আমাদের বৃষ্টি শক্ত হয়
কথা বলি বীজ ভিজিয়ে তোলার বাইরে
ভাষা জিরোনর দিকে
তোমাদের দিকে বেড়ে ওঠা প্রতিদিন আমি বেরোতে চাইছি
বলতে চাইছি এই থাকাটা একটা বিজ্ঞাপন বিরতি হোক
এই প্রাত্যহিকতায় আঁতকে ওঠা শহর
এখন আর পালক নেই
ঘাসের ওপর গড়িয়ে যাচ্ছে ধাতব বল
আমি তোমার সঙ্গে বলছি
তোমার নিটোল সন্ধে আমি না বুঝে বিষিয়ে দিয়েছি
অথচ তুমি শুনছো চুপ
তোমার গানগুলো ভেঙে দিচ্ছি
সন্ধের শরীরে বেড়ে উঠেছে ভাঙা লং প্লে
সুরের একটা ভ্রান্ত খোল আমার ভিতিরে ঢুকে এসেছে
কিছু নোটপত্তর তোমার সঙ্গে তবু ছড়িয়ে থাকছে নৈঃশব্দ্য
আদতে কথা মানে কি প্রজন্ম? নিজের সময়ের দিকে আগল খুলে দেওয়া
বিকেল বন্ধুর বাড়ি শিরদাঁড়ায় ম্লান হয়ে থাকা কোনও আলগা রসিকতা?
আমি বুঝিনা কেন তোমার সময়ের দিকে একটা বই ভেসে থাকে
আর আমাদের বাড়ি ফেরাগুলো ঘিরে থাকা ভেজা পাখি
পরপর না জোড়া রাস্তা অযথা যুক্তাক্ষরজ্ঞান
ভায়োলেন্সগাছ ভায়োলেন্স পান্থশালা

তোমার শোনার কথা মনে করি
পরপর ফিসফিস ভাবি পুরনো কাগজ ছিঁড়ে
পেজমার্ক করে রাখা কোনও সামাজিক বই
তার সামনে তোমার মাথা নাড়া
পরপর তৈরি হওয়া স্বরলিপির বাক্স
বাতিল সুরের দিকে ভেঙে আসা দিন
পুরনো হলুদ পাতা হাতে নিয়ে তুমি কী ভাবতে?

এভাবেই লাউসবুজের মধ্যে দিয়ে এসেছি
উপনীত শব্দটাকে পুরনো সংস্কার থেকে দূরে রেখে
আনত গানের হারানো ইপি রেকর্ড বা দোতারা সমেত
                                         ভিক্ষাজীবি
এই দুপুরই তো সত্তা বারবার নম্র নির্মাণের পথে ফেলেছে শীত
নস্যি চাদর গায়ে দেওয়া বাবার জন্য বিকেল ৩টের চায়ে
গীতা দত্ত কতটুকু উদ্বেলতা?

আর খুঁজিনা। ভিন দেশজ গ্রীষ্মহেতু খসে গেছে যাবতীয় শীতকাঁটা
শুধু সামাজিকতার লোভ একটা ফ্লুরোসেন্ট ফিতে রাখে
রাতে বাড়ি ফেরায় কে দেখে চলার কথা ফেলে রাখত আলগোছে
এই বেরনো এই নিঃশব্দ ছুরি চলা ধৈর্য তো আসলে আনাজপাতি
বর্ষা এলে মেলে দেবে বছর দশেক শ্বাসাঘাত
স্বর জোড়বার আগেকার বর্ণ বা লিপি
তোমার ক্যাসেটের ফিতের রঙের বিকেল এই আকারহীন ছাতে

আমি মাথা তুলি, তোমার সঙ্গেই তো সহজে কথা বলা যায়
এই যে ভারি সুর চুপ করে সান্নিধ্যযাপন কোনও বর্ষার সন্ধেবেলা
আমি তো তোমাকে ফিরিয়েই দিয়েছি
অপেক্ষা করেছি কখন তুমি ঘর থেকে বেরোবে
তুমি কি বুঝেছিলে বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়েছে
বাতিল শব্দটার ওপর ঘষে দিয়েছিলে আব্বাসুদ্দিন আহমেদ

