জার্নির এই সংখ্যার ‘ফিরে পড়া গদ্য’-এ প্রাক-ব্রিটিশ যুগের, আঠার শতকের কয়েকটি চিঠি তুলে আনছি। এই চিঠিগুলি আমি নিয়েছি ১৯৮৭-তে ‘প্যাপিরাস’ থেকে প্রকাশিত দেবেশ রায়ের ‘আঠার শতকের বাংলা গদ্য’ বইটি থেকে। চিঠিগুলি পড়ার আগে কিছু জিনিস আমাদের একটু প’ড়ে নিতে হবে। প্রথমে দেখব ‘প্রতিক্ষণ’ পাক্ষিক পত্রিকার ২ জুলাই ১৯৮৪ সংখ্যায় কবি অরুণ মিত্রের লেখা এই প্রতিবেদনটি।

‘‘প্যারিসের বিবলিওথেক ন্যাশিওনেল-এ বাঙলা ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কিত যে-সমস্ত পাণ্ডলিপি আছে তাদের বিবরণ দিয়ে এক তালিকা … ‘ব্যুলত্যাঁ দ্য ফ্রাসেঁজ দেক্সত্রেম-অরিয়ঁ’ (Bulletin de Francaise d Extreme-Orient)-এর ১২তম খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে (১৯৮৩)। তালিকায় ৩৩টি পাণ্ডুলিপি-সংগ্রহের উল্লেখ আছে। এগুলির মধ্যে শুধু একটি বাংলা অক্ষরে লেখা উর্দু। আর সবগুলি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। …এ এক বিশেষ আভিধানিক সংগ্রহ। এর চাইতে গুরুত্বপূর্ণ অভিধান-পাণ্ডুলিপি একাধিক রয়েছে। যেগুলিতে আছে, ফরাসী-বাংলা শব্দকোষ, ফরাসী-ইংরেজী-পর্তুগীজ- ফার্সী-উর্দু-বাংলা শব্দকোষ। এবং বাংলা-ফরাসী-পর্তুগীজ শব্দকোষ। …সর্বপ্রথম রচনা 730 নং পাণ্ডুলিপি (১৭৮১ খ্রীঃ)। বাংলা ভাষা সম্পর্কিত এক দ্বিভাষিক অভিধান যে অত আগে রচিত হয়েছিল তা ভাবলে অবাক লাগে। এইসব পত্রগুচ্ছ ও অভিধান সংকলনের নায়ক হলেন ওগুস্ত্যাঁ ওসাঁ। …তাঁর সম্বন্ধে বেশি কিছু জানা যায়নি। সব পাণ্ডুলিপিতে তিনি নিজের পরিচয় দিয়েছেন এই বলে যে, তিনি ভারতে ব্যবহৃত ভাষা-সমূহের ফরাসী সরকার নিযুক্ত অনুবাদক (ইন্টারপ্রেটার)।’’

এবারে দেবেশ রায়ের ভাষ্য। আমি ওঁর ‘আঠার শতকের বাংলা গদ্য’ বইয়ের ভূমিকা থেকে প্রয়োজনীয় জায়গাগুলো তুলে দিচ্ছি। নিচের এই উদ্ধৃতিতে আমি কিন্তু ঐ বইয়ে লেখা ভূমিকার ক্রম-বিন্যাস বজায় রাখিনি। যে অংশগুলো এই চিঠিগুলির সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত সেগুলিই তুলে দিচ্ছি।

