়ে তার উপর বসিয়ে দিলেন মুর্তিমতী পাপকে। সে এমনি সেমনি হলে ভাল হত। কিন্তু সুখ পাবেন কেন? তার শরীরে দিলেন মদ, চোখে তার নেশা আর আমার বুকের পাঁজর গেল ছিঁড়ে। জানেন তো বাপু মাল্টিটাস্কিং-এ আমাদের ভীষণ রকমের আপত্তি। তা আপনি দিলেন ‘যারে দেখতে নারী, তার চলন ব্যাঁকা’। আর আমার জগতটাই কি ভীষণ দুলে টুলে ফুলে উঠল। উফ ঘা না মারলেই নয়। ভাঙ ভাঙ ভাঙ কারা আঘাতে আঘাত কর।

ওহ, জ্বালা জ্বালা বুক জ্বলে চলে যায়- জলে লাগে আগুন। জল ছাই হয়ে যায় আর বুক ভর্তি তৃষ্ণা। এরপর আর কি? বেশ ভুলে টুলেই ছিলাম। আহা কি মোহিনী রূপ রে মাইরি। যে দিকেই তাকাই মনে হয় গভীরে যাই আরও গভীরে যাই।
ভালই... নাগরিক ছলাকলায় জাগতিক কর্ম ভুলে বেশ বেঁচে ছিলাম। কিন্তু আপনার চুলকানির তো আবার সীমা পরিসীমা নেই। তাই করলেন কি? কি করলেন? সেটা বলতে হবে? দাঁড়ান তার ফিরিস্তি দিই- জগত সংসারকে ছেলে ছেলে করে পাগল করলেন। ছেলেদের মনে ঝড় তুললেন। আর তারা লাগল উৎপাদনে। সামনে উর্বর জমি পেলে কে লাঙল চালায় না বলুন দেখি? তারপর জনগণের দাবী মেনে দিলেন লাঙলের সংখ্যা বাড়িয়ে, কিন্তু জমি তো বাড়ন্ত। তার আবার অনেক হ্যাপা। জমি হবার আগেই তাকে আগুনে পুড়তে হয়। নাহলে তো লাঙলের রবরবা থাকবে না আর।

তাই এক জমিতেই পড়ল হাজার লাঙলের ঘর্ষণ আর আপনি মশাই তেড়েফুঁড়ে নাম দিলেন ধর্ষণ। কি মুশকিল। এ তো মাৎস্যন্যায়, আহা বাবা একটু ভাল মন্দ খেতে দেবেন না? না হয় জীবনের লড়াইয়ে গেছি হেরে তা বলে ভাল জিনিসের প্রতি কি আমাদের দাবী থাকতে পারে না? খালি প্রতিষ্ঠিতরাই ট্রফি বাগিয়ে বেড়াবে ঘুরে? আর আমরা কি এসেছি বানের জল ফুঁড়ে? তাই একটু ফুর্তি আর তাতেই এই সব মিডিয়া টিডিয়ার সংহার মুর্তি। বিবেক জেগে ওঠা, সকাল বিকেল খোঁটা, ছবি দিয়ে খোঁজা, ধরলেই খোজা, এই সব দাবী কত আর খাবি? লুকিয়ে থাকি আমি পালিয়ে বেড়াই, ধরা পড়ে গেলে করবে নেড়াই।
তাই আমার ভিতরের আগুন জ্বলছে জ্বলছে জ্বলছে রাবণের চিতার মতো। আরে মানুষ মাওবাদী সবার দাবী থাকতে পারে আর আমরা কি ফ্যালনা? যেদিন... হুঁ হুঁ বাওয়া বললে তো অশ্লীলতার দায়ে দেবেন ধরে আটকে। তখন আবার গর্তের মাঝে পানের পিক...

তার চেয়ে বলছি শুনুন আমাদের দাবী। মানলে ভাল, না মানলে আমাদের অধিকার কায়েম করার ক্ষমতা বেশ ভাল করেই আছে, জেনে রাখবেন।

ওই সেই ইভের জাতগুলোকে বোরখা পরিয়ে বাড়ি রাখুন ঝামেলা খতম। পরিচয় দেবেন না নিজের... কেন মা, বোন, বউ এ সব কি ফেলে দেবার মতো পরিচিতি? তার সঙ্গে দিন গালভরা কর্ম বিবরণী আর জীবন ভর মাথা নিচু করে থাকার ক্ষমতা। ক্ষমতার কথায় মনে পরে যায়, আমাদের আবার ক্ষমতার ব্যবহারের সময় তাল বেতাল জ্ঞান থাকে না, তাই প্রতিবাদ না করাই ভাল। আহা একটু ইচ্ছে বলে কিছু থাকবে না?

সকালে আটটার মধ্যে অফিস যাবার আগে সাড়ে সাতটায় মোচা নিয়ে এসে বলতেই পারি ‘খাব খাব খাব’! বিকালে ফেরার পথে বাড়ি না ফিরে বারে বসে বার বার বলতেই পারি ‘খাব খাব খাব’! রাতে ফিরে খাটের উপর জুতো আর ফ্রিজের মাথায় মোজা রেখে নরম সরম শরীর দেখে লকলকিয়ে বলতেই পারি ‘খাব খাব খাব’!