মনে হয় বেরিয়ে আসাই শ্রেয়
একটা করে মাংসপিণ্ড স্পর্শ করি আর
ঠিকরে আসার রাস্তাটা হারিয়ে যায়
এখানেই চোরাপথ ধর্মে যায়
তুমি বলে উঠতে হয়ত
তোমার মাথায় একটা বীজক্ষেত কাজ করত
বাড়ি ফেরার পথে একফালি কর্ষণ যোগ্যতা
তারপরেই তো জট ছিল তাইনা?
তাহলে ওভাবে মাথা নাড়তে কেন?
কেন আবহাওয়ার খবর এত মন দিয়ে শুনতে?
ক্যালেন্ডারে শতক বদলানো সহজ বলো
বিশেষত যেসব বছরের পাতায় শ্বাপদের ছবি থাকে?

অথচ আমার ঘুমে শুধু একটা ভারি যন্ত্র
চিন্তাশক্তির পিছনে একটা শুকনো লাঠি
আয়নাওলা বিরাট ঘর
দূর থেকে কথা ঝাপসা একটা ভাষা
কোঁকড়ানো চুলে আঙুল খেলার প্রজাপতি

এরপর তো বইহীনতা
সপ্তাহ দিয়ে ঠেসে রাখা একটা সুড়ঙ্গ
নিজেকে ছাড়ছি অথচ ফিরে আসছি
শুকনো দৃষ্টি দিয়ে ভরা থলি হাতে - কোথাও সময় নেই কোনও
আমার ক্রমাগত বেশি কাচে ঢেকে যাওয়া
ঘড়িতে জল দেখছি
রক্তে একধরণের বেতের ঘুনি
খিচুড়ির হলুদে মিশে থাকছে জাগরণ গল্পমালা
আমি কি জানিনা চিন্তাশীলতার পিছনে কোথায় সুর?

কিন্তু তোমার সঙ্গে কথার সময়
শুধু ময়লাটে সাদা জামায় অভ্যস্ত মুখ
ভাঙা ক্ষয় না কর্ষণ বুঝিনা
দীর্ঘ একটা দুপুরস্তম্ভ এই আস্ত মাঠ
কাদা লেপটানো ফুটবলের গন্ধে তৈরি হওয়া বুঁদ একটাই দিকে যায়
তোমার দাগিয়ে পড়া কিছু বই
যা তোমায় চালাক হতে দিলনা

ভূগোল তো আসলে তোমার পাখি বা খাঁচার প্রচলন
দেবব্রত বিশ্বাস চৈত্রপবন কিন্তু শব্দহীন সাদা
কিছু সমবয়সীর ঘরের কংক্রিট অথবা নিবিড়তায়
স্পন্দিত হচ্ছে অন্ধকার সুন্দরবন
সন্ধের মুখে কেউ খবর দিল বুঝি নৌকা নিয়ে কারা ফেরেনি
এই ধুলোর গাছ এই কাচের কাটা ডালপালায় নির্মিত
অসুখহীনতায় তুমি কি গ্রাম খালি করা দেখেছিলে?

কয়েকটা ঘরকে বাসস্থান বলে বুঝি রক্তের দাগ দেখে – সমসময় কী?
আমি দেখি কয়েকটা বাক্সের মধ্যে নির্মিয়মান ভাষা
কয়েকটা বিধেয়হীন ক্রিয়াপদ তীক্ষ্ণ মাত্রায় আটকানো
শেষ আর্তনাদ থামার পর গলিতে তখনও গুঞ্জণ
একেই কি থমথমে বলে? কোথাও সেতু ভাঙেনি
তাই সুর অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ
নিরবিচ্ছিন্ন আমাদের বিশেষণ প্রবণতা
আমার ভাষা কি সমবয়সী পুরুষটির সন্তানের দিকে চেয়ে
চোয়াল শক্ত হওয়া ধরতে পারে?