প্যারিসের বিবলিওথেক ন্যাশিওনেল থেকে ১৮২টি চিঠি ও আনুষঙ্গিক রচনার একটি হাতে-লেখা সংকলন দেবেশ রায় পান (১৯৭৮)। ‘এই চিঠিপত্রে ব্যবহৃত গদ্য নিশ্চিতভাবেই ব্রিটিশপূর্ব। সুরেন্দ্রনাথ সেন সংকলিত ‘প্রাচীন বাঙ্গালা পত্র সঙ্কলন’-এ ১৭৭৯ থেকে ১৮২০ সালে ভিতর লেখা ১৭০টি (পরিশিষ্ট সহ) চিঠির মধ্যে আঠার শতকে লেখা ৭০-এর কিছু কম চিঠি আছে। এর সবগুলিই চিঠি নয়— সন্ধিপত্র, শর্তপত্র, ইত্যাদিও এই সঙ্কলনের অন্তর্গত। পঞ্চানন মন্ডল সম্পাদিত ‘চিঠিপত্রে সমাজচিত্র’-এ আঠার শতকে লেখা চিঠির সংখ্যা খুবই কম। তাই যথেষ্ট সাক্ষ্যের অভাবে বাংলা গদ্যের প্রাক-ব্রিটিশ গড়ন সম্পর্কে কোনো অনুমান সম্ভব ছিল না। বিবলিওথেক ন্যাশিওনেল থেকে সংগৃহীত এই সঙ্কলনটি প্রাক-ব্রিটিশ বাংলা গদ্যের এক নিশ্চিত প্রমাণ। প্রায় শ-দুই বিচিত্র চিঠি ও বৈষয়িক বিবিধ প্রথাগত লেখায় শব্দব্যবহার বিচিত্রতর, বাক্যগঠন বর্তমান বাংলা গদ্য থেকে স্বতন্ত্র।’
ভূমিকায় দেবেশ বলছেন, ‘ পুরনো হাতের লেখা পাঠোদ্ধারের কোন অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। বাঙলা লিপির হাতের লেখায় ধরন-ধারন আমার সম্পূর্ন অজানা ছিল। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সংগৃহীত কোনো-কোনো পুঁথির সঙ্গে তুলনা করে লিপি সম্পর্কে একটা সাধারণ ধারণা আমার নিজের জন্য তৈরি করে নেই। তারপর এই চিঠিগুলি পড়ি ও লিপ্যন্তর করি। কাজের মধ্যে দিয়ে ‘লিপিকারদের’ অক্ষরের ধাঁচ আয়ত্তে আসে। প্রথমে যে-অক্ষর ও শব্দ বুঝতে পারিনি, পরে, দেখতে-দেখতে সেটা বুঝতে পেরেছি। এমন-কি এই চিঠিগুলি যখন ছাপছি, তখন, প্রুফেও দু-একটি দুষ্পাঠ্য শব্দের রূপ ধরা পড়েছে। এই কারণেই চিঠিগুলি ১৯৭৮ সালে পাওয়ার চার –বছর পর ‘পরিচয়’ মাসিক পত্রে অংশত প্রকাশিত হয়। এখন (১৯৮৭, জানুয়ারি) সম্পূর্ণ সংগ্রহই এই বইয়ে ছাপা হল।’
‘এই সংগ্রহগুলি সম্পূর্ণতই শ্রীমতি ইন্দ্রাণী রায়ের আবিষ্কার। তিনি এগুলি সর্বপ্রথম প্যারিস থেকে ভারতবর্ষে নিয়ে আসেন…। এই চিঠিগুলি বিবলিওথেক ন্যাশিওনেল-এ জনৈক অঁসা-র ব্যক্তিগত সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। সংগ্রহটিতে সংগ্রাহকের মানের দুটি বানান আছে- AUSSANT, AUSSAINT। এই ব্যক্তির সামান্য যে পরিচয় উল্লেখ আছে সংগ্রহটিতে তাতে জানা যায় ইনি ১৭৮২ খ্রীঃ-এ চন্দননগরে ফরাসি সরকার কর্তৃক অনুবাদক (ইন্টারপ্রেটার) ছিলেন।
এই সংকলনটিতে চিঠিগুলি একটি পরিবারের ভেতরে লেখা। পরিবারের একজন অপরজনকে চিঠি লিখছেন পারিবারিক প্রয়োজনে— টাকার জন্যে, অসুখের খবর দিয়ে, বাড়ির কোনো ঘটনা জানিয়ে, বৌকে নিতে বাপের বাড়ি থেকে পালকি এসেছে— তাকে পাঠানো হবে কিনা জানতে চেয়ে, কাগজ-কলমকাঠি চেয়ে, মেয়ে দেখতে বলে, মাছ ধরতে পুকুরে জাল ফেলা কখন হবে জানিয়ে, পৈতৃক দুর্গাপূজা কীভাবে হবে জানতে চেয়ে, বাড়ির দরজা ভেঙে গেছে— কখন সারানো হবে জিজ্ঞাসা করে, ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে, ব্যবসায়িক, বৈষয়িক ও সামাজিক নানা চিঠি। ’
