ইদানীং এইসব

এক লাফে বেড়ে গেল। তিন পেসো। সিগারেটের দাম। ইনফ্লেশন পাগলা করে দিচ্ছে। শুনছি আগামী মাস থেকে নাকি মাইনে বাড়বে।

নতুন করে বলার মত তেমন কিছু নেই। দরজা-জানলা যেমন খোলা রাখার তেমনি রেখেছি আমি। আলোহাওয়া যেমন আসার তেমন আসছে। সাথে কিছু ধুলোবালিও।

জমজমাট প্লাজা ইতালিয়া এলাকায় শিফ্ট করেছি। একটা থ্রি বি-এইচ-কে। আমার একটা প্রাইভেট রুম। অন্য দু্টোর একটায় এক বং কলিগ। আর একটায় এক মার্কিন যুবক। বছর চব্বিশেক। হাসিখুশি। ভদ্র। বিনয়ী। সানফ্রান্সিস্কো থেকে এসেছ। এখানে একটা স্কুলে স্প্যানিশ পড়ে। কিচেন-ডাইনিং-ড্রইং-বাথ রুম শেয়ারড্। মার্কিং ছেলেটিও আমার মত বারমুডা আর হাওয়াই চপ্পল পড়ে রাস্তায় ঘোরে। আমি জিজ্ঞেস করতে বলল যে ওর দিকেও নাকি লোকে আড়চোখে তাকায়। আসলে এখানে সবাই সবসময়ই জুতো কোট এসব পরে থাকে। জুতো তো মাস্ট। ইউরোপীয় কায়দা। এখানকার মশলা ছাড়া রান্না দেখলাম এও পছন্দ করে না। মাঝে মাঝে অফিস থেকে ফিরে ওকে মশলাদার রান্না শেখাই। এই যেমন ও পাস্তা সেদ্ধ করত শুধু । ওকে এখন সেদ্ধ করার পর পিয়াজ-লঙ্কা-আদা-রসুন দিয়ে হাল্কা তেলে ভাজতে শিখিয়েছি। হাত দিয়ে ভাত খাওয়াও শেখালাম একদিন । মাংস ভাত দিয়েছি। দেখি আগে শুধু ভাত খাচ্ছে পরে মাংস খাবে। ঝোল দিয়ে ভাত মেখে খাওয়া শেখালাম। মাঝে মাঝে ওর বন্ধ-বান্ধবীরা আসে। আনার আগে ও পারমিশন নেয়। অল্প বিয়ার খেয়ে ওরা ডিনারে চলে যায়। এত দেশের পাব্লিকের সাথে মাল খেয়ে একটা জিনিশ বুঝেছি যে ভারতীয়দের থেকে বেশি মাল কেউই জেনেরালি টানে না। টানতে পারেও না। মাতাল হলে আলাদা কথা। যেমন হুইস্কি তো এখানে কেউ খায় না বললেই চলে। এই ছেলেটাও দেখি একদিন সবচেয়ে জালি আর সস্তা হুইস্কিটা এনেছে। শুধু শুক্রবার রাতে ওর প্রেমিকা আসে। অনেক রাতে। তখন শুধু আমি জেগে থাকি। তুরীয়ানন্দ হয়ে। ভোর ভোর মেয়েটি বেরিয়ে যায়। যদিও বাড়ির মালিক ড্যান চায় না রাতে কোনো গেস্ট থাকুক। কিন্তু প্রেম কে কবে কোথায় আটকাতে পেরেছে? সেদিন ও এসে বলে গেল ও নাকি ওর বন্ধুদের বলেছে যে ওর সাথে এক ইন্ডিয়ান ছেলে থাকে যে খুব ভাল রান্না করে, তারা শুনে নাকি বলেছে একদিন এসে একসাথে রান্না করবে। এসব নতুন নতুন কিছু পাওয়া। আমার।

প্লাজা ইতালিয়া থেকে রোজ মেট্রো চেপে অফিস যাচ্ছি। ফলে খরচ বেড়েছে। আগের বাড়ি দুটো ছিল হাঁটা দুরত্বে। অফিস থেকে।

দেদার মাল্লু টেনে যাচ্ছি।। পয়সা না থাকলে বাড়িতেই আর থাকলে পাবে পাবে। এই যেমন কিছুদিন আগে ডে বারে মাল খেলাম। এটা আমার জীবনে এক উল্লেখযোগ্য মাল খাওয়া। ‘আফটার অফিস’ এখানে একটা কন্সেপ্ট। অফিসের পর পর মানে এই সাতটা থেকে আটটার মধ্যে নানান পাবে নানান অফার চলে। তো ঢুকে তো পড়েছি সাতটা নাগাদ। কিন্তু খেতে খেতে রাত বাড়ল। এখানকার এক মাতাল নাবিককে পেলাম। অতি বৃদ্ধ। বারবার ভারতবর্ষ আর গান্ধীজির প্রসংশা করে যাচ্ছিল। কারণ ১৯৭০-এ সে নাকি মাদ্রাজ বন্দরে নেমেছিল। কিছুকাল নাকি ছিল সেদেশে। সে মুগ্ধতা যায় নি আজও। কি আর করা যাবে! রাত আরো বাড়লে সে বিদায় নিল। এরপর বারের মালিক নিকোলাস বিদেশি দেখে খুব আড্ডায় ডুবে গেল। আর মাল এর পর মাল খাওয়াতে লাগল। নিখরচায়। সাথে ওর চেনা একটি ছেলে ও দুটি মেয়ে ছিল। তারাও চলে যায় আরো রাতে। শেষমেষ শুধু আমরা তিন কলিগ আর নিকোলাস। আমার কোনো হুঁশ ছিল না। অনেক আগে থেকেই। পরে শুনেছিলামঃ


• ভোর চারটে নাগাদ নাকি আমরা বেরিয়েছিলাম।
• বারের সদর দরজা বন্ধ করে পিছনের রান্নাঘর দিয়ে বেরিয়েছিলাম।
• আমি নাকি নিকোলাসের চেনা সেই মেয়ে দুটির একজনকে আপত্তিকর ভাবে জড়িয়ে ধরে খালি রাজনৈতিক কথা বলে যাচ্ছিল্লাম। অন্যরা অনেক চেষ্টা করেও থামাতে পারেনি।
• বেরোবার সময় আমি নাকি দু দু বার মাটিতে পড়ে যাই।
• আর নিকোলাস তিনাবার বমি করে। রাস্তায়।

যদিও এসবের কিছুই আমার মনে নেই। শুধু মেয়েটি আর আমার গোটা দুয়েক ছবি আমি পরে মোবাইলে দেখেছি। ওরা তুলে রেখেছিল আমায় বিশ্বাস করাবে বলে!