ধূসর তিতির

পান্থ-পরিযায়ী, এই অবসরে বলি, প্রতিটি মানুষের গোপন আহ্লাদে লালিত যে অন্ধকার তার কাছে বারবার থেমে যাওয়াই নিয়তি। প্রতীপ গতির সমস্ত, আদতে ভ্রান্তি। আগুনের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ বরফের গিরিখাতে পৌঁছে বিস্ময়ে কেঁপে উঠছ তুমি, এ কেবল এক ট্রমা, গমক্ষেতে পড়ে পাওয়া একলা নূপুর। প্রতিমুহূর্তে পিছু হঠছে তোমার পদক্ষেপ। বিমূর্ত ওই ছবিটি এতকাল যে বুকে রেখেছ বলে জানো, সে চলে যাচ্ছে মরচুয়ারিতে।

চারদিকে সতর্ক দৃষ্টি। চারদিকে মাতালের ছদ্মবেশে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষ অথচ মাতালমাত্রই সত্যবাদী। মুহূর্তযাপনে সমস্ত ভুলকে ফুলের পাপড়ি সমেত উড়িয়ে এই স্বীকারক্তি দিতে চাই দ্বিধাহীন আজ।
মনোলোকে, ছলনার সহস্র কুঠুরিতে যত আকাশ সমস্ত খুলে খুলে নেমে আসুক ঘাসে।
সায়াহ্নে আজ ধূসর হব অমোঘ তিতির।

মিথ্যে নয়

প্রশ্ন করো না-
নিরুচ্চারে বলো, আছি

বাগানের কোণে এই নগ্ন যাপন
দিনমান পাখি পাখি ডানার উড়াল
জেনো মিথ্যে নয় এইসব হাহাকার
আমাদের ছড়িয়ে পড়বার বেলায়
সংঘাত যখন দশদিগন্তে
মুখের চেনা আদল তখনও রাখছে চুমুর মায়া
মনের মানচিত্র থিতু হচ্ছে অনির্ণীত কোনো বন্দরে

পরাগায়নের বেলা এলে ফিরে যাবে ঠিক আদিম শরীর