‘ ইউরোপীয়দের সাথে বাঙালিদের প্রথম পরিচয়ের পর ইউরোপীয়রা নিজেদের প্রয়োজনে বাঙলা ভাষা অন্তত আংশিকভাবে হলেও আয়ত্ত করতে বাধ্য হত। নইলে তাদের ব্যবসাপাতির অসুবিধে হত। খুব অসংগঠিতভাবে হলেও দেশীয়দের মধ্যে থেকে একশ্রেণীর দোভাষী তৈরি হয়ে উঠত। আবার উল্টোদিকে, ইউরোপীয়দের মধ্য থেকে কিছুটা সংগঠিতভাবে দোভাষী পেশার লোক আসছিল।’
‘ আমাদের আলোচ্য-সংগ্রহের সংকলক অঁসা, এই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই চিঠিপত্র জোগাড় করেছিলেন, সেগুলিকে বিষয় অনুযায়ী দুই গুচ্ছে সাজিয়েছিলেন। …এই সংগ্রহের চিঠিপত্রের ভাষা ও বিষয়েই বোঝা যায় প্রতিটি চিঠিই মৌলিক চিঠি, চিঠির ধরনে কোন রচনা নয়। সেই কারণেই এই চিঠিগুলির ভিতর শৈলীগত মিলের চাইতে বৈচিত্র্য অনেক বেশি। এক-একটা চিঠিতে পত্রলেখকের কন্ঠস্বরের প্রক্ষেপও যেন ঘটেছে। এই চিঠিগুলির অনেক জায়গাতেই পত্রলেখকের ব্যক্তিত্বটিই বাক্যগঠনের গঠনগত ত্রুটি তুচ্ছ করে দিয়েছে।
এমন-কি, বাংলা বাক্যের অর্থ বুঝবার আধুনিক অভ্যাসের আড়ালও ভেঙে যায় স্পষ্ট ব্যক্তিত্বের অর্থবহ চাপে।
তৎসত্ত্বেও এ-চিঠিগুলির একটা রচনাগত কাঠামো আছে, যা প্রায় অপরিবর্তনীয় ঠেকে। বাইরে থেকে কোন পাঠকের মনে হতে পারে, এ বুঝি একই কাঠামোতে নানা বিষয়ের চিঠি, যাতে বিষয়-অনুযায়ী কাঠামোর বদল হয় না, কাঠামো অনুযায়ীই বিষয় বিন্যস্ত হয়, যেমন আমাদের অভিজ্ঞতায় সরকারি কাঠামো ও বয়ান।
..এই সংকলনের প্রায় সব চিঠিরই কাঠামোতে দেখা যাবে স্পষ্ট তিনটি ভাগ। প্রথম ভাগে সম্ভাষণ, দ্বিতীয় ভাগে আসল সংবাদ, তৃতীয় ভাগে সমাপ্তিসূচক ইঙ্গিত। …
এই তিনটি ভাগ চিঠির মধ্যেও বেশ স্পষ্টভাবে দেখানো হয়ে থাকে। সম্ভাষণ-অংশটি শেষ হওয়ার পর, আসল সংবাদ অংশটি শুরু হয় সাধারণত ‘বিশেষ’ শব্দটি দিয়ে। অনেক চিঠিতে ‘বিশেষ’-এর পর দাঁড়ি পড়ে যায়। কখনো মনে হতে পারে, এই ‘বিশেষ’-টি বুঝি সম্ভাষণেরই অংশ। কিন্তু চিঠির কাঠামো দেখলে বোঝা যাবে, এই ‘বিশেষ’ শব্দটি দিয়েই সংবাদ-অংশটিকে আলাদা করা হয়েছে। কখনো যদি দ্বিতীয় কোনো প্রসঙ্গ আসে তা হলে ‘অপর’, ‘তস্য পর’, বা ‘পরে’ শব্দ দিয়ে তাকে আলাদা করা হয়।
এই কাঠামোর ভিতরেই বাংলা গদ্যের এমন এক গড়ন ধরা পড়ে যা আমাদের অভ্যস্ত নয়, এমন-কি আমাদের অভ্যস্ত গদ্যের প্রাথমিক বা প্রাক-প্রাথমিক রূপও নয়। এই চিঠিপত্রের গদ্য স্বতন্ত্র, সম্পূর্ণ ও স্বাধীন গড়নের এক বাংলা গদ্য, ব্রিটিশ শাসন বা ইংরেজি ভাষা যাকে তখনো প্রভাবিত করতে পারে নি। এই প্রাক-ব্রিটিশ গদ্যের অস্তিত্বই কি একশ বছর আগে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী অনুমান করেছিলেন?
…বিশ্লেষণে হয়তো দেখা যেতে পারে যে বাংলা গদ্যে ব্রিটিশ প্রভাব কার্যকর হওয়ার আগেই, অন্তত আঠার শতকে, উত্তরবাংলার কোচবিহার থেকে শুরু করে ভাগীরথী-তীর পর্যন্ত গদ্য ভাষার একটি রূপ প্রচলিত ছিল।’

