কী বলা যায় খেলাটাকে! সাপ ছুটছে বিন্দুর দিকে নাকি বিন্দু ছোটাচ্ছে সাপকে, অনবরত তার চারপাশে। “..ধরতে পারছি না…”। কতগুলো গান ঘুরছে সাপের মাথায়। সাপ বলতে সাপ- লুডোর কথা মনে পরছে। পরিচিত গ্যাতগ্যাতে জীবনের খেলা। সাপ বলতে অভিশাপ। অভিশপ্ত সাপ ছুটছে। ছুটেই চলেছে। বিন্দু তাকে ছোটাচ্ছে। অথবা নিশ্চল বিন্দু সাপের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটতে পারবে না জেনে আগে থেকে ঘাঁটি গেঁড়ে ফেলেছে। এরকম একটা খেলা চলতে থাকে, চোখ বুজলে দেখতে পাই। বন্ধ দরজা। একটা চাবি, তার গা বেয়ে উঠে যাচ্ছে। ডায়ে যাচ্ছে, নিচে নামছে, বাঁয়ে ঘুরছে, ওপরে উঠছে। বেরোতে পারছে না। কারণ কোনো বিন্দু খুঁজে পাচ্ছে না, যাকে ধা করা যায়। হাত না থাকায় হাতড়ানো কতটা যন্ত্রণার চাবিটা ভাবছে। শরীরটা টেনে টেনে ওপরে তুলছে, কখনো নামাচ্ছে। এক্ষেত্রে গোল মাথার অংশটা সবসময়ে নিচের দিকে। ভারী অংশ নিচে থাকায় ওপরে উঠতে থাকা সহজ নয়। দরজায় নকশার খাঁজে উল্টো শরীর দাড় করিয়ে রাখার আলাদা কৌশল জানে না। চাবিটাকে শুধু বেরোতে হবে। মাথায় অদ্ভুত গর্ত থাকায় সে বোকা এটা জেনে গিয়েছে। তবু একটা বুদ্ধি এলো। শরীরের শেষাংশ দিয়ে যদি জোড়ে জোড়ে শব্দ করা যায় দরজায়? কেউ সেটা খুলে দিতে পারে। মানুষের থেকে শিখেছে এই কায়দা। কিন্তু দরজায় মাথা রেখে শরীর বেঁকিয়ে পা দিয়ে আঘাত করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য শূন্যে দাঁড়িয়ে থেকে লাফাতে হবে দরজার ওপর। কোনো উপায় পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো উপায় যে পেতে হবে স্বাভাবিক সময়ে তা তার ভাবনার বিষয় নয়। রঙহীন ঠাণ্ডা দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কোন প্রস্ন এলো না, উত্তর এলো না। খুব জোড়ে জোড়ে হার্টবিট শোনা গেলো। বোঝা গেলো চাবিকে কেউ লক্ষ্য করছে। ভয়, আশঙ্কায় হার্টবিটের শব্দ যেন বারে বারে ক্যাম্বডিস বল আছাড় খাচ্ছে মাটিতে। চাবিকে লক্ষ্য রাখছে একটা কেউ। আমাদের প্রত্যেকের ওপর লক্ষ্য রাখছে আর একটা কেউ। চাবির যাবতীয় চেষ্টা, ব্যারথতা সে খুঁটিয়ে দেখছে। চাবির মাথায় গর্তের অংশটা দপদপ করতে লাগলো। সে ভাবছে এই দরজার ওপাশে আর একটা বেঁটে দরজা দাঁড়িয়ে কাছেই। তার পিছনে আরও একটা ছোট দরজা। তারপরে আর একটা। শেষপর্যন্ত ছোট হতে হতে বিন্দুতে পৌঁছে দেখা গেলো সাপটা এখনো তাকে ঘিরে পাক খেয়ে চলেছে। বিন্দুর একেবারে কাছাকাছি চলে এলেই সে জায়গা বদলে ঠিক করে দিচ্ছে সাপ এবার কোন পথে ঘুরবে। খেলার পরবর্তী ধাপে কি হবে অথবা শেষপর্যন্ত সাপটা ক্লান্ত হবে কিনা ভাবতে ভাবতেই বিন্দুর মধ্যে অনায়াসে ঢুকে পড়লো চাবি। ভেতরে ৩টে ঢেউ, গোল গোল ঘুরে যাচ্ছে তারাও। প্রতিবার মিলিত হয়েই সড়ে যাচ্ছে দ্রুত। অল্প সময়েই হার্টবিটের চেয়ে দৃঢ় এক শব্দ কাছাকাছি এসেই যেন ঢেউ থেকে তুলে ঘরটায় এনে ফেললো চাবিকে। নিজের মধ্যে অদ্ভুত পরিবর্তন দেখতে পেলো। শরীরের শেষাংশে ঘাঁটগুলো ক্রমশ বদলে গিয়ে অন্য একটা চাবিতে পরিণত হচ্ছে। বাইরে থেকে দরজাটা খুলে গেলো। দরজায় ঝুলতে থাকা তালায় লাগানো একটা চাবি, কিছুক্ষণ আগে অবিকল যার মত দেখতে হয়ে গিয়েছিলো এই চাবিকে। দরজা আবার বন্ধ হয়ে গেলো। ঠিক ঠিক তালা ও চাবি তাকে ভেতরে বন্ধ করে দিলো আবার। মনে পড়ে গেলো কারা আলোচনা করতো, “এটা একটা অতিরিক্ত চাবি, যাকে অন্য কোথাও রাখলেও প্রায়ই দরজার কাছে এসে পড়ে যায়।“