নিজ মুখ বলি যদি থাকে কিছু

একদিন টোঙটার পাশে দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে চা খাবানে সিগারেট খাইতে লাগবে না ভাল আমি তোমারে ভাববো তুমি পাশে বসে সিগারেট টানতেছ মোর হয়ে অথচ আমিবা তোমারে রাখিয়া আসছি বারডেমে ৬১৯ নং রুমে, তার থাকি থেকে সব রুগিরা বাসায় যাবার আগেতে কান্দে কেন জিজ্ঞেস করিতে মন চাচ্ছে কেন জানালার কাছে টবে গাছ কোন ভয়ে বড় হইতে চাহে না স্বেচ্ছায় কেন দূর থাকি ফাঁকা অনেক অনেক হাইকোট দেখন যায় ক্রমাগত কেন চিলেগের পথ ধরি আকাশের পানে চলি গেছে রাজহাঁসগুলি যদিবা তাদেরে কেহ দেখে নাই মাতে নাই তাদের উল্লাসে রাতে রাতে তুমি শুয়ে আছ বিছানায় তুমি সিগারেট খাচ্ছো আমার পাশেই আমার হয়েই একসাথে প্রথমত কবে যেন কয়েছিলে আমি তোমারে দেখিনি কোনোদিন তবু আমি আছি পৃথিবীতে, তোমারে আমার ইচ্ছামতো ভাবি বাতাসে তোমার পায়ের ছাপখান আমি মুছিব না কোনোদিন যাতে কোথাও মসজিদ না পাইলে অগত্যা নমাজ পড়িতে পারি নৈঃশব্দের সেইখানে আমি আর তুমি একা একা থাকি একা একা না থাকার মতো পাশাপাশি যদি ফাস হয় কাপ ও কাপের শূন্যতার মতো আমিবা বিধবা তবু আমার স্বামি তো আছো লুকায়ে লুকায়ে ফলো করিছো তুমিবা বাতাসের ভেতর আয়নাগুলা সেট করি বসি আছো অসতর্ক দেখাশুনা কর কিংবা আমি এই রুমে শুয়ে শুয়ে রাতের পাহারাদার নহি তবু বাঁশি না বাজাই তুমি আয়নাগুলারে ছুড়ি দিচ্ছ এদিক সেদিক আমি মুখ লুকায়ে রাখছি বেড সিটে উপড়ানো চোখে যদি তোমার আয়নায় মোরে দেখি ফেলি, নিজ মুখ বলি যদি থাকে কিছু!

ভাবিছি লিখিব শব্দ ছাড়া বাক্য

ভাবিছি লিখিব শব্দ ছাড়া বাক্য, শব্দশূন্য বাক্য তোমার নিকটে গেলে তালে তুমি বুঝ কিনা এ আমিই যোগাযোগ করতিছি তোমার সহিত, বাস্তবের ছায়া সবকিছু, আমি খাঁটি বস্তু দেখি নাই তাহা রহে কোনবা গুহায়, লালনের কোন গানে আছে কহ এই কথা যেই গান গায় নাই ছেঁউড়িয়ার ফকির, একদিন থাকিবে না গান তখন কী গান গাবানে হাসরে, বাস-ট্রাক মালিকের ধর্মঘট ছাড়া কোথাও পাবে না ধর্মরে হঠাৎ, তখন কেমনে কাটাইবা গভীর রাত স্বামী ছাড়া, করল্লা ভাজির সাথে ডাল খাইয়ে আর সব নিরামিশ খাইতে খাইতে তুমি বলবা অলিক বস্তুরা অলিকের প্রতি ভরসা করিছে ক্যামবা, ঐদিকে সারারাত নির্ঘুম সাথীরা মামের বোতলে চাপকলের পানি ভরে নিচ্ছে খাঁটি বলে, তারা চলে যাবে গান না শুনে না-গান গেয়ে এই আসরের দশা দেখে চলে যাবে গাইবান্ধা নাটরের দিকে যে যেইখান থাকি আসছে সেইখানে ফিরি যাবে, এদিকে গ্রাম্য পোলাপান বাতাসে ফোটাবে বাবল নকল সাবানে যেই রাস্তা দিয়া বাড়ি ফিরছ তুমি যেইখানে তোমার বাড়ি যেইখানে কোনোদিন বাড়ি ছিলই না কোনোদিন সেইপথে যাইতে যাইতে পেয়ে যাবা একদম আসল আয়নার দোকান যে যার সত্যিকার বি¤¦রে দেখি সবিম্ময়ে তুমি ভাবছ আসল আয়নার খোঁজে আসি পথ হারাইলো যারা তাদের কারোর সাথেই তোমার আর দেখা হইলো না তুমি কারোরে কইতেই পারলা না তুমি পাইয়ে গেছ ততদিনে তুমি শব্দ ছাড়াই কথা কইতে শিখি গেছ আয়নাগুলা তোমারে তোমার ছহি বি¤¦রে চোখের হাত থাকি বাঁচায়ে বাঁচায়ে ধরি রাখে তোমার খাতিরে যেন দিগন্তের কাছাকাছি থাকে কোনো মীমাংসা ছাড়াই মেঘের কিনার দিয়া ভাসি ভাসি থাকে কিছুকাল কোনো নাম ছাড়া!

যে কেউ না

তুমি আসো বসো কাছে দুটো হাত রাখ কাধে যদি পায় ডানা খোয়া ভরসা দুর্দিনে এইখানে পথের কিনারে দুপুর বেলায় নামাজিরা আসি গোরস্থানে কবর দিতেছে মিরপুর দশ নম্বরের যারে সে নাই এখানে তার সব গল্প আজ রয়েছে হাজির কাফনের কাপড় জড়ানো না জায়েজ বঙ্কিম রঙিলা গল্প যেন তবু সাদা পাতা জুড়ি কাপড়ের রঙে লেখা সব হরফ যখন মিশিছে সাদার সহিত সাদা কে আসি দিবেনে বাধা মনে হয় বলি লেখ আরও লেখ কোনো পৃষ্ঠা নর ছাড়াই লিখি যাও যে কেউ না তার কর্ম স্থগিত করার পর কোনো উপদেশ আর কাজ করছে না এ কথা কেমনে বলি যদি একবার মনে হয় পেছনের পাতায় পাতায় কিবা লিখিছি কেমনে বলিব বলিব বলো সময় বসিছে যবে নিকা এই সব স্পেসে স্পেসে যে নাই হাজির তার খবর কেমনে বলি এই মিথ্যা গুজবের কোনো মানে নাই এইখানে জাগতিকতার শেষ প্রান্ত তাই এইখানে পাতি একখান আয়না যদিবা দেখিতে পাবানে রিলে করি সকল খবর জগতের বিখ্যাত কথক আজ তিরোহিত রহে আয়নার ভিতর চলিয়া গিয়া আমি বসি তার পাশে বসি বলি তোমার তোমার অনুভূতি বলো তোমার এ দীর্ঘ আয়নাবাসের অভিজ্ঞতা কহ বলি নাই মোর কাহিনি তাহারে মোর ময়ূরিবেশের কথা আর যত চাপসহ্য করে চলা বছর বছর কেটে যাওয়া অন্য আয়নার ভেতর আরশি রূপে তপস্যার কথা!