হাইব্রিড কবিতার চাষ হয় হাউজিংয়ের প্লটে
হাউজিংয়ের বিজ্ঞাপনে ভেসে ওঠে
টলটলে লেক, ফুলের বাগান, খেলার মাঠ
তাল সুপারির সারি, ইঞ্চিমাপা হাইরাইজ ভবন
দাগ খতিয়ান পর্চা খুঁজে দেখা যায় রাজধানীর নর্দমার স্তুপ।

আমাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত কবি সাহিত্য সভায় প্রশ্ন রেখেছিলেন
ছেলেদের- তোমরা বলতে পারো গাছের পাতার রঙ কেমন
ক্ষুদে লেখকেরা সোৎসাহে বলেছিল-সবুজ, সবুজ
কবি গম্ভির হয়ে গেলেন
কচি পাতার রঙ কি সবুজ, কাঁঠাল আর কলাপাতার রঙ কি এক
কিংবা যে পাতারা বুড়ো হয়ে ঝরে যায়...
(এই কিশোরেরা দেখেনি পাতার রূপান্তর)

তোমরা কি বলতে পারো গজার আর শোলমাছের পার্থক্যটা কি?
কিংবা শিং আর মাগুর মাছের-
সবার উল্লসিত মুখগুলো মনে হয় ধর থেকে আলাদা হয়ে গেছে
চেহারা ঢেকে দিয়েছে কাল মেঘে
(লোকটার বাসায় বোধহয় এ্যকুরিয়াম নেই)
কবি এবার মৃদু হাসলেন
মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় এ তোমাদের সবার জানা।
বৃষ্টির শব্দ কেমন বলোতো দেখি
একজন হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বলে দিল - রিমঝিম
আরেকজন ক্লাসের উৎসাহী ছাত্রের মতো বলল - টাপুর-টুপুর
কবি একটু কাশলেন - এতো সবার জানা
চশমা পরা আরেকজন ক্ষুদে কবি বলল - টুপটাপ

কবি গম্ভীর হলেন
পাতার উপর যখন বৃষ্টি পড়ে কিংবা কাশের বনে...
খালে আর পুকুরে ডুব দিয়ে তোমরা বৃষ্টির বাজনা শুনেছ?
এবার কারও চোখও ওঠেনা কবির পানে
(লোকটা পাগল নাকি)
কবি চশমাটা একটু ঠিক করলেন
আচ্ছা দালানে আর টিনের চালে বৃষ্টি কি একরকম বাজে
তোমারা দুকান চেপে কি কখনো বৃষ্টির গান শুনেছ?
ক্ষুদে লেখকের দল অর্ধেকও হলরুমে নেই
কবির চশমার পাওয়ারে হয়তো তাদের চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েনি।

আমি উপস্থাপক শঙ্কিত হই
এরপর না জানি আমাকেই প্রশ্ন করে।
আমি গাঁয়ের ছেলে, এ আমার বেশ জানা
শুধু হাইব্রিডের ব্যাপার স্যাপারগুলো বুঝতে পারিনি এখনো
এতকাল শহরে থেকে এখনো শিখলাম না
হাইব্রিড কবিতার চাষ।