সমীরা মখমলবাফ, ইরানিয়ান চলচ্চিত্রকার। এইটুকু বললে যদি অপরাধ ঘটে তাহলে ঘটুক। শিল্পে অতিরিক্ততার চেয়ে রিক্ততা শ্রেয়।

‘ব্ল্যাকবোর্ড’ ছবিটার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। রুখাশুখা পাহাড়ে মাথায় স্লেটের ব্ল্যাকবোর্ড নিয়ে হেঁটে চলেছে জীবিকাহীন শিক্ষকশ্রেণী। আর এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ফিল্মে এক তরুণী শিক্ষিকা তার ছাত্রছাত্রীদের সাথে দেখছেন চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া। বাস্তবতার সম্প্রসারণ সমীরা এইভাবেই করেন। একটা দৃশ্যকে তিনি হঠাৎ করেই এভাবে দৃশ্যের বাইরে নিয়ে এনে ফেলে দেন। আমাদের স্মৃতিতে এসে পড়ে টুইন টাওয়ারের ভেঙে পড়ার ক্লিপিংস।

সেপ্টেম্বর ১১; একটা দিন; আরও গভীরে সংখ্যা ও শব্দ। বিমূর্তায়নের দুই আঙ্গিক। ফলত সদা তর্কযোগ্য। যেমন আমার মাঝে মাঝেই মনে হয় যে আমার চোখের সংখ্যা দুই নয়, আমার চোখের সংখ্যা আমার দৃষ্টির সমান। সুতরাং অসংখ্য। কিন্তু ‘বিমূর্ত’ যখন বললে তখন তোমাকে কৈফিয়ত দিতে হবে, কোন বাস্তবতা মূর্ত হচ্ছে সেপ্টেম্বর ১১ এই উচ্চারণে?

বা কাদের বাস্তবতা?

‘সেপ্টেম্বর ১১’ এই আইকনিক উচ্চারণের পেছনে নড়াচড়া করছে ক্ষমতার জিভ। আর তার উল্টোদিকে সমীরা-র অন্য সেপ্টেম্বর ১১ আবিষ্কার সেই জিভের আল। ইঁটভাটার ভেতরে ঘটে চলা দিনগুলির প্রতিদিন ১১ই সেপ্টেম্বর। আর এখানেই 9/11 এর কিংবদন্তী হোঁচট খায়। যখন শিক্ষিকার কথামতো ছাত্রছাত্রীরা ১১ই সেপ্টেম্বরের নাশকতায় মৃতদের জন্য নীরবতা পালন করতে বলেন এবং বাচ্চারা পুরো ঘটনাটার গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয় তখন কোথাও গিয়ে ক্ষমতা নিজেই নিজের খোরাক হয়ে ওঠে।

এ’ বছর সেপ্টেম্বর ১১ যেন কবে?