সন্ধান ছিল চৌপর্ণ এলাচ পাতার দীর্ঘ বৃষ্টির জাঙাল পেরিয়ে
সদ্য গজানো বাঁশের তেড় পায়ে ছড়ে যাওয়া হাতে লাল ছোপ
তবু একধরণের বিশ্বাস – হাতে পায়ে মাখা দুপুর আমি তোমাকে দিতে চেয়েছি
আমি শিশু, বালক, আমি কিশোর অব্দি – বহুদিন না দেখার পর
যেভাবে প্রথম বীর্যপতনের কথা অপ্রাসঙ্গিকভাবে
তখনই তো শুরু বধিরপর্ব
শর্টওয়েভ তখন শুধুই প্রাচীর পতনের কথা বলেনা
আমরা পেরিয়ে আসছিলাম লালচে প্রদেশ
আমি পেরিয়ে আসছিলাম তোমার নির্মিত চৌখুপ্পি
দারুচিনির গন্ধে ভরে ছিল সমস্ত রঙ
এলাচ রঙের বাড়ি ফেরাগুলোয় এখন আর গন্ধ নেই
শুধুমাত্র অনেক মানুষের নিশ্বাস নেবার জায়গাকেই
নিরাপদ মনে হয়, ছটফট করে উঠি নৈঃশব্দ্যের চেয়ে
কম ট্র্যাজিক কিছু পাবার জন্য
ভিডিওর নারী শরীরের চেয়ে কিছু বেশি
দাঁতে দাঁত হস্ত মৈথুনের চেয়ে
                                                                                 এরপর লিখব ভাষার একটা নৈশঃব্দ্য থাকা দরকার
আর এখানেই মনে হয় ব্যাকরণ আসলে একটা দরকারি সমাধিক্ষেত্র

প্রতিনিয়ত কথা আর এই অচেনা বর্ণমালা
ধাতুজনিত ক্ষয় লেগে এই যে আকারহীনতা
                                                                                 সর্বব্যাপ্ত আচ্ছাদন
মাথার পাশেই পড়ে রয়েছে শিমূল
দরজার সামনে গজিয়ে উঠছে ঘাস তবু কেউ মাড়াচ্ছিনা
একটানা দৃশ্য নির্মাণের মধ্যে একটা অনুজ্জ্বল রঙের পাড়া
অথচ আমরা শুধু ভারি জুতোয় পিষে দিচ্ছি সর্বনাম
শুধু বিশেষ্য আর বিশেষণে ভরে থাকছে বিনিময়
এটাও কি তোমার ছিল?
কোথাও কি দমকা একটা ডিসেম্বর এসেছিল
পাথুরে রাস্তার পাশে একটা সাইকেল
হারিয়ে যাচ্ছে তীব্র ইয়েলো অকারের মধ্যে
অথচ তাকে কিছুতেই ফেরানো যাচ্ছেনা প্রিয় পাতার দেশে

পরিচিত গানগুলো কি আসলে সংস্কার?
কেন তাহলে পিচবোর্ডে ঢেকে যাচ্ছে শ্রবণপথ?
আর কেউ কি হাঁটবে না শিশির ও নভেমবর ক্রমাগত
স্পন্দন বলবে মিথ্যে
                                         পাথরের গায়ে
আমার মস্তিষ্ক
ফ্যাকাশে হাতের মাংস কাচে চাপা সাদা দুপুর!

তোমার সামনে চৈত্র ছিল দলবদ্ধ ভক্তি
বা কারুর আপনমনে সন্ন্যাস নেওয়া
                                                                                 দুপুর একটা পর্দাঢাকা গাড়ি
গরম আটকাতে সব জানলা বন্ধ
কেউ কোথাও বালকের সামনে নিজেকে উন্মুক্ত করছে
বালক তার স্ত্রী লিঙ্গ স্পর্শ করছে
বালকমাথা তার সম্পূর্ণ দেহ দেখতে চাইছে কেন কোনও ব্যাখ্যা পাচ্ছেনা
ধু ধু মার্চ মাস সুরের ভিতরে আসছে একটানা রেওয়াজ
একটা কাচের ঘর স্নান ফেরত মায়ের বয়সী স্ত্রীশরীরের সামনে
ফের বালক, ফের তার বাতাসকে ভয় পাওয়ানো চোখহীন মুখোশ
এই আস্ত প্লাইউড দুপুর

পরতে পরতে ফাঁকা খেত...
শেষবারের মত কেটে নেওয়া
মাথা তুলি
আর কোনও বড় দৃশ্য নেই
চকিত শব্দের ঘোরে পায়রা উড়ে যাওয়া নেই
পরপর কংক্রিট পড়ছে শিশিরে
পরপর ইঁট এই বৃষ্টির ওপর