আয়ারল্যান্ডের বিখ্যাত কবি শিমাস হিনি এই বছরের ৩০শে অগাস্ট প্রয়াত হয়েছেন। এই দুটি কবিতাকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ ভাবলে ভুল হবে না। ১৯৬৬ তে কাব্যজীবনের যাত্রা শুরু করেছিলেন "Death of a Naturalist" কাব্যগ্রন্থ দিয়ে। তার পর একে একে "Door into the Dark", "Wintering Out", "Field Work" ইত্যাদি। ১৯৯৫ এ নোবেল পুরস্কার পান। এছাড়াও নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন যার মধ্যে অন্যতম হলো ২০০৬-এ "District and Circle" কাব্যগ্রন্থের জন্য 'টি. এস. এলিয়ট পুরস্কার' এবং ২০১১য় "Human Chain" এর জন্য 'পোয়েট্রি নাও অ্যাওয়ার্ড' ।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কৃষক পরিবারে ১৯৩৯ সালে জন্মানো এই কবি বরাবরই কবিতাকে ভূমিকর্ষণের সম্প্রসারণ বলে মনে করেছেন। শিকড়ের টানে তাঁর কবিতার খননকার্য আয়ারল্যান্ডের মাঠঘাট, ক্ষেতখামার আর জলাভূমিতে ইতিহাসের গোপন হিংসা-বীজগুলোকে অবলীলায় তুলে এনেছে। মাটির গোপনে যেখানে যেখানে এক হয়ে গেছে নরম ভেজা আলু আর লুকিয়ে রাখা মৃতদেহ, কবিতা সেখানেই তার খনন-অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে ইতিহাসের গোপন করুণ অবশেষ। আমরা আরো অনেক অনেক বছর তাঁর কবিতার স্থানীয় রং আর মাটির সোঁদা গন্ধে বিভোর হয়ে থাকবো।


বদলায়

তুমি যখন আমার সঙ্গে এলে,
নীরব আমরা নীরবতায়
দীঘল ঘাসের ভেতর ওই পাম্প

শুনলাম আমি এমন সকল কিছু
যা কিছু তখন তুমি শুনতে পেলে না
কোদালের কামড় যা সকল ডুবিয়ে দেয়

পিছল আর গড়গড় গজগজ
রাজমিস্ত্রীর ঢালাই মেশানো

আর মেয়েরা সাদা বালতি নিয়ে আসে
ঝাপটানো ডানার ঝিলিক চিকোয় যেন

লোহার ডালার ধার বরাবর
টুংটাং হয় বের করে আনলে

মুখের ভেতর একটা কিছু নড়ে ওঠে
পাখির চোখের দেখায় পাখিকেই দেখা যায়

ফীন্চ-গ্রিন পাখি, সাদা ধপধপ
শুকনো পাতায় বাসা, চ্যাপ্টানো, স্থির

আলোয় কষ্ট পায়
আমি তাই দুর্গের ছাদখানা তুলে দিই আবার

যতটা আলতো করে সম্ভব, তোমাকে বলি
আর তুমি আলতোয় ছাদ সরিয়ে দ্যাখো

কিন্তু কই, পাখি কোথায় এখন?
শুধু সাদা ধপধপ নুড়ির মত ডিম

পাম্পের জং ধরা ঠোঁট বরাবর
লেজের পালক ছড়ানো, আঠায় জুড়ে আছে।

ফিসফিস করে বলি, "এই পথ মনে রেখো।
যখন তুমি বড় হবে আর দূরে চলে যাবে

আর জনহীন শহরের ঠিক মাঝখানটায় দাঁড়াবে
তখন এই পথে তোমার আবার ফিরে আসা
ভালোয় ভর করে আবার ফিরে আসবে।"


চাষ আবাদী

ঐ জঙ্গলের প্রতিটা বিন্দুই ছিল কেন্দ্রিক,
বার্চের কান্ডে তোমার অনুসঙ্গ প্রেতস্থ
হাওয়ার গভীর থেকে তাৎক্ষণিক জাদু-বলয়

যেখানে যেখানে তুমি থামতে।
যদিও তুমি হাঁটতে সরলরেখায়
তাও হয়ত বৃত্তাকার তোমার পথ
ব্যাঙের ছাতা, আনত গাছের গুঁড়ি

শেষ অব্দি ফিরে ফিরে আসতো।
নাকি তুমিই ওদের পাশ কাটিয়ে যেতে?
এখানে ছিল কালো আঙুর, মেঝের ওপর কম্বলের মত,
প্রাচীন আগুনের কালো দগ্ধবিন্দু

একবার ওদের খুঁজে পাবার পর
নির্ঘাৎ তুমি বারবার খুঁজে পেতে
কেউ একজন আগেই ওখানে ছিলো
প্রতিবার তুমি একলাই ছিলে তাও

প্রেমিক-প্রেমিকা, পক্ষীপ্রেমিক,
ক্যাম্প খাটানো যাযাবর, ভবঘুরে
ব্যবসার চিহ্ন রেখে গেছিলো সর্বত্র
নাহলে নেহাৎ মলমূত্র কিছু।

রাস্তাটাকে আগলে ধরে রেখে
পথচারীদের ডাক পাঠাতো ওরা
চুপিসাড়ে নরম মাটির দানা
ট্রেডমিলের ফিসফিসানিগুলো

এখন তাদের নির্ধারিত সীমা
বাইরে থেকে তাই তো ভেবেছিল।
ট্রাফিকের গুন্গুনকে ওরা
প্রাণ খুলে ধন্যবাদ দিতো।

পিকনিক-বেল্টের বাইরে যাবার সময়
কিম্বা পাহাড়ের ওপর কুয়াশার গল্প
মনে পড়তে শুরু করতো যখন।

ফিরে তোমাকে আসতেই হতো
শিখতেই হতো আত্মহরণ কৌশল
হতেই হতো চালক পোক্ত--খপাছাড়া এক ডাকিনী
একই লোক হ্যান্সেল আর গ্রেটেল।