Nilakash O Oloukik Trek

সত্তর দশকের বাংলা কবিতা ঘিরে যে উত্তাল মিথ, তার রক্তের মধ্যে কফিহাউস –  মিছিলে জ্যান্ত কলেজস্ট্রিট –  সেই সময়ের ক্ষতসজ্জিত রাজনৈতিক পটভূমি –  দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা স্লোগান – মুক্তির দশক, স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের ছিন্ন বিচ্ছিন্ন মানচিত্র – কবিদের গ্রাম দিয়ে শহর ঘিরে নেওয়ার শপথ – এই সব উপাদান মিশে আছে। আর মিশে আছেন সেই সব কবি যাঁদের অধিকাংশই সেই অস্থির সময়ের সারভাইভার। ঠিক এই সময়ে জামশেদপুরে কৌরব পত্রিকা জন্ম নিচ্ছে। কবিদের একটা পৃথক জীবনচরিত সেখানে। সেখানে মহাকাশ-মুগ্ধ, কর্মসূত্রে মাঝে মাঝে পাতালচারী এক যুবক ১৯৭৭ সালে কৌরব পত্রিকার সংস্পর্শে আসেন। একজন নিভৃতচারী, অভিমানী, অনুসন্ধিৎসু কবির ঈষৎ আত্ম-উদযাপনময় স্মৃতিচারণমূলক ‘নীলাকাশ ও অলৌকিক ট্রেক’ নামক গদ্যগ্রন্থের কেন্দ্রকোরক কিন্তু এই নির্দিষ্ট ঘটনাটিই। তখন তাঁর জীবনকাহিনির অনেকটাই সাহিত্যের ইতিহাসের গ্রাসে চলে আসে। কারণ পাকেচক্রে এই গ্রন্থ কৌরবের ইতিহাসের–-যে ইতিহাস এতদিন প্রায় কুয়াশাচ্ছন্ন নেপথ্যে থেকে গিয়েছিল---অবিকল্প পরিচায়ক হয়ে উঠেছে।     

সাধারণত যা দেখা যায়, স্মৃতিকথায় লেখকের জীবনের অনেক ছোট ছোট অ্যানেকডোট–-যেগুলিকে la petite historie বলা হয়–- সেই সময়ের মূল ইতিহাসের ধারায় গিয়ে মিশে যেতে থাকে। এই কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অবজেক্টিভ ও সাবজেক্টিভ হিস্টোরিকাল এক্সপিরিয়েন্স-এর সহাবস্থান পরিলক্ষিত হয় আত্মজীবনীতে। কিন্তু কবি শংকর লাহিড়ীর গদ্যগ্রন্থটি এই সরল সূত্র দিয়ে বেঁধে ফেলা সম্ভব নয় ; সম্ভব যদিও বা হয়, তা সঙ্গত হবে না। একুশটি উপপর্বে বিভাজিত এই গ্রন্থ নির্দিষ্টভাবে কোনও এক প্রকারের নয় ; বরং সবকিছুর মিশ্রণ-– আত্মকথা, অ্যালবাম, সাহিত্য সমালোচনা, সাক্ষাৎকার ও বহু নাতিদীর্ঘ গদ্য যাদের বিষয় বিবিধ ; যারা প্রকৃত প্রস্তাবে কবির এক প্রকারের আত্মমন্থন। খুব স্বাভাবিক ভাবেই এ হেন পুস্তকের নাম হতে পারতো শংকর লাহিড়ীর গদ্য সংগ্রহ ; কিন্তু তা হয়নি। এর আগে শ্রী লাহিড়ী তাঁর ‘শরীরী কবিতা’, ‘মুখার্জী কুসুম’, ‘উত্তরমালা, বেরিয়ে এসো প্লীজ’ ও ‘বন্ধুরুমাল’– চারটি কাব্যগ্রন্থের কবিতাসংকলনকে কাব্যসমগ্র নয়, বরং ‘সমুদ্রপৃষ্ঠাগুলি’ হিসেবে নামাঙ্কিত করাতেই একটি প্রবণতা সূচিত হয়েছিল। বিভিন্ন গদ্য বা কবিতার আলাদা আলাদা অস্তিত্ব থাকলেও মিলিতভাবে তারা আলাদা একটি পরিচয় লাভ করে-– সম্ভবত এই ছিল সম্পাদনার এক প্রস্তাবনা।