চিঠিগুলিতে তৃতীয় বন্ধনীতে দেবেশ রায় কৃত শব্দের-রূপগুলি রাখা হল।

চিঠি ১
[প্রাপক – রামহরি ঘোষ, প্রেরক – জগমোহন দাস মিত্র, বিষয়- পৈত্রিক পূজার খরচ চেয়ে, প্রাপক-প্রেরকের সম্পর্ক : ভাগিনেয়-মাতুল।]

পরমকল্যানিয় [পরমকল্যাণীয়] শ্রীযুত রামহরি ঘোষজা ভাগীনা [ভাগিনেয়] এবং ভগনির [ভগ্নীর] পুত্র ও বণ্যের [বোনের] বেটা বাবাজীউ কল্যাণবরেষু
পোষ্য শ্রীযগমোহন [জগমোহন] দাষ [দাস] মিত্র তথা শ্রীবলরাম দাষ [দাস] মিত্রষ্য [মিত্রস্য] পরম ষভ সিসাং [শুভাশিসাং] রাসয়োসন্তু [বাসয়োর্সন্তু?] বিঙ্গাপনঞ্চাদৌ বাবাজীউর অভিষ্টারস্তু [অভীষ্টারস্তু] শ্রীশ্রী৺ নিকটে নিতান্ত বাঞ্ছিত তত্রাদৌ অতিনান্দ [অতি আনন্দ] [।] বিশেষ অনেক কালাবধি বিদেস্ত [বিদেশস্থ?] [।] রাজকীয় ভারগ্রস্ত [।] মোম [মম] বিসয়ে [বিষয়ে] মনজোগ [মনোযোগ] তব নাস্তি [।] এই হেতুক পত্রাদী [পত্রাদি] কোন বাত্রা [বার্তা] পাই নাঞী [নাই] [।] জদ্যপি [যদ্যপি] বিশৃত [বিস্মৃত] হইয়া থাক ইহার শ্বরনার্ত্তে [স্মরণার্থে] লিখীতেছী [লিখিতেছি] [।] অপর প্রওজন [প্রয়োজন] আমাদিগের শ্রীশ্রী৺ দুর্গাপুজা [-পূজা] পৌত্রিক [পৈতৃক] ক্রিতাংশের [ক্রিয়াংশের?] মর্ধে [মধ্যে] অদ্যাবধি ছিল [।] এখন ওয়ারিষ মহঙ্গুর [?] অক্ষেমতা পণ্য [অক্ষমতাপণ্য] অত্রা [অত্র] তদনুসার [তদনুসারে] জোত্র [?] নাস্তি [।] পৌত্রিক [পৈতৃক] বিসয় [বিষয়] বাদ না হয় ভরসা [।] বাবাজীর ইহাতে মনজোগ [মনযোগ] করিলে পুন্যি পিদিষ্ট্যা [?] বটে ইহার বিহিত লিখিবা হইবেক ত্বরান্নিত [ত্বরান্বিত] হইয়া অধিককিমধিকং ঙ্গাত [জ্ঞাত] মত্র [মাত্র]
চিঠি ২
[প্রাপক- ত্রিলোকনাথ রায়, প্রেরক- রামহরি ঘোষ কায়েস্ত, বিষয়- অভিযোগ,
প্রাপক-প্রেরকের সম্পর্ক : ভূস্বামী-প্রজা।]

