কেটে যাচ্ছে রামধনু রঙের দিনগুলোয়

আজ সকালে জলদিই উঠলাম। সাধারণতঃ ছুটির দিন দেরি করি উঠি। একটা চূড়ান্ত হ্যাং নিয়ে। আদ্যন্ত মন মেজাজ খিঁচড়ে আছে। নানা ঘটনার মধ্যে দিয়ে চলেছি গত দু মাস ধরে। মিশ্র একটা মনোভাব। খাপছাড়া। অগোছালো।

গরমটা কমে এখন বেশ কিছুদিন ধরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। কাদা হয় না ঠিকই তবে অল্পেই জল জমে। এমনকি লাইনে জল জমে মেট্রোও বন্ধ। যখন তখন। আমি বার কয়েক চড়েছি। কলকাতার থেকে ছোটো। স্পীডও কম। তবে এগুলো সব হিপি কালচারের গাড়িগুলোর মত পেইন্ট করা। এবড়োখেবড়ো। মন কাড়ার মত। নানান ছবি ও লেখায় সাজানো।

এর মধ্যে দু-দুবার বাড়ি পাল্টালাম। লাস হেরাস ছেড়ে সান হোসে হয়ে উঠে এসেছি কোরিএন্তেস অ্যাভেনিউতে। বুয়েনস্ আইরেসের বিখ্যাত ওবেলিস্কোটার (যার ছবি গুগুলে আছে) একদম সামনেই আমার অ্যাপার্টমেন্ট। এগারো তলায়। ওবেলিস্কোর নিচ দিয়েই চলে যাচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে চওড়া রাস্তাটা। অ্যাভেনিদা নুভে দে হুলিও। অর্থাৎ ৯ই জুলাই অ্যাভেনিউ। আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা দিবস। কোরিএন্তেসের ওপর বেশ কয়েকটা বড় বড় পিৎজার দোকান। আর মস্ত বড় একটা ম্যাকডোনাল্ডস্। দোকানগুলোর ধার ধরেই ফুটপাথে বেশ কিছু হোমলেস্ তাদের বাচ্চাকাচ্চা, প্যারাম্বুলেটর, কম্বল, মাগ, বোতল নিয়ে। সাথে কিছু পাতাখোর। ঢুকতে ঢুকতেই গ্যাস ওভেন আর কমোডের ফ্লাশটা খারাপ হল। দিনকয়েকের ভোগান্তির শেষে সারাইও হল। জানলা দিয়ে বাইরে তকালেই দু-দুটো প্রেক্ষাগৃহ। একটায় চলছে কাসি নরমালেস (নেক্সট টু নরমাল)। অন্যটায় জোয়ান বেজের পোস্টার। উনি আগামী মার্চে সফর করছেন।

গত সোমবার অফিস যাওয়ার পথে এই প্রথম একটা মিছিল দেখলাম। কমিউনিস্টদের। শুনেছিলাম ওরা আছে। যদিও সংখ্যায় নগণ্য। ওদের হাতে চে এর ছবি আঁকা পতাকা দেখে বুঝলাম। ছোট্টো মিছিল আর প্রত্যেকেরই জামাকাপড় দেখে মনে হল খুব গরীব। এর আগে দেখেছিলাম পেরনিস্টদের মিছিল। নুভে দে হুলিওতে। বিশাল। ব্যারিকেড। যানজট। পেরনিস্টরাই এখন সবচেয়ে শক্তিশালী। এই রাস্তাতেই বিশাল স্মৃতিসৌধটা আছে। এভিতা পেরনের। গুগুলে ছবিটাও। আসলে গোটা দেশটাই ফের চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। জিনিষপত্রের দাম আর খুচরো ক্রাইম বাড়ছে। সাথে আমার ইন্সিকিউরিটিও। ফিরে যাবই ভাবছি। এর আগে এরকম হয়েছিল ২০০১ সালে। যাইহোক একটা সিগারেট ধরিয়ে হাঁটা দিলাম। উল্টোদিকে। মানে অফিসের রাস্তায়।