ভূমিকা থেকে জানা যায়, এই গ্রন্থের অনেক লেখাই আগে অন্তর্জাল মাধ্যমের পত্রিকায় আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত। প্রায় খোলা ডায়েরির নামান্তর- সোশ্যাল মিডিয়া পাঠক/দর্শকের সঙ্গে লেখকের সরাসরি যোগাযোগের একটা পরিসর তৈরি করে দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা পীড়াদায়ক হয়ে উঠলেও, গ্রন্থবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শংকর লাহিড়ী গদ্যগুলির সঙ্গে মাঝে মাঝে পাঠকের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াও জুড়ে দিয়েছেন, ক্ষেত্র বিশেষে তার প্রতিক্রিয়াও যুক্ত হয়েছে কবির পক্ষ থেকে। সুতরাং কবি- লেখা ও- পাঠকের প্রতিক্রিয়া – এই চিরাচরিত বৃত্তটির পরিধি এখানে অনেকটা বড়।

শংকর লাহিড়ী এই গ্রন্থে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন সাহিত্য সমালোচনা ও চর্চা সম্পর্কিত বিষয়ে। সাহিত্য সংক্রান্ত অ্যাকাডেমিক লেখালেখির একটা বড় সীমাবদ্ধতা হল এই যে সমালোচনামূলক লেখায় নৈর্ব্যক্তিকতা অটুট রাখতে ও দৃষ্টিভঙ্গীতে প্রায় গাণিতিক সূক্ষ্মতা আনার উদ্দেশ্যে তা প্রায়ই সাহিত্যে রুচি ও কাব্যমূল্যের দিকটিকে আচ্ছন্ন রেখে দেয়। মূলতঃ এইধরণের লেখার চরিত্র হল এক্সপ্লোরেটরি। অথচ সাহিত্যসমালোচনা তো ইভ্যালুয়েটিভ হবে – এমনটাই বাঞ্ছনীয়। সব লেখা যেমন একজন লিখতে পারবেন না, সব লেখা তেমনই সবার জন্যেও হতে পারে না। রুচির পরিসর একজন শিল্পীকে অনন্যতা দেয়। কিন্তু ইভ্যালুয়েটিভ জাজমেন্টের ফলে যে আশু কিছু বিপত্তি উপস্থিত হতে পারে তার প্রমাণ এই গ্রন্থেই মুদ্রিত। ‘রৌদ্রময় সকাল ও জ্বলন্ত হ্যারিকেন’  গদ্যাংশটি বারীন ঘোষাল বিরচিত  ‘অতিচেতনার কথা’  গ্রন্থের একটা সমালোচনামূলক পাঠ। এবং তাতে অবশ্যই ব্যক্তিগত স্মৃতির অনুষঙ্গ এসেছে। অতিচেতনার কথা প্রস্তাবিত কাব্যতত্ত্বকে সে গদ্যে অস্বীকার করে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করায় শ্রী লাহিড়ী একটি বৃত্তের প্রায় waspish polemics - এর শিকার হন। উল্লখেযোগ্য এই যে, সে ঘটনার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ লিখিত তাঁর ‘এ দুখবহন করো মোর মন’ গদ্যে তাঁর বাচনশৈলী সমগ্র বইয়ের মূল ভঙ্গীর থেকে পৃথক হয়ে যায় – আহত, ক্লান্ত, সজল।

আসলে স্বদেশ সেনের কবিতার গুণ হিসেবে যে অর্জিত ডিট্যাচমেন্টের কথা শংকর লাহিড়ী উল্লেখ করেছেন, পাঠক আবিষ্কার করবেন, এই ডিট্যাচমেন্ট তাঁর নিজস্ব লেখালেখিতেও আছে।

“একটা অর্জিত ডিট্যাচমেন্ট, যার কথা আগেই বলেছি, যে জন্য কবিতায় তাঁর অবস্থান কিছুটা দর্শকের মতো, মহৎ কথাশিল্পীর মতো”। (১৮৯)

একটি নমুনা উদ্ধৃত করা যেতে পারে তাঁর শৈশবস্মৃতি পর্বে, লক্ষ্য করা যাবে, যতই করুণ বা জমকালো চিত্রকল্প বা স্মৃতির টুকরো থাক না কেন, অনর্গল বলে যাওয়ার ভঙ্গীটি থেকেই গিয়েছে। কোথাও থমকে চশমার কাঁচ মুছে নেওয়ার অবসরটুকুও নেই।

