হাঁসুলিবাঁক

কোনভাবেই ছেলেমেয়েদের আমরা বিরক্ত করতে পারি না
মধুর বিধবাদেরও আমরা কেন বিরক্ত করবো?
রোদের শেষে যে আদরে মাটিতে ছায়া পড়ে
সেভাবে আমরা কোন হাত কিছুতে দিতে পারি না।

যে গাছ নিজে বাড়ে সে গাছ নিজে কাটবে কে
কে শাসন করবে তার অবাক ঝরি আর হিমসার
তুমি পারো না কোন লাল রঙ বা সবুজ ফল নিতে
যদি না ফেরাতে পারো মাপে, আড়ে, বহরে, টানায়।

বরং এই লোভের কষি সবাই কিছু কষতে পারে
সোনাদানাও অলস ক’রে এক একবার রাখতে হয়
এক একবার জলের কথা ভাবাও এক কাজের কাজ
খারাপটা কী যদি আলোর কথা সবাই মিলে জানে!

প্রভূত জানা আর তেমন ঘুম আমরা কতটুকু জেনেছি
ছুটির বনের লাইনওতো আমরা ধ’রে রাখতে পারিনি
শুধুই হাঁসুলিবাঁক এক একবার ফেরের মতো ডাকে
কি হ’ল কি হ’ল বলে আর সে ডাক ফুরিয়ে যায়।


উচ্চাকাঙ্খা

দু’ একজন কি অনেকেরই দু’ একটা উচ্চাকাঙ্খা থাকে
মাঝে মধ্যে কি সবুর ক্ষণে এই সব উচ্চাকাঙ্খা হয়
এ সবই জন ও জীবনের নুন, চিনি, অ্যামিনো অ্যাসিড
তখনো, এখনো জীবন ব্যবহৃত এই নিরন্তরতায়।

লাভ অতিলাভের দিকে ওরা বর্দ্ধিত হারে যায় ও যাবে
গুচ্ছ বাঁধা ভাব, ভাবনা, আবিষ্কার ওদের মধ্যে থাকেই
এক বাজেটে সারা হিন্দুতীর্থ সেরে আসার আকাঙ্খা হয়
নদীর নব্যতা খোঁজে ওই গয়নার নৌকোগুলো কোথায়!

মিথ্যে কথায় যখন বৃষ্টি তখন জলাধার মাত্রই মিথ্যে
তবু সাধের গেরো পড়েছে, সুখের গেরো পড়ছে কতো
মাদারী আর সহকারীর হাত জমছে সোজা মানুষের সামনে
জনতার গভীর থেকে তবু এক হাত উঁচু হচ্ছে একজন।

কতো সব রদ্দি জমি আর কে বলছে আমাদের প্রাঙ্গণ
হয়তো মন ভরার কথা জানলে মন একবার ভরেই
আঁচড়ে কি ছোপ মেরে একটা ঠিক দাগের মালিক হয়
ন্যাড়া ছাঁদ টপকে যে যায় সে কোথায় কোথায় যায়!

এই হ’ল উচ্চাকাঙ্খা -- আমাদের ছয় ঋতু আর বর্ষগাঁট
এসো দু’ হাত পায়ে মানুষ -- আমাদের সুখের শরীরগুলি
উদলা-আলগা বাবুমশাই ফের একবার উচ্চাকাঙ্খায় এসো
এ জীবন যায় তার নাদা বাজিয়ে, পাছা বাজিয়ে যায়।


এ এমন দিন

ফিরে আসার কোন শেষ নেই
ঘরেই থাকো আর আমবাগানে
অন্নজলে কিম্বা হাসপাতালে থাকো
পায়েই হাঁটো কিম্বা চালাও সখের গাড়ী
যদি রসিক হ’য়ে থাকো কোনভাবে
যদি বা অলস, লম্পটের ভাবনা ভাবো
হেরাফেরী চাও কি ঝামেলা থেকে ফেরো
যতই ডাক্তার হও বা ঘরের ফেলনা
বেদনাদায়ক কিম্বা বিনোদক
এ এমন দিন
ফিরতে পারবেনা ঘরে ফেরার মতো।