মাসদুয়েক আগে ছিল অফিস পার্টি। শহরের বাইরে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে একটা বাগানবাড়িতে। প্রায় শখানেক লোক। একদম গ্রাম। গাছপালা। কাঁচা রাস্তা। আর ঘোড়ায়টানা গাড়ি। সব মিলিয়ে বেশ মনোরম। মাঠে ফুটবল খেলা হল। ইন্ডিয়া ভার্সেস আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে দু-গোল খেলাম। সকাল থেকেই মদ চলছে। খুব ভাল ওয়াইন। লাল ও সাদা দুইই। এখানকার মেন্ডোজা বেল্টের ওয়াইন। জগৎবিখ্যাত। সাথে বিয়ার আর ফার্নেট। কোক আর ফার্নেট এদের এক বিখ্যাত ককটেল। যদিও আমার মোটেই ভাল লাগেনি। চট্ কোরে রান্নার জাগাটায় ঘুরে এলাম। এক ফাঁকে। পিওর আরজেন্টাইন ফুড। ‘আসাডো’- গোরুর বিভিন্ন অংশের মাংসের টুকরো কাঠকয়লার আগুনে ঝলসানো। আর সাথে আস্ত শুয়োর। আগুনের চেয়ে একটু দূরে লাম্বালম্বি চিরে। স্রেফ আঁচে সেদ্ধ হবে। কাছে গিয়ে দেখলাম চর্বি গলে গলে পড়ছে। টপটপ করে। মাটিতে। ঘামের মত। খাওয়াদাওয়ার শেষে তুমুল নাচ। বলিউডের খবর এরাও রাখে টাখে। তা আমাদের ‘ধূম’ এর তালে লাতিন সুন্দরীরা পা মেলাল। সে এক মজা। দারুন। একটা কোস্টারিকার মেয়ে। তার সাথে নিতান্তই এক বঙ্গসন্তান। কোথায় লাগে ইশা দেওল কি উদয় চোপড়া! এরকম বেশ কিছু ফ্রেম আমি ধরে রেখেছি।

এছাড়া টুকটাক পার্টি-ফুর্তি লেগেই আছে। আমার বাড়িতে প্রায় প্রতি উইকেন্ডেই। কিছু ভারতীয় বন্ধু সহযোগে। মাঝে একদিন গেলাম ‘কাসাবার’ এ। ‘কাসা’ মানে বাড়ি। একটা পুরনোদিনের বাড়ির দোতলা জুড়ে বার। বারের মালিক ফেসবুকে ভারতীয়দের বেছে বেছে রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছেন। একপ্রকার পাব্লিসিটি। কিন্তু হপ্তায় এখানে দিনভিত্তিক বিভিন্ন মদে ছাড় পাওয়া যায়। মন্দ কি! সারারাত খোলা। আমি দুটো জে-ডি খেলাম। অনেককাল বাদে। পকেট খসল ভালই। কিন্তু মন ভরল। বুকটাও কেমন যেন একটু চওড়া।

সবচেয়ে সস্তায় স্কচ পাওয়া যায় ভারতীয় রেস্তারা ‘স্বাগত’-এ। এটা কিন্তু আমারই আবিষ্কার। অন্যরা আগে গেলেও মদ খায়নি। জলের দরে ব্ল্যাক লেবেল। সাথে এক কলম্বিয়ান ওয়েট্রেস্। যাকে দেখে যে কারও রাঙা-বউদির কথা মনে পড়বে। ওর সাথে আমার একটা ছবি ফেসবুকে আছে। স্বাগতে একটা ভাল ডিশ্ হল গোস্ত নবাবি। আহা!

নাইটক্লাব গুলো মূলত পালেরমো বা সান টেলমো এলাকায়। জমজমাট। ট্যুরিস্ট এলাকা। গেছি দু-একবার। সস্তা। এন্ট্রি ফীর সাথে এক গ্লাশ বিয়ার বা মকটেল ফ্রী। তবে অ্যাভারেজ ক্রাউড হল ১৮ থেকে ২৫। সে তুলনায় আমি একটু বয়স্কই। এখানকার নাইটক্লাবে মেয়েদের কোন এন্ট্রি ফী নেই। ওদের জন্য ফ্রী। রাতপরীদের কাছে কোন আহম্কই বা পয়সা চায়! বরং...


আনন্দ উৎসবে বুঁদ হয়ে আছি

আজ এদুয়ার্দোর সাথে দেখা করে এলাম। আমার রুমমেট হঠাৎ রাতে পিৎজা কিনতে গিয়ে ওকে পেয়েছিল। ভাবা যায় এইদেশে একটা ছেলে স্রেফ তবলা শিখিয়ে বেঁচে আছে! দিল্লীতে ছিল বছর তিনেক। তার আগে বৃন্দাবনে। মাস তিনেক। কলকাতা-মুম্বইও বারকয়েক। ভারতেই ওর শিক্ষা। এখানে কিছু কনসার্ট অর্গানাইজ করে। নিজেই। সাথে সামান্য কয়েকজন তবলা আর সিতার বাজিয়ে। মূলত পাবে। কখনো সখনো কোনো অডিটোরিয়াম। ব্যাস্। এতেই চলে ওর। সম্প্রতি বান্ধাবী ছেড়ে চলে গেছে। ছাত্রও কমে গেছে আগের চেয়ে। ভাবছি ওর ওপর একটা ছোট ডকু বানাব। দেখা যাক। তবে ছেলেটি বেশ অমায়িক। আর হিন্দি বলতে পারে। লিখতে পড়তেও।