“ছুটির দিনে সকাল বেলায় বাবা-কাকার কোলে চড়ে বেড়াতে যেতাম। তখন পালোয়ানরা আখড়ায় মুগুর ভাঁজত, আর ভিস্তিরা রাস্তাগুলো ধুয়ে দিত হাইড্রান্টের গঙ্গাজলে। বাড়ি ফেরার সময় ওই সরু সর্পিল গলিপথে একটা বাড়ির খোলা জানালার গরাদ ধরে এলোচুলে দাঁড়িয়ে থাকত কল্যাণী নামের এক উদ্ভ্রান্ত পাগলিনী। গলির মুখ থেকে কখনো শোনা যেত তার শীতল চিৎকৃত সুরেলা গান ‘মধুর আমার মায়ের হাসি…’ আর আমি ভীষণ ভয়ে মুখ ঘুরিয়ে থাকতাম। বাড়ি ফিরেও আর একটা হার্ডল ছিল। বাড়ির ভেতরে ঘোরানো সিঁড়ির পাশে মিহি অন্ধকারে হাতুড়ি দিয়ে কয়লা ভাঙত এক মাঝবয়েসী ভারী মেয়েমানুষ। তার আবলুশ কাঠের মতো রঙ আর গুড়াকু-উজ্জ্বল দাঁত নিয়ে সে আমাকে দেখলেই অন্ধকারে ঝাঁকিয়ে বলে উঠত, ‘ছুঁ-য়ে দেবো’। তখন আমার বছর দুই বয়েস ; তখনো আমি ঠাকুমার ঝুলির গল্পগুলো পড়িনি”। (২৬-২৭)

অথবা,

“আমার মেজোপিসি ছিল স্কুলের টিচার, বালবিধবা, মা যাকে ঠাকুরঝি বলত। অমবস্যার রাতে আগুনে পুড়ে পিসেমশাই মারা যান। শীতকালে আমাদের ছোট্ট ছাদে বিউলি ডালের বড়ির বিয়ে দিত পিসি, তেল হলুদ মাখিয়ে, সিঁদুর পরিয়ে। কখনো দুর্বৃত্তের মতো কয়েকটা হনুমান এসে ঝাঁপিয়ে পড়লে লণ্ডভণ্ড হয়ে যেত বিয়ের আসর। কখনো পিসি সারা রাত জেগে শিবের পুজো করত,” (৪০)

এবং লক্ষ্য করতে হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবেগতাড়িত না হয়ে শংকর লাহিড়ী আবেগকে বর্ণনা করে চলেছেন। এটা কি তবে স্মৃতির সহজাত অশ্রুর থেকে কবির নিষ্ক্রমণের পথ? উত্তরে আরেকটি উদ্ধৃতিঃ

“বুকর‍্যাক থেকে ‘শ্রেষ্ঠকবিতা’ নামিয়ে পাতা উল্টিয়ে ‘সিন্ধুসারস’ কবিতাটা বের ক’রে কমলদা আমায় পড়ে শোনাতে লাগল… পড়তে পড়তে দেখলাম, তার দু-হাতের রোমকূপে শিহরন, গায়ে কাঁটা দিয়েছে। শ্বাস ক্রমশ দ্রুত, মুখ রক্তিম। আরও কিছু পরে… কমলদা হঠাৎ হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। আমি এরকম কখনো দেখিনি! একেবারে হতবাক হয়ে গেলাম। কবিতা পড়ে সে বয়সে আমার কখনো গায়ে কাঁটা দেয়নি, কান্না পায়নি, সবটাই ভেতরে আবদ্ধ হয়ে ঝড়-জল-সঙ্গীত হয়ে থেকে গেছে। আমার কেন গায়ে এমন কাঁটা দেয় না? ভেবে, সেদিন আমার খুব লজ্জা হয়েছিল”। (১৩০)

জন্ম ১৯৫০, আদি শৈশব কেটেছে জামশেদপুরে মাতুলালয়ের উঠোনে যেখানে ছিল বিশ্বযুদ্ধ থেকে বাঁচার বাঙ্কার। কৈশোর কোলকাতার উত্তরে, কিন্তু কোলকাতার ছায়াবর্জিত থেকে গেল তাঁর কবিতাজীবন। যে জীবন সমাজবিচ্যুত নয়, সংসারী। নেশাগ্রস্থ নয়, সজাগ। দায়িত্বজ্ঞানহীন নয়, নিবিষ্ট। কল্পনা করা যায়, এই উচ্চারণগুলো উঠে আসছে যখন শংকর লাহিড়ী পূর্ণদৈর্ঘ্য এক আয়নার সামনে উপবিষ্ট।

