এক একটি মহাদেশ জলে পড়ে যাচ্ছে
জল উড়ে যাচ্ছে ডলারের মত
তাকে আমি জলের দামে কিনে
ইঁদুর হয়ে কাটব চশমা
নির্জনে কোমরে হাত দিয়ে
নাচঘর থেকে টেনে নিয়ে গেছ তারে
তালুতে চেটেছ একা থাকা নাভী
জানিয়ে দিই আগামীকাল তার বিবাহ
এইসব বীজানু চোখ থেকে খুলে
ভরদুপুরের সাথে ঘুমাবে সে এখন
ঘুমগুলো চোখ ছাড়া ছিল
চোখগুলো দুপুর ছাড়া ছিল
সব তুষার সাফ হলে
ঝরাপাতা নিয়ে চলে যাবে ট্রেনগুলো


ড্রয়ার খুলে কয়েকটি ছোট-বড় কাজ করা পোশাক
কোন আমলের তা মোম জ্বেলে পড়া গেল বেশ;
জিউশদের টুপির ভেতরে ও অস্পৃশ্য রসিদপত্রে দাওয়াইয়ের লিস্ট;
পুরুষ তার শরীরী শক্তি নিয়ে তখনও সন্দেহপ্রবণ।
যে তিনটা মমি উল্‌টে পড়ে আছে
কূটতর্কে ভাল করে চিনতেও পারি না।
অথচ দেহ আরকে ডুবিয়েছিল তারা!
বলেছিলাম, দাদা মশাইয়ের পদবীটাও যেন ওরা মমি করে দেয়;
সম্রাজ্ঞীর পোশাকে নিজেকে আনস্মার্ট লাগে; তাই, গাফিলতি করে করে
ফিরিয়ে দিয়েছি রোমান রাজপুত্র। এখন কে যেন
আমার পাথর-মূর্তির চুল আঁকছে
কস্মিনকালেও আমি গ্রিক ছিলাম না, তাই, ইচ্ছে
হালকাভাবে আগুন জ্বালিয়ে পোড়াতে পারতাম যদি
অশ্বের খুরে-খুরে গুঁড়ো হয়ে গেছি, তবু
নিজের চুল কোঁকড়া করি নি কখনও।


শাড়িতে জড়িয়ে গেছে ভোরবেলা
তরুনী ব্লাউসের কাঁধে হাত,
আমি কি ভোরের চিঠিতে কুয়াশা,
কিছুদিনের ভেতর শিখে গেল দুপুরও
বিচলিত ছোটাছুটিতে বোঝা যায়
এই হাওয়া খুঁটছে ঠোঁট,
গ্রহলোক ঘুরে আগে নেমে যাক যাত্রীরা
শীতল নাভী কামড়ে ছুঁড়িটা বলবে,
টলে উঠেছে কি জল, আত্মহত্যা করে দেখ।


ঘৃণা করো, করলে মনে হবে, তুমি ভিন্ন,
আমি পুড়ে পুড়ে– পুড়ে পুড়ে বিভিন্ন আগুনে
হয়েছি অংগার,
গুঞ্জন শুনে তুমি ভালো করে দেখছ আমাকে,
এই শীতে অবজ্ঞা জ্বালিয়ে বলছো, তুলে দাও জানলার কাচ’
দু’একটি শীত যাক, গেলে কুয়াশা শিখব আমিও,
ভুল হয়ে গেছে, অবজ্ঞা করি নি তাই আগে,
আচ্ছন্ন হয়ে আছি এখন ক্ষুধায়, অপেক্ষায়,
সিঁড়ির অর্ধেক এসে কে যেন দিব্যি চলে গেল চুম্বন না দিয়ে।


প্রজাতন্ত্রের আদমশুমারী মেয়ে কাঁচা রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে গেছে,
গ্রীষ্মে আবহাওয়া শুকনো থাকলেও, ফ্লাই করলো না প্যারাসুট,
মিউজিয়ামের ইজিপশিয়ান ফ্লোরে আমি, দেখছিলাম মমির
সম্রাজ্ঞীর হাত উড়ে উড়ে ছাদ থেকে, কালো চোখ যাচ্ছে
খেজুরগাছের নীচে–
এবারও কি বাকি রয়ে যাবে আমার প্রিয় ক্ষুদ্র নাম,
কাচের জাল এড়িয়ে কতবার তো হাতচিঠিতে ভ্রু শুদ্ধ
স্পেলিংএ লিখি,
জেনে রেখো, আগামী নাড়িতে রক্ত চুষবে আমার মুখ–
আদমশুমারী মেয়েটি লিখবে কুমারী অশ্রু,লিখবে,কন্যা।


শব্দেরা ঝুঁকে পড়ে ঢেকে রেখেছে
কোমরের ভাষা,
পাশাপাশি মোম, চুমুর ধ্বনি
গ্রীষ্মকাল আর তার পশ্চাদবর্তীদের হাত ধরে
নিয়ে যাচ্ছে অন্ধ প্রেমিক,
দূরের দিগন্ত থেকে ফিরবার পথে
গা খুঁটছিল পাখিদুটি
দু’ফোঁটা মুছছিল
আকাশে মেঘের ছায়া রেখে
গুলির শব্দের কথা বলে
উড়ে গেল পাখি দুটি