ফরাসী কবি, ঔপন্যাসিক ও গণিতজ্ঞ জাক রোবো (১৯৩২ - ) সুররিয়ালিস্ট আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় ঘোষিত উলিপো আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। এই আন্দোলনের নন্দনতত্ত্বে সুররিয়ালিস্ট পদ্ধতির সম্পূর্ণ স্বতস্ফূর্ততার বিরোধিতা করে লিখনপদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সংযম এবং নিয়মের কড়া পাহাড়ার মধ্যে স্বাধীনতা চর্চা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলা হয়। এখানে তাঁর ১৯৯১ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ 'লা প্লুরালিতে দে মন্দে দে লিউইস' ('দ্য প্লুরালিটি অফ ওয়ার্ল্ডস অফ লিউইস') থেকে কয়েকটি কবিতা বাংলায় অনুবাদ করলাম।


(১)
একটি শরীর আর তার ছায়া মিলেমিশে একটা জগৎ ধরে রাখে
ছায়ার ছায়া ছড়িয়ে পড়ে শরীর জুড়ে
এই জগৎ ছিল সম্ভাব্য ছায়ার সঙ্গম
আর এই জগতের প্রতিটি অংশের ছায়া নিজে নিজেই ছিল এই জগতের সঙ্গম, কেবল এই জগতের সঙ্গম
ছায়া, ছায়াদলের সঙ্গম একটি জীবিত জগৎ বানায়
যখন ছায়া ও ছায়ার ছায়া মিশে গিয়ে আর একটা জগৎ বানাতে পারে না, তখন সেই জগৎ মৃত


নেতির ভেতর দিয়ে

নেই স্থান
মুহূর্তরা বোধের অসম্ভবে
বারণকাল অবারিত ছায়াদের,
পূর্ণ বহুত্ব অদ্রষ্টব্য
অসমর্থিত ছাদের।


গল্পের পথের মত

জগৎগুলো যদি কাহিনী হত আর বাসিন্দারা কাহিনীকার,
শুধু জীবেরাই নয়, সব কিছু, সব কিছু জড়, জড়ো হয়ে
বলতো তাদের কাহিনী, সকল বলার মত
সকল বলা বলা হলে জগৎগুলোর জায়গা তৈরী হবে
যেখানে আত্মবিরোধ সত্য হয়ে উঠবে
যেখানে দাঁড়িয়ে আমি তোমায় বলতে পারবো "তুমি জীবিত, তুমি মৃত"
আর তুমি, অট্টহেসে উত্তর দেবে


অসম্ভবের পথের মত

অসম্ভব বস্তুটা কোনো জগতে থাকে না।
যে কোনো জগতে সবকিছু সবসময় কেবলই সম্ভব হয়ে থাকতে পারে।
অসম্ভব কোনো কিছুই বলা যায় না
কেবলমাত্র
'নচেৎ' বা 'অন্যকোথাও' ছাড়া। 'তুমি' বলে
আমি কোনকিছুই লুকিয়ে রাখি না
আবার কোনকিছু দেখাইও না।


হাওয়া, জল, জায়গা

স্মৃতি শরীরকে আলাদা করে রাখে
অমরত্বে সুগৃহীত মাংসাদির থেকে
ভয় তাকে শেষ করতে প্রস্তুত হয়
সে সামনে দেখে অন্তহীন অন্তিমব্য
যে মুহূর্তে শৈত্য প্রবল হয়ে ওঠে
মাটি দিয়ে ঢেকে দেবার জন্য
শাসন করে মেয়েটির মুখ
ওখানে স্থান-কাল আর আনন্দের
অধিকার হারিয়ে আসে
যেমন রয়েছে তার মুখ, ক্লেদাক্ত অকল্পনীয় ঘাসে