তা এইটুকুই তো চাইছি। সারাদিন তো কাজ করতে রাজি আছি। তার বদলে নিজের জায়গা বলে কিছু থাকবে না? নাকি ফুর্তি করতে সেখানেও মন্দাকিনীদের বয়ে যাওয়া শুরু হবে। আহা বইবে বও পর্দার পিছনে বও। সামনে আসবে, খাঁজ দেখাবে, ভাঁজ দেখাবে, দুলবে তুলবে আর আমাদের যদি খিদে পায়, একটু চেখে দেখতে যাই তাহলেই বিপদ?

আরে বাবা পুরুষ হয়ে তো জন্মান নি। তাহলে আর কি বুঝবেন জ্বালা কতরকম। খাবার সামনে ঘুরে বেড়াবে আর খেতে গেলেই ফোটো তুলে পোষ্টার লাগিয়ে দেবেন। এই অবিচার সহ্য করতে করতে আমার বুকের ভিতর ভিসুভিয়াস ফুটতে শুরু করে দিয়েছে তা আগে ভাগেই জানিয়ে রাখলাম।

অনেক দেখেছি অনেক শুনেছি, স্বাধীনতার নামে বেশ্যাবৃত্তি, মুক্তির নামে চুক্তির অবমাননা। এক সঙ্গে চলতে চাওয়া তারপর আবার সংরক্ষণ নিয়ে নাচাকোঁদা। এই সামাজিক অনাচার বেশী দিন সইবে না। যে দিন দেব সব কিছু পুড়িয়ে ভেঙে চুরে সেদিন বুঝবেন ঠ্যালা। তাই ঘরের ছেলে (না না ছেলেদের বেশী বাধা টাধা দেবেন না- ওটা মেয়েদের জন্যই থাকুক না হয়। সব কিছু তো সবার ধাতে সয় না। আমরা তো আবার ফ্রি স্পিরিট-মুক্ত বিহঙ্গ! যেখানে সেখানে ফেলব ছড়াব! মাইন্ড করবেন না মাইরি) পরের ছেলের মতো যেন না হয়। মেয়েছেলে বলা যায় বলেই কি মেয়েরা সুবিধা বেশী নিয়ে নেবে? ছেলে ছাড়া বাপু এক কদম চলবে না। মাথা নীচু করে থেক আর মায়ের জাত বলে মাঝে সাঝে সাঁঝে রস আস্বাদন করতে দিও। আর এমনিতে তো তালি এক হাতে বাজে না... কানখুস্কির আরাম না কি কানের?

আর সময় ফুরোলে কোলে দিয়ে দেব আলো আর তাই নিয়ে থেক ভাল। না হলে? পুরুষ সিংহেরা লুফে নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। শিকার করাও তো আজকাল আইন বিরুদ্ধ হয়ে গিয়ে সুযোগ গিয়েছে কমে...তাই সুযোগ আর সদ্ব্যবহার কিন্তু এক সঙ্গে থাকতেই পছন্দ করবে।

অধিকার অধিকার অধিকার, অধিকার আবার কি হে? যা দিচ্ছি তাতেই সন্তুষ্ট থেকো হে। খামোকা চিত হয়ে শুতে যেয়ো না। তাহলে কিন্তু সুযোগ করে দেবে আমাকেই। তখন কিন্তু কিছু বলতে পারবে না যে আগে থেকে বলি নি কিছু। চরিত্রের কম্বল মুড়ে নুড়ো ঘষে দিয়ে যাবো জন্মদাগে এই বলে রাখলাম।

তুমি জ্বলো নিজের জ্বালায় খামোখা এসো না জ্বালাতে,
এমন জায়গায় মারব তোমায় পারবে না আর পালাতে...
কথার পিঠে কথা নিয়ে সামনে যদি আস,
ধরব চেপে টুঁটি তখন দেখব কেমন কাশো।
তোমার জায়গা পায়ের নীচেই সেইখানেতেই থাকো,
ঘাপটি মেরে থাকবে পড়ে, নড়বে চড়বে না কো।
ইচ্ছা মতন দেবীর মতন করব তোমায় পূজো,
করলে ট্যাঁ ট্যাঁ বাটাম পেটা জুটবে তোমার বুঝো।
এমনিতে কি জানছ না যে পুরুষ সংখ্যা বেশী
তোমরা আবার সাজলে পুরুষ ফুলবে ’মোদের পেশী
মদের নেশা অমৃত সে দেবতাগুলোই পাবে
দেবদাসীরা করলে নেশা দেবতা কোথায় যাবে?
তাই বলি কি অন্ধকারে নিজের মত থাকো
বাইরে এলে পুড়বে আলোয় বাঁচতে পারবে না কো।
এসব কিছু শুনলে কি আর পাচ্ছো না কো ভয়?
তাই তো বলি বলতে থাক পুরুষ বাবার জয়।
বল পুরুষ বাবার জয়।

নইলে তো জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাব। সঙ্গে সঙ্গে শেষ করেও দিয়ে যাব। উফ... পুরুষ বলে কথা... একটু জল পাই কোথায় বলতে পারেন? জ্বালা, জ্বালা, কি যে জ্বালা...