যাইহোক, আজ বলব একটা উৎসবের কথা। বসন্তউৎসবের মত না হলেও বেশ কড়া ও আমিষ। ঘুরে এলাম।কার্নিভাল থেকে। লাতিন আমেরিকার কার্নিভাল নিয়ে প্রভূত কৌতুহল জড়ো হয়ে আছে। মানুষের মনে। সারা পৃথিবীর। এর ছবি ও ভিডিও দুইই গুগুলে দেখা যায় বটে। কিন্তু চাক্ষুষ! এক বিচিত্র উত্তেজনা। নানা থিমে-রঙে-পোষাকে-মুখোশে সুসজ্জজিত নারী ও পুরুষের শোভাযাত্রা। বাজনা ও সঙ্গীতের তালে তালে। গ্যালারি থেকে হাজারও করতালি। আবালবৃদ্ধবনিতা। লাস্যময়ী সুন্দরীদের দেহভঙ্গী। উত্তজক ও উলঙ্গপ্রায়। এমনকি হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়। র‍্যাম্পে নেমে জড়িয়ে ধরে ছবিও। সবচেয়ে বড় কথা এই কার্নিভাল দেখলে বোঝা যায় যে নগ্নতা এদের জীবনের-সংস্কৃতির অঙ্গ। না হলে কেনই বা বাবা-মায়ের সাথে দশ বছের শিশুটিও মশগুল! বা বাবা-মা সন্তানকে র‍্যাম্পে নামিয়ে শুধু বোঁটা আর পাঁপড়ি ঢাকা নর্তকীর সাথে তার ছবি ক্যামেরাবন্দী করবেন! মুখে চোখে এক অপার গর্ব আর প্রশান্তি নিয়ে। ঠিক যেমন ছেলেবেলায় আমায় রথের মেলা বা প্ল্যানেটোরিয়াম দেখিয়ে বাবা-মার চোখে মুখে দেখেছিলাম! আমিও তুলি। অনেক ছবি। আমি আর নর্তকীও। খানকয়েক। সারারাত জেগে বসে নেশায় ধূর হয়ে খোলা আকাশের নিচে এত আলো-রঙ-সঙ্গীত আর খোলা শরীর ও করতালি মিলিয়ে কেমন এক শিহরণ চলে গেল দাঁড়া দিয়ে। খুব কমই হয়ত আছে এমন ভাগ্যবান। বঙ্গসন্তান!

কার্নিভাল হয় বছরে একবার। ফেব্রুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। প্রতি শানিবার। এনত্রে রিও প্রদেশে। বুয়নেস্ আইরেস থেকে তিন ঘন্টার রাস্তা। রেতিরো টার্মিনাস থেকে বাসে। রাস্তা চমৎকার। দুদিকে চোখ জুড়ানো সবুজ আর থোকে থোকে কাশ ফুল। সাদা। দূষণমুক্ত ঝকঝকে আকাশ। নীল। এনত্রে রিও খুবই সাধারণ। বুয়েনেস আইরেস তুলনায় নিতান্ত অনুন্নতই বলা চলে।। লোকজনও কম। তবে রাস্তাঘাট ভালই। আর কাঁচা বাড়িগুলো পাকা হচ্ছে ধীরে ধীরে। একতলার বেশীতো চোখে পড়ল না। খুব একটা। আমরা সকালের বাসে পৌঁছই। টার্মিনাস থেকে ট্যাক্সি নিয়ে ‘সোলার দেল এস্তে’। একটা বিচ ক্লাব। নদীর ধার ঘেঁষে। বলাই বাহুল্য। আশি পেসো এন্ট্রি ফী। ভেতরে মজা। অফুরন্ত!

প্রথমেই নদীতে চান করলাম। সে অনেকখন। অনেকদিন পর। বিচের ধার জুড়ে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। সারা দেশ থেকে এসে জড়ো হয়েছে। ছেলেরা বারমুডা। মেয়েরা বিকিনি। এই বিকিনি সমারোহর তুলনায় সাম্প্রতিক বলিউডের ‘বিকিনি বিপ্লব’ নিতান্তই ছেলেমানুষী। এর বেশী বিবরণ অনর্থক। একটা মঞ্চ হয়েছে। দেখলাম। ওপরে একজন অ্যঙ্কর। পুরুষ। সাথে সাত আট জন বিকিনিসুন্দরী। সাদা-কালো-তামাটে-গমরঙা সব মিলিয়ে। গানের তালে তালে পাছার নজর ও শরীর কাড়া ভঙ্গী। নিচে সমস্বর শোরগোল। নারী ও পুরুষ কন্ঠ মিলে। এই প্রথম মদে চান করলাম। আক্ষরিক অর্থেই। বীয়ার, ভ্যোদ্কা, হুইস্কি, ফার্নেট সব মিলিয়ে। দফায় দফায় ছিটে আসছে। মদ। এতটাই উদ্বৃত্ত। আর ম ম করছে ধুনোর মত মিস্টি একট গন্ধ। গাঁজা আর চরস মিলে। ঝিম্ ধরা। তুরীয়ানন্দ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। প্রচুর ছোট বড় গ্যাং এসেছে। ছেলেদের। মেয়দের। ছেলে-মেয়ে মিশিয়ে। নানান। অনেকেই অনেককে চেনে না কিন্তু অনাবিল মিলে যাচ্ছে। মিশে যাচ্ছে। এ ওর শরীরে। নাচের তালে তালে। অকুতোভয়। নিঃসঙ্কোচ। ভণিতাবিহীণ। সারা গা চটচটে হয়ে আছে মদে-বালিতে-স্প্রেতে (কৃত্রিম বৃষ্টি)। তাই নিয়ে উল্লাস। আর জড়ামড়ি। একে বলে রেইন ডান্স!

