।। ১ ।।

অসংলগ্ন জলে তুমি সারিগান ধুয়ে নেবে?
ততও সহজ নয় চুমুপরবর্তী সৎকার।-
ঘাম দিয়ে,জ্বর ছেড়ে উঠে গেছ সাবেকী কথনে –
কথাবার্তা,পত্রালাপ, সান্ধ্য মনোটোনাস বিভ্রম।
দূরত্ব শব্দের কাছে,দৃশ্যমানতার কাছে যত ঋণী
তত উচ্ছন্নে গিয়েছে এই করতলগত সব লেখা...
অন্ধের মত সব বাধ্য কড়াঘাত দিয়ে ভাত মেখে চেটেপুটে খেয়ে
ফেলে রেখে গেছ,এঁটো থালাময় উদ্ভিন্ন বলিরেখা –
বাসভবনের মেঝে শান্ত অবুঝ শুয়ে আছে ঠিক যেমনটি থাকে
ছেড়ে যাওয়া এতখানি সহজ,বিভ্রমময় তবু
ততটা সহজ নয় চুমু... পরবর্তী সৎকার-


।। ২ ।।

আসা থেকে যাওয়া, আর যাওয়া থেকে আসা,
কেন একই মতো যাতায়াত নয়?
এইসব ভাবতে ভাবতে রুগ্ন নক্ষত্রময় হাতবাক্স খুলেছি আবার।
বাক্সের গড়ন চৌকো, মখমল... ইকমিক কুকার –
সব ছুঁড়ে ফেলে দিই, হাতে এসে লাগে ঘন, তীব্র, আঠালো সংস্রব।
বিকেলফেরৎ যত ট্যাক্সি-না-পাওয়া সন্ধের অদৃশ্য ইঁদুর নিয়ে
মহানগরীর এক জেব্রা শাসন করে পুরোনোগন্ধি বাঁশিওয়ালা –
বিজ্ঞাপনদাতা দ্বারা আয়োজিত মারীচ-মরীচিকার সিনড্রোম বাজে চারিপাশে—
রুগ্ন নক্ষত্রবাক্স নিঃশ্বাস শুঁষে নিয়ে ছুঁড়ে দেয় কবরের ফুল,
সারি সারি সাদা সাদা কবরে শোয়ানো আছে
হাতখোঁপা খুলে-দেওয়া কাঁটাদের মুখর শরীর –
এ’সব ভণিতামাত্র, অতিকথনের মতো লোনা লাগে জিভের আগায়।
তুমি কি এখনো ঋজু, দাঁড়িয়েছো একঠেঙে,পিঠে ছেঁড়া চুনকাম-দেওয়াল?
তোমাকে পাঠাতে হবে, সুররিয়্যাল মধ্যরাত,সুসিদ্ধ প্রথম চুমু,
গিঁট-পড়া পাজামা -সমাধান।
আসা,থেকে যাওয়া আর যাওয়া,থেকে আসা –
জানি,একই মতো যাতায়াত নয়...


।। ৩ ।।

এ’সব বিসর্জনের গন্ধ, তীব্র ঝাঁঝালো কোনও
সাইরেনের মতন সংযম;
পায়ে পায়ে কাটা-রাস্তা, পুড়ে যাওয়া মক্তব পেরিয়ে,
গেরিলা-যুদ্ধের কাছে উবু হয়ে হাঁটু গেড়ে বসে –
শান দেওয়া ঘাট আর ধারালো সন্ধেগুলো
দু’টাকার চা-য়ে মন দিলে,
আমার শহুরে মোড় ছাতিমগন্ধ মেখে
সস্তার প্রসাধনী বিলবোর্ড শরীরে টাঙিয়ে
আধো-ঝুঁকে দাঁড়ায় যেমত
দেহ-পসারিনী তার কাছের দৃষ্টি মেলে রাখে।

চিঠি ফিঠি কিছু নয়,
তোমাকে এখন কিছু আলস্য পাঠাবো ব’লে ভাবি –
যে’সমস্ত চিঠি-কথা কোথাও যায়না
তারা অহেতুক প্রিয় হয়ে ওঠে


।। ৪ ।।

যে’সমস্ত স্মৃতিকথা, সাধ্যমত পলকাটা কপাল আগলে ব’সে আছে,
তাদের সমস্ত বৃন্তে তোমার কিংখাবের পাপড়ি সযত্নে বেঁচে থাকবে আজীবন।
মাথার কাছের বই, বইয়ের কাছের মাথায়
বিলি কাটতে কাটতে, দীর্ঘ ঝুরি নেমে আসবে
এক অন্য শহরিনী মুখ থেকে... ঘন শান্ত নিঃশ্বাসের মত।
তার পাইলিন সংলগ্ন সব ভেঙে যাওয়া বুদ্বুদ, সমস্ত ফিরে যাওয়া
শুনতে পায় মধ্যরাতে “ড্রাইভার সাব, সিধা চলিয়ে”...
পালন করতে চায় এইবার – মৃত, জড় আহ্লাদের সাদা অম্ববাচী।
বইখানি – শূন্যঘর... অথচ পংক্তিগুলি,
নিদারুণ বোধ্য আর গম্য হয়ে উঠল যার কাছে
তার কোনও রান্নাঘর কখনও হবে না সে তো জানে –
মাথার ভেতরে তাও পাতার মতন ঘন ক্লোরোফিল রান্নাবান্না হয়।

তুমি যদি ‘সেতু’ বলো, তবুও সে পাড়ে থেমে যায় –
দূর থেকে চিঠি দিলে
                                                             তুমি তাকে ‘অসম্ভব’ ডেকো...