নীল পতাকার ঈশ্বর

নগ্নতার সাক্ষী মেনে চারিদিকেই উড়ছে পতাকা
দোকানে দোকানে রাখা হয়েছে মানবিকতা আর ভরপেট কুকুরেরা হয়ে উঠেছে সজাগ
সামাজিক প্রাণী অথবা রাষ্ট্রীয় বোধ
কোনো দিকেই ভারী হয়ে উঠে না হৃদয়
কেবল মিছিলের শব্দ ঘুম ভাঙিয়ে দেয় আর পথচারীর আক্ষেপ
পুরোনো ছায়ার মতোই হয়ে উঠে দুর্লভ

প্রাচীরের এ পারে চলে এসেছি, আচমকা
চারিদিকের অনুর্বর জমিতে গাছ লাগিয়ে বসে আছি অপেক্ষায়
হঠাৎ জেগে উঠা মৃত্যু-চিন্তা অথবা কামনার পর
সমকামিতা কিংবা ধর্ষণ আমাদের থেকে দূরে সরে যায় না আর
সব কিছু পুনরায় দ্রুত সরে যায় পেছনে
সমস্ত আগামীকে মনে হয় গর্ভ-দোষ
নিজেরই ভেতরে জাপটে ধরি নিজেকে
আর ব্যথায় কেপে উঠে বুক

ঘরে থেকে বেরুতে পারি না বলেই আকাশের ব্যবধান কমেছে অনেক
খাদ্য কিংবা হৃদয়ের শোক দুই-ই পড়ে থাকে টেবিলে রোজ
ভুল করে ফিরে এলে বাতাস, তাকে বলি
আমিই সেই নষ্ট শিশু, যার মা তাকে হত্যা করতে গিয়ে করেছিল করুণা
কিংবা আমিই সেই নোংরা বালক, সমাজ যাকে আটকে রেখেছিল কবরে
কিংবা আমিই সেই নষ্ট মানুষ
যার ত্বকে অমানবিক দুর্গন্ধ আর কুকুরের নির্লজ্জতা

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছি প্রতিদিন অথচ দামী গাড়িরা হয়ে উঠছে শক্তিশালী
হৃদয়, ঘুম অথবা সীমানায়
চিরকালীন এক নারীর কল্পনা করা ছাড়া মানুষ কীভাবে পায় পূর্ণতা
অথচ আমার জন্মদাতাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হলো না কেন
এই প্রশ্ন এখন ততটাই অবাঞ্ছিত, যেমন মৈথুনের পর বীর্য-শোক গড়িয়ে যায় একপাশে
শীতকাল আসার পূর্বেই আমি ত্বক বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠি
বাসি মাংস সামনে নিয়ে বসে থাকা দোকানিকে মনে হয় ঈশ্বর
কিংবা পথের পাশে শুয়ে থাকা বেঢপ পৌঢ়া রমনীকে রূপসী
একটি পিয়ন মারা গেলে আমার অসহায়তা তাই ঠিাকানাহীন চিঠির ন্যায় নির্বিকার

দোহায় দিয়ে ফিরে ফিরে আসি
দোহায় দিয়েই সব মোড় পেরিয়ে এসে মূল রাস্তায় দাঁড়াই
আত্মহত্যা, তুমি তখনও ঘুমিয়ে থাকো পকেট, ব্যাগ অথবা খাতার পাতায়
মহোত্তর সংজ্ঞা আবারও ভুলে যাই
প্রিয়তমা, তোমাকে উদ্দেশ্য করে কিছুই বলতে চাই না আর
অন্ধের মতো পথ চলতে চলতে আমার কামনা
হয়ে উঠেছে আনাড়ি

মাথা থেকে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে একটি একটি নাম
‘খুনী’অথবা ‘ভাল মানুষ’, এইভাবে ভাবতে পারা হয়ে উঠে ভয়ংকর
ঋতু বদলে গেলে হৃদয় কি পারে ফিরে পেতে উজ্জ্বল ত্বক
সমস্ত প্রশ্নই বিপরীত হয়ে উঠছে দ্রুত
সমস্ত সত্বাই ডুবে যাচ্ছে জলে
সাঁতার দিয়ে এগিয়ে যাবার মানে এই, জল থেকে ফিরে এসে আমি
জলেই ডুবে গেলাম আবার

ওহ প্রতিপালক, তোমার জন্য মুদ্রা নিক্ষেপ করেছি শূন্যে
‘মস্তক’ অথবা ‘পুচ্ছ’ এ দিয়েই নির্ধারিত হবে পরকাল
অথচ তোমাকে না দেখার জন্য সমস্ত শৈশব নিজেকে রেখেছিলাম অন্ধ
কিন্তু, সূর্যময় সকাল কিংবা আলোকিত রাত আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল পথ
তারপর আর ফেরা হয়নি আকাশে
মাটির গন্ধ এতটাই মিশেছে শিরা-উপশিরায়
চাইলেও ফেরাতে পারব না আর সেই দাগহীন মায়াবী শরীর
তাই তোমাকে নির্ধারণের পূর্বে ফাঁসিতে ঝোলালাম, আর নিজেকে বললাম
আমিই সেই নষ্ট বালক
যে ময়লা-আবর্জনা আর নগ্নতার ভেতর উড়িয়েছে সুবিশাল নীল-পতাকা