মঞ্চের নিচ থেকে থেকে মুহুর্মুহ ‘শো’ ‘শো’ করে শোর উঠছে। নারীপুরুষ সমবেত কন্ঠেই। আর অ্যঙ্কর নর্তকীদের পাছা বুক ভিজিয়ে দিচ্ছেন শাওয়ার দিয়ে। নিজেও ড্রামসে্র তালে তালে বলছেন ‘শো’ ‘শো’। ব্যাস্! একে একে নর্তকীরাও খুলে দেখিয়ে দিচ্ছে। স্তনের আভিজাত্য। ভরাট। কয়েক ঝলক। কখন বা সম্পূ্র্ণ টপলেস হয়ে ব্রা কিংবা টপ তুলে ঘোরাচ্ছে। শূন্যে। আর নিচে ফেটে পড়ছে উল্লাস। চাপ নেই। পুরোটাই ভিডিও করা আছে। আর মঞ্চের একধারে একটা লেসবিয়ান কাপল্ সেক্স শো দেখাচ্ছে। সেই প্রথম থেকেই। কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখবি দেখ! খুলা আম্।

কেউ কেউ সারা গায়ে পেইন্ট করেছে। রঙীন পরচুল ও বিচিত্র মুখোশে কেউ কেউ। কিছু মেয়ের হাতে ডিল্ডো। কারো কারো গলায় লকেট। যার পেন্ডেন্টা প্লাস্টিকের বাঁড়া। ছোট সাইজের। উইথ বলস্। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন গলায় বাঁশি ঝুলিয়েছে। কেউ কেউ শরীরে শরীর মেলাতে ইচ্ছুক। আবার অনিচ্ছুকও পাওয়া গেল। যেমন একটি মেয়ের খোলা পাছায় দুই যুবক হাত রাঙিয়ে এঁকে দিল পাঞ্জার ছাপ। আর জোড়া রঙীন ছাপে মেয়েটিও খিলখিল। আবার একটি নেশায় ধূর মেয়ের খোলা পাছা অপরিচিত যুবকটি যেই তবলায় বোল তলার মত বাজিয়ে দিল মেয়েটি ছুট্টে এসে পা দিয়ে তার গায়ে বালি ছটিয়ে দিল। খুব রেগে গেছে। তো বালিতো লম্বা যুবকের স্রেফ বুক অব্দিই। তালি বাজিয়ে একটা লম্পট হাসি সে হেসে উঠল। বিরক্তমুখ ঘুরিয়ে মেয়েটিও সঙ্গীদের খোঁজে...

দেখলাম। আট-দশটা ছেলের একটা গ্যাং এসেছে। ওরা গোল হয়ে নাচছে। নেশায় চুর। আর যেই না কোন মেয়ে ওদের সাথে নাচতে আসছে তাকে একদম অভিমুণ্যের মত চক্রব্যূহের ভেতর টেনে নিচ্ছে। তারপর নাচতে নাচতে একটানে খুলে দিচ্ছে তার কাঁচুলি। হতভম্ব মেয়েটি বেরিয়ে আসছে। মানে প্রায় পালিয়ে। একহাতে কাঁচুলি চেপে ধরে। তার সঙ্গীরা ফের বেঁধে দিচ্ছে। আর মাথা-পিঠ চাপড়ে স্বান্তনাও। কলকাতা হলে বলা যেত শ্লীলতাহাণি। কিন্তু এখানে অশ্লীলতা মানায়।

সারাদিন ধরে রেইন ডান্স আর সারারাত জেগে কার্নিভাল দেখে পরদিন ভোর ছটার বাসে ফিরে আসি বুয়নেস্ আইরেস। এদের দেশে এই আনন্দউৎসবে এসে আমি যে অপূর্ব ‘আনন্দ’ পেলাম তা আমি আমার গোটা শরীর ভরে রাখলাম। মন কি আর শরীরের বাইরে!