চলো, এবার অন্ধকার নিয়ে কথা বলি। বলার আগে চিনে রাখা ভালো আলোকের সহকার ভাণ্ডারি। তবু অন্ধকারের রূপমুগ্ধ ব্যাপারি। আলো ফিরি করতে এসে অন্ধকারের অন্তর্লোক খুলে বসা। রূপে আমায় ভোলাবে তুমি, এমন বান্দা আমিও নই। তবু নাছোড় হল পসরাপাটি। কখনো সে তার বুকের আঁচল খুলে উন্মুক্ত করে দেয় স্তনরাজি। ঈষৎ অন্ধকারের ছায়ায় দুলে ওঠে বৃন্তযুগল। আমি আলতো ঠোঁট রাখি। চলকে ওঠে ঈষৎ হলদে গাঢ় মাতৃত্ব। যার গর্ভগৃহে আত্মমগ্ন অন্ধকার। ফিকে নয়। গাঢ় অন্ধকার। যাকে তুমি তামস বলেছিলে। হ্যাঁ, তামসের সঙ্গে আমার দীর্ঘকালীন সম্পর্ক। যে সম্পর্কে বসত করে আলোবাসা। তার দরজা তার জানলা খোলা থাকে চিরকাল। সেখানে খোয়া যাওয়ার ভয় নেই। আগমণেরও। শুধু এক নিশ্চিন্ত সাদা আলোর সম্ভাবনা। যেখানে হাত পাতলেই সব রঙ। সম্ভাবনা যত গাঢ় হয় রঙের ঘণত্ব বাড়ে। জীবনরঙে বিষণ্ণ নীল মেশে। আর যাপনের চাকাগুলো গড়ায়। গড়াতে থাকে। গড়াতে গড়াতে অন্ধকার আরো গাঢ় হয়। রঙের সম্ভাবনা এমন ডানা মেলে যেন খুব পরিযায়ী। ফিরে আসার চিহ্ন রেখে যায় মনে-না-পড়া অস্তিত্বের চৌম্বকক্ষেত্রে

আলোর পিছনে দেখো
ঈষৎ অন্ধকার
কী তুমুল হয়ে উঠছে তার সংকেত
কী প্রবল হয়ে উঠছে তার অস্তিত্ব
যতটা দাগ লাগে চলাচলে
যতটা চিহ্ন পড়ে এই বাটে
সব নিঃশর্ত সমর্পণ
অন্ধকারের কাছে আলোর
তোমার কাছে আমার
এই এক একান্ত ইশারা
এত যে স্বত্ব ত্যাগ
তবু আলোবাসা ভালোবাসা
কী যোজনফারাক

আমার দোটানার শেকড় নড়ে ওঠে

আমি ভাবি অন্ধকারের স্বপ্নবৃত্তান্ত
গণ্ডিভাঙা পণ
গ্রাস থেকে পূর্ণগ্রাসে
সীমানা ভাঙার কী দুরন্ত কোলাহল
আলো নিয়ে যতটা উচ্ছ্বাস
লালিত হয়েছে প্রকাশে
ততটাই অপ্রকাশে অন্ধকার
ললিত তরঙ্গে
অনিশ্চিত আঙুলে একটা দুটো মুদ্রা
আজও নিত্য হল না নৃত্যানন্দে
শুধু অন্ধকারের হাতে জমা হতে থাকে
আলোর মুখ
বহির্মুখ
আমি ভাবি একটা রেখাচিত্রের কথা
তার বেজে ওঠা
তার না বেজে ওঠা
কী ভীষণ আপেক্ষিক

আমার দোটানার শেকড় উপড়ে যায়

আমি উচ্চারণ নিয়ে ভাবিনি ততটা
তামসের নৈঃশব্দ্য দেখো
এতো রূপ
এতো রঙ
যেন সকলই তার নিজের বর্ণ
কখনো স্বর
কখনো ব্যঞ্জন
যেন বেজে উঠবে বলেই
এমন নিঃশব্দ আয়োজন
এমন অলখ বর্ণসকল

আমার দোটানার শেকড় ভেসে যায়