আদর্শলিপি

একদিন ভীমরতিপ্রবন এই দেশে আদর্শলিপির খুব বাড়াবাড়ি হয়েছিল
আমাদের ভাষাবিদ্যা বেঁকেচুরে কিছুটা মোড়ক আর ভেতরের বস্তুটিকে
                                                                                 সারারাত জাগিয়ে রাখল

নইলে কীভাবে কনিষ্ক এই স্মৃতির প্রতীক কিংবা প্রতারণা হয়ে
                                                                                 কালো বুক সেলফ খোঁজে

খুঁজি আমিও দ্বিতীয়বার জাতক কাহিনী
বেশ পুচ্ছ নাচানো আর শতকরা আপোষে আপোষে
থু থু চাটা সিঁড়ি ভেঙে কয়েক বিঘৎ হাসি ছরিয়েছে প্রসূতিসদনে

গ্রামদেশ থেকে আসা পালিত খচ্চরগুলো ফিরল না বেদনা বোঝার কাছে
                                                                                 দুধ আর তামাকের যুগল নেশায়

খুব অসুবিধাময় এই শহরে সভায় কোনে রক্ত গড়ানো নর্দমায়
কাঁদো প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত রাত্রির কাটা মুণ্ড গুলি

আমাদের দিনগুলি তেলে জলে প্রকৃত সুশীল আজও গৌড়ীয় ব্যকরণ মেনে
খুব শিষ্টাচার সম্মত শ্রীচরণকমলেষু তবু...


স্তোক

সুকৌশল যদি বল , আমি কী এমন , যাবো জাগতিক পানসির প্রায় উন্নয়নশীল ঘাটে ,
                                         বেলঘরিয়ায় !
নিয়মমাফিক মাঝি ভিড়িয়েছে আয়ু । পরম্পরা এখনও রঙিন জাদু
উল্টো গাধার পিঠে , অবাস্তব , চুন-কালি মাখা
নিজের মুখোসে শুধু প্রতিদিন নিজেকেই দেখা
সন ও তারিখহীন চিঠির আদলে ;
এই বহমানতার চিহ্ন , কাল্পনিক , পড়ে
যা কিছু বিভ্রান্তি আর বিশ্লেষনহীন ভাষ্য টীকা , সত্যের ছলনা
ঈশ্বরপ্রণীত বলে মনে হয় ইদানিং
যেভাবে ঘোড়ার গল্প গাধা হয় নিয়মিত সরল অভ্যাসে
আমি কি তেমন ? তৃতীয় প্রকৃতি নিত্য ?
যতখানি আত্মসান্তনার সঙ ক্ষমতাবিন্যাসে
ঝুলে থাকা দ্রাক্ষাফল ততখানি অনুষঙ্গময় , জেনে
তোমাকেই গড় করি দূর থেকে । হে সান্তনা
স্তোকবাক্য চাই নি এমন –


আত্মীয় সভা

এনারা ফুটে উঠলেন না-রঙ্গিন ; লৌকিক সারল্যে শাদা কালো
রুচির অতীত কিছু , অতিকায় , পুরনো দিনের বদখত
বাংলা দেয়াল জুড়ে
চিরস্থায়ী বনেদি বাজার জোড়া ঢাক , ঢাকিরা বাজান আজও
অন্তর্যামী সে ঢাকের বোলে এলোমেলো , সস্তায় বিকিয়ে যাচ্ছে
জানেন তা বাজারসর্দার কিছু কিছু মহাশয় তালশাঁস ।

ভুষণ্ডির আত্মীয়প্রধান মাঠে , সেইসব একাদশ সভা
পাকলে পাকার কী যে হয় ; সহজ বিভ্রম বুঝি , বিস্মৃতির
বাকল সর্বস্ব লঘুবাবু , ঝাঁপান চলন থেকে – ডোরাকাটা
হুকুম দেবতা ঝলমল...

আলো এখানে বসেন । উনিশের । তলার বাংলা অন্ধকারে
গড়ায় একুশ অব্দি , দেশিরেলে । নিওন আলোরা সভাপতি ।
ষ্টেশন অন্ধকার দেখে সরস্বতী ঘুরিয়ে নেবেন প্রিয় মুখ ,
আমাদের দুরত্বে রচিত থার্ড ক্লাস বাংলা ভাষার এই সুখ ।


বাগানবিলাস

অকস্মাৎ হইয়া উঠিলে খুব বাগানবিলাস যদি , কী প্রকারে চিনিবে ভ্রমর !
বাক্স ভরিয়া গিয়াছে কত শাদা কালো বিবেকের গানে ,
উদ্ধার পালার নিচে হাঁটু মুড়ে যত রাত্রি তালে বা বেতালে গেল
কতটুকু নীতিকথা জানে !
গোবিন্দ জানিত যদি ভ্রমরের ক্রমশ রঙিন দিনগুলি
নিশ্চিত রাখিত হাত এইখানে , রামনিধি গাহিতে গাহিতে ।
ভাবিতে কষ্ট হয় , কেহই জানে না তবু কীরূপে যে বাগানবিলাস
উড়াল উড়াল গানে ভাসিতেছে ! উহাদের কল্পনাসভার
নীতিগত অবস্থান কতদুর বাস্তবসম্মত আমিও জানি না , সে
জানিত নিশ্চয়ই , আর জানিবার অপার ক্ষুধায়
সহজপাঠের বিধি ভাঙিয়া চুরিয়া দেখো রং ফোটে প্রভাতবেলায় ।
রঙে সকল সুন্দর                      রং দেখায় নতুন
রঙে ছলাকলা মাখা                      দারু হলুদ বন্দর
যদি ভাসাইতে থাকি                      মায়া ভাসিয়া বেড়ায়
বস্তু অনড়                      আলো ছড়াইয়া যায়
রাত জ্বালিয়ে হ্যাজাক                      গানে জমে অকস্মাৎ
হয়ে বাগানবিলাস । মায়া চিনে কী প্রকার ! মন কেবল হড়কায়
নীতিবাক্যে তাল দিয়ে মজে থাকে উদ্ধার পালায় ।