সারাদিন শুধু উষ্ণতা পড়তে দেখছি। কত হবে আজ? ৬ কি ৭ ডিগ্রির বেশি নয়।
হাতে পৃথিবীর কাজ, সময়ে মত অফিস পৌঁছতে পারলে হয়। কি কি যেন বাকি
রয়ে গেল? না, সব ঠিকঠাক করেছি । থাক, আর দেরি করা যাবে না।
কিন্তু এতো শীতে শাড়ি পড়াটা ঠিক হবে? শুধু ভাবনাতে এতো জোর থাকে!
শীত শব্দটা মনে আসতেই , সারা ঘর জুড়ে তোমার দুচোখ ।
“কি পরবি শাড়ি ছাড়া?” আমি মাথা নিচু করি। “পড়বো তো বলিনি, শুধু ভেবেছি। মিলিয়ে গেলে কোথায় যেন ।
ইস আজ সত্যি সত্যি দেরি হবে, হবেই হবে । আমি যখন রাস্তায়ে তখন আমি শাড়ি...
“কাল বাদে পরশু candidate গুলোর পরীক্ষা, একটু দেখবেন”, সারাদিন ধরে কি
পরিমাণ বকতে হবে বুঝে গেলাম। সকাল থেকে মাঝে মাঝে এই যে হারিয়ে যাওয়া
অথচ আজই আমার হারিয়ে যাওয়া মানা । আমার ভবিতব্য ,আমার ভবিষ্যৎ আমি
দেখতে পাচ্ছি । মনে মনে দেখছি তার পারদ’ও কোথায় গিয়ে থামে ।
বিকেল ছটাতে যখন অফিস থেকে বেরোলাম পারদ ততক্ষণে ২ ।
বিকেল ছটা’কে রাত্তির বারোটা বলে ভুল হয়। রাস্তা পুরো মেরা জীবন কোরা কাগজ
হয়ে আছে । বাড়ি ঢুকতে গিয়ে একটা শঙ্কা নাকি আশঙ্কা’ও ঢুকলো আমার সাথে ।
“কি রে পরীক্ষা ক্যামন হল?”
“ভাল, মা”
“হু, পড়তে বোস”
change করতে ঘরে ঢুকি । এক কাপ চা নিয়ে বসি পড়ার টেবিলে ।
“তুমি rest নাও মা, আমি পারবো”
“না পারার তো কিছু নেই, তোর তো সব জানা “
“হু” বলে পড়াতে মন দেয় বৃষ্টি । এতো মনযোগী আমি আগে ওকে কখনো
দেখিনি । ও আসতে আসতে বড় হয়ে যাচ্ছে, ওর’ও একদিন আমাকে আর দরকার হবে না । আনমনে এলোমেলো ভাবতে ভাবতে চা কাপ হাতে বারান্দায়
এসে দাঁড়াই ।
“শালি... তখন থেকে বেল বাজাচ্ছি, দরজাটা কে খুলবে ? তোর...”
ঠিক যা ভয় পাচ্ছিলাম তাই, আমার শঙ্কা , আশঙ্কা আমার সামনে ।
আমি কিছু বলার আগেই, “আমার নেশা হয়নি, দেখবি? আমি নর্মাল হতেও
পারি।” মনে মনে বললাম, “সে আর বলতে”, মুখে বললাম, “হু”...
কথা বাড়ানো এসময়ে বৃথা বুঝে চলেই আসতে যাচ্ছি , আমার বাঁ হাত হিম হয়ে
এলো। “যাচ্ছিস কোথায়? জুতো খুলে দেবে কে? শালি... তোকে পুষি কিসের জন্য?”
জুতো খুলতে পায়ের কাছে বসা মাত্রই জুতো সমেত পা দুটো আমার কোলে ।
সিগারেটের ধোঁয়া সারা মুখে।
“কিরে মাথা নিচু করলি কেন? Passive smoking is injurious to health. বেশ্যা শালি”
যতক্ষণ না নিজে থেকে পা সরিয়ে নিলে বসে রইলাম কোল পেতে। আমার শীতের
দিন আরও শীতল হয়ে গেল। হয়ত বা থাকবে, চলে যাবে, তোমার পায়ে পড়ি
পা দুটো আমার কোল থেকে নামিয়ো না please…