কেন রেল ঝমাঝম

সর্বদাই বুঝতে পারে যদি বুঝতে দাও
ভালোই বোঝানো যায় সব কথা
মুখ্য কথাগুলি
শব্দের মিয়নো, মোড়া কোণ যদি ভ’রে দাও
ভারী ক’রে দাও।

এখানে সবাই বুঝতে চায়
আর এক জন্মের থেকে হঠাৎ জিজ্ঞাসা মনে পড়ে
পাহাড়ী সন্ধ্যায়।
শান্ত মনে এ কথাটা বোঝাতেই পারো
সংখ্যা দিয়ে, রং দিয়ে, রেখাগুলো চাপিয়ে চাপিয়ে।
কে না বুঝতে পারে
কে না বোঝে এক ফাঁকে চোখের ইশারা?

এই সেই কলাপাতা
এই শীত
এই গরমভাত
তোমার হাতের পাঁচ একবার বাজিয়ে তুমি বোঝাতেও পারো
কেন রেল ঝমাঝম লিচু বাগানে!


বিকল্প

তবে এখন বন্ধ হ’ল তুলনা খোঁজা
ওই আবাসনের মেয়েটিকেও খুঁজিনা
অতুলনীয়া ব’লে।
বুদ্ধিতে পরিষ্কার করা মুখ
ভালো লিভার তো ভালো গড়ন
গায়ের ওপর মানিয়ে মানিয়ে রাখে
বাংলা-শাড়ী।
সকলেরই চিরদিন ভালো লাগে এই সব
অবশ, অবস্থিত, অনাবশ্যক মানুষেরও
একদিন ভাল লাগে।

এ রাজ্যে তাই খুঁজি সমান একধারা প্রসার
লোকজনের কাছে ও বিষয়বস্তু ধ’রে
লেখ্যভাষা ও চলিত অনুমানে।
এখন কোন দালানে উঠে যেতে চাই না আর
সন্ধেবেলায় ফিরে নামবো না
শুনবো সরল গলায় কেউ ডেকে
কিছু কিছু কথা বলছে।

এখন এক লাইন জলে
নানা জলের এক আপন মৌরলা
আমার এক উপমার জন্য লাগে।


সমূহ আনন্দ

সমূহ আনন্দ ক’রে যাও
নির্দিষ্ট আনন্দ কই আর
একটা তিল তুলে দিলে গালে
আরেব্বাস গালের বাহার।

মরা সত্যে রচিত নিয়ম
ভেঙে আনো অন্যান্য সরোদ
কে বলে নির্দিষ্ট নীতি নিয়ে
গোলাকার হ’য়ে পড়ে রোদ।

কে ফুটেছে, তিনটে শালিখ?
ফুটেছে তো স্থানীয় পলাশ
রচিত নিয়ম ভেঙে যেন
এলো শারদীয় চৈত্রমাস।

ব্যাবস্থা এমন হ’ক যাতে
দিন হয় তেরে কেটে দিন
শুধু এক-কলমা সরলতা
ভ’রে গিয়ে ফুরিয়ে রঙিন।

তবে মৎস-জাল-শিল্প থেকে
উলসে পড়ো ম্লান মহামাস
পাথরে উর্বূট কেন ব’সে
স্থানে স্থানে সহায়ক ঘাস।


আমাদের ধান

আমাদের ধান চালই প্রধান
আর প্রধান আমাদের শাক-সবজি
আমাদের যে খাইয়ে দিলে খাওয়া
এ কথাটা মনে আছে।
কারো কোনো টাকাই প্রতিমাসের নয়
আমরা দিন যাই আর ব্যবস্থা করি
আমরা কি ভাবি এই খাও এই ঘুমাও
খালি জায়গাগুলোর কথা ভাবি;
ভাবি যে কী দিয়ে কী হবে
কোথায় প্রসব ক’রবে বউ।

কত রকম ভাবে আসছে বাতাস
এই মেঘ কি মেঘের পরে মেঘ
আমাদের যে পাতের ভাতই প্রধান
আর প্রধান আমাদের খাবার জল
খড়ের জায়গা, হাঁস, মুরগী--
মনে প’ড়ছে সামনে তাকিয়ে
কেবল এক পয়সা, কেবল দু’পয়সার কথা।