বিধাতার

আমি ও মুদ্রালোভী প্রতিপালক

প্রতিটি অদ্ভুত স্বপ্ন আমাকে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যায় সকালের দিকে
যা কিনা অনাহুতের মতো সামনে এসে দাঁড়ায়, আর আমি
শিশুর মতো আয়নার সামনে অভিভূত, নির্বাক
এমন তো প্রায়শই ঘটে
ঘুম ভেঙে যায়, আর রাত দীর্ঘ হতে হতে বাড়িয়ে তোলে মুদ্রার লোভ
এও কি স্বপ্ন নয় এক, যা আমি দেখে চলেছি জীবনের মতোই
হয়ত যুক্তির কাছে হেরে যাব শেষ অব্দি
এবং খাচা বন্দি পাখির মতো হয়ে পড়ব অসহায়, উত্তরহীন
আলো, যা কিনা নির্দিষ্ট পরিক্রমা শেষে ফিরে ফিরে আসে এবং উদার হয়
তবে কেন রাতের ব্যাপ্তি নিয়ে কথা বলব না
কেন মহিমান্বিত হবে না সমস্ত অন্ধকার
যা আমাদের ঘুম দেয়, আর লুকিয়ে রাখে অন্ধকার

প্রকৃতির নিকট আমাদের অস্তিত্ব সবচেয়ে কুৎসিত এবং সুন্দর
আমি মূক অভিনেতার সামনে বসে থাকি
একটি নাটকের সমস্ত পাঠ মুখস্থ করতে করতে হেসে উঠি আনমনে
যেনবা প্রিয়তমা তার প্রিয়কে সুখি করে তুলেছে হঠাৎ
একাকী এগিয়ে এসো, জিজ্ঞেস করো, আমি বলব
বিছানার সাথে সন্ধি করে করে ক্লান্ত, এবার মাটির স্পর্শ প্রয়োজন
এত অসহ্য হয়ে উঠেছে এবারের ঋতু
প্রকৃত তুষারপাতের চেয়ে সুন্দর কিছুই দেখা যায় না সচরাচর
সুতোর প্রাপ্ত ধরে এগিয়ে যাবার মানে একটাই
আমার গাঁথুনি ভেঙে যাচ্ছে অধিক, নির্মম

এই যে রাত আর ক্ষীণ হয়ে আসা হৃদয়ের স্পন্দন
রক্তের স্বাদ কম বেশি সব জিভ-ই জেনেছে কারণ-অকারণ
ফলত, ঈশ্বর অথবা শয়তান যে কোনো এক পক্ষে আমাদের পতাকা উড়ুক
এই তবে সত্যিকার স্বাধীনতা, যা কিনা বোধ দিয়ে পেলাম আবার বোধেই বিসর্জিত
এত প্রশস্ত দেয়ালের এপাশ থেকে শোনা যায় না
এত মোটা পর্দার আড়াল ভেদ করে স্পষ্ট দেখা যায় না মানুষের মুখ
ভিন্ন সূর্যের বন্দনায় যদি পুনরায় মারা যায় গাছ
তবে ঘর থেকে বেরিয়ে ঘরেই ফিরে আসতে হবে পুনরায়
ঋতু ও ঋণ আমাদের মজ্জার মাঝে গেঁথে রয়েছে একসাথে
যে কোনো অজুহাত তাই বিষাক্ত সাপের মতো ফণা মেলে উঠে বারবার

মুগ্ধ হবার আগে পনুরায় ভেবে নিই ম্যাজিকের নীতিমালা
সার্কাস-তাবু ও মঞ্চের পার্থক্য নিরুপণ করে দেয় জোকারের হাসি
ভুল ভেঙে যাবার পর মানুষ সবসময়-ই নিরীহ
আর পুনরায় ভুল করার পর পূর্বের চেয়ে হিংস্র
এসব নিজেরই অন্তরালে ঘটে
যেমন প্রতিনিয়ত শরীরের অগোচরে ঘটে যায় শরীরের অবমাননা
আহা, প্রাণের বিপরীতে আমার সমস্ত সুন্দর
লোকচক্ষু দিয়ে বাইরে তাকিয়ো না
প্রতিটি মেঘখন্ড অভিশাপ বহন করে এগিয়ে চলেছে আগুনের নেশায়
আর শহরে যে বৃষ্টিপাত নেমে আসে কোনো কোনো সন্ধ্যায়
আমার সব ঘর ভিজে যায় জল ও নেশায়
সিক্ত মেঝেয় সাবধানে পা ফেলে এগিয়ে যাই মায়ায়
এমন তো হতে পারত
কেউ আসবে জেনে আলো জ্বালাতে চাইলাম অথচ বাতাস বয়ে নিয়ে এলো ভয়

এভাবে কতবার নিজেকে শাসন করে বলা যায়, ‘শান্ত হও, লুকিয়ে রাখো ক্ষয়’
ঘুমের উছিলায় যারা ফিরে আসে, ফিরে যায়
আমি বরং ছায়া গুনে রাখি, হিসেব করে রাখি ভেতর-বাহির আনাগোনা
অবশেষে দীর্ঘ পথের উল্টো দিকে হাঁটা শুরু হয়
আর চারপাশে গাঢ় বাতাবী নেবুর ঘ্রাণ
একটু একটু পতনে নিক্ষেপিত হতে থাকে শরীরের ভার
নিজেরই ভুলে যাওয়া কন্ঠস্বর
যত চাবুকই নেমে আসুক না কেন বিছানায়
সমস্ত ছায়া ও নিঃশব্দের মাঝে কেউ না থাকলেও জানি
নিভে যাওয়া আলো আর জাপটে ধরা আঁধারের সীমানায়
এমন অদ্ভুত স্বপ্ন আমি ছাড়া কেউ দেখে না আর