মহামহিম মহীমা [মহিমা] সাগর রাজাধিরাজ মহারাজ শ্রীযুত তিলোকনাথ [ত্রিলোকনাথ] রায় তনযারবাহাদুর [?] দিন [দীন] প্রজা প্রিতিপালক [প্রতিপালক] সান্ত দান্ত। দয়াসিল [দয়াশীল] ক্ষেমাবন্ত গরিব নেওয়াজ ঈশ্বর পরায়ন [পরায়ণ] শত্রুক্ষয়কারি [-কারী] শ্বরণাপর্ণ্ণ [ শরণাপন্ন] রক্ষিতা মহাশয় দোরদণ্ড [দোর্দণ্ড] প্রবল প্রতাপেষু
পরগনে সিলেমাবাদ মৌজে রামনাথপুরের প্রজা শ্রীরামহরি ঘোষ কায়েস্তর আজর নিবেদন আমারা [আমরা] পূর্ব্বাপর তিনপুরুষ অবধি মহারাজার আশ্রয়ে মহোত্রানবাটী [মহোত্রাণবাটী] বাগান এবং পুষ্কর্ণ্যি [পুষ্করিণী] মহারাজার সনন্দ বিমঙ্গিম [?] বসতবাস করিয়া এ গরিব প্রজা ভোগ করিতেছে [।] এখন মহারাজার সরকারের চাকর মূৎষুদ্ধি [মুৎসুদ্দি] শ্রীবলরাম সরকার তাহার পুত্রের অর্ণ্য প্রাশন [অন্নপ্রাশন] করিলেক পচীষা [পঁচিশে] চৈত্রে [।] তাহাতেই বিস্তর কুটুম্ব ভোজন করাইলেক [।] তাহাতে তাহার নিজের পুষ্কর্ণ্যির [পুষ্করিণীর] মৎস্য না ধরাইয়া খামোখা আমার পুষ্কর্ণ্যির তিন সের চারি শেরের [সেরের] আন্দাজ তিনসও মৎস্য ধরাইয়া লইলেক [।] তাহাতেই আমি দোহাইদস্তুর দিলাম তাহা মানিলেক না [।] অতএব আরজ করিলাম ধর্ম্ম অবতার গরিবের ভাগে হক ইনসাপ [ইনসাফ] করিবেন ইতি এই পত্রের উপরের [উপরে] সেরেস্তা শ্রীরামহরি ঘোশের [ঘোষের] নিবেদনপত্র


চিঠি ৩
[প্রাপক-রামহরি ঘোষ কায়েস্ত, প্রেরক- ‘মহারাজার আরজী-দর জবাব’, বিষয়- জবাব,
প্রাপক-প্রেরকের সম্পর্ক : প্রজা-ভূস্বামী।]

মহারাজার আরজীদর জবাব প্রজাকে লিখে
পরগনে সিলেমাবাদ মৌজে রামনাথপুরের প্রজা শ্রীরামহরি ঘোষ ষচরিতেষ [সুচরিতেষু] লিখনং কায্যঞ্চাগে [কার্যঞ্চাগে] তোমার আরজী পত্র পাইয়া বেওরা ঙ্গাত [জ্ঞাত] হইলাম [।] তুমি আমার প্রজার জদ্যপি [যদ্যপি] ভাল থাক তবে আমার ভাল নাম আমার মতষুদ্দী [মুৎসুদ্দি] জবরদস্তি করিয়া আমায় দোহাই রদ করিয়া তোমার পুষ্কর্ণ্যির [পুষ্করিণীর] মৎস্য ধরি আছে [ধরিয়াছে] আমি তাহার সাজাই দিব তাহা দেখিতে পাইবে [।] তুমি আপন জায়গায় বেপরআয় [বেপরোয়া?] বসতবাষ [বসতবাস] করিতেছো এবং করিবা [।] আমি তাহার সাজাই এমত করিব যেমন [যেমন] বারদিগর আর কোন চাকর জেন [যেন] প্রজার উপর অত্যাচার না করে ইতি...