কৌরবের সুবিখ্যাত কবিতার ক্যাম্পগুলির কথা ; স্বদেশের সেনের সাক্ষাৎকার ; কৌরবের স্বর্ণযুগ ; এবং কালের নিয়মে কৌরবের প্রভার অস্তমিত হয়ে যাওয়া ; কবিতা সংক্রান্ত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ; নতুন কাব্যধারণা ; ভাল পাহাড় – স্বপ্ন ও স্বপ্ন ভঙ্গ – এর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে কবির বিস্ময় সুপারনোভা নিয়ে। গভীর জঙ্গলে ভ্রমণ। বহুজাতিক সংস্থায় কর্মসূত্রে থেকেও স্বপ্ন দেখার মহড়া অব্যাহত রাখা। নিয়ন্ত্রিত অক্ষরের স্রোত। এই গ্রন্থে কবিতা সম্পর্কিত কথা ছাড়াও রয়েছে নানা সময়ে করা ছোট ছোট সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, জার্নালের মতো বিন্যস্ত। ডাইরি যেভাবে স্বগতকথন বহন করে, সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায়, হয়ত বিশ্বব্যাপী এক্সপোজারের সম্পর্কে সচেতনতাতেই, প্রক্সিমিটিটা – ব্যক্তিগত পরিসরের সমীকরণটি – আলাদা হয়ে যায়। নির্মিত হয় লেখার একটা নিজস্ব ঘরাণা। বিবিধ বিষয়। বাইশে শ্রাবণ। চার্লস টমলিন্সন। ভয়েজার উপগ্রহ। প্রাচীন ইতালীয় বিজ্ঞানী যেনো-র ধাঁধাঁ।

এই গ্রন্থে কবিতা সম্পর্কিত তাঁর কিছু নিজস্ব ধারণা দিয়েছেন শংকর লাহিড়ী। কবিতায় নতুন ভাষার নামে সমৃদ্ধ বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে জিভ ভেঙচানোর মতো যে উন্মত্ত আস্ফালন শুরু হয়েছিল এককালে – তার বিরুদ্ধে তাঁর স্বচ্ছ মতপ্রকাশের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। গ্রন্থের শেষ উপপর্ব ‘একুশ একটা বিষয়’-শীর্ষক গদ্যাংশে কবি তাঁর সমগ্র জার্নির একটা কন্টেমপ্লেটিভ রিক্যাপিচুলেসন রেখেছেন। কিন্তু এবার জগৎটিকে দেখা তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলির ভিতর থেকে। কিছু বহু পঠিত, কিছু স্বল্প। তবে যেহেতু পাঠকের প্রিয় কোনও কবিতা পাঠকেরই জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, সেই কারণে কবিকর্ত্তৃক ‘মুখার্জী কুসুম’ বা ‘বন্ধুরুমাল’ কাব্যগ্রন্থের বিভিন্ন লেখায় ব্যক্তিগত অনুষঙ্গের অবতারণা কিছু ব্যাখ্যা হাজির করে। এই আয়োজন পাঠক মেনে নিতে চাইবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়াতীত কিছু বলার সুযোগ নেই। তবে কবিতায় নতুন ভাষার প্রসঙ্গে ক্রমপরিবর্তনশীল পৃথিবীতে আলোক-সন্ধানী কবির প্রজ্ঞার কথা তিনি নানা ভাবে উল্লেখ করেছেন এই গদ্যাংশেই। উল্লেখ করেছেন নন্দনতত্ত্বে প্যারাডিগম্যাটিক শিফটের কথাও। আবার সাক্ষাৎকারে ইদানিংকার কবিতায় ছন্দের প্রাসঙ্গিকতা আছে কি না- এই হেন অর্ধমনস্ক প্রশ্নের উত্তরে শ্রী শংকর লাহিড়ী – যিনি আদতে কবিতার সঙ্গে সাধনা শব্দটিকে আঁকড়ে থাকা ক্রমবিলীয়মান সেই কবিদের একজন – কবিতা চর্চার একটা আবশ্যক অনুশাসনের দিকে নির্দেশ করেনঃ

…ছন্দ তোমার কানে বাজবে আর মনের ভেতরটাকে দোলাবে…ছন্দকে ভাঙতে গেলেও জানতে হবে ঠিক কোন কোন জায়গাগুলোকে আলগা করে দিতে হয়, কোনখানটাকে ক্লিপ করতে হয়। এটা খুব ইন্টারেস্টিং ব্যাপার, এবং অবশ্যই প্রাসঙ্গিক… (৫১৬)

মনে ধ্বনিত হয় শক্তির অমোঘ পংক্ততিঃ  “ভাঙারও নিজস্ব এক ছন্দ আছে, রীতি-প্রথা আছে…”।

সুন্দর পরিপাটি প্রায় সাড়ে পাঁচশো পাতার গ্রন্থটিতে ইতস্তত কিছু মুদ্রণপ্রমাদ রয়েছে। বইয়ের পরিশিষ্টে বর্ণানুক্রমিক নির্দেশিকাটি দেখলেই আন্দাজ করা যায় কতটা পরিসর দখল করে আছে বইয়ের বিষয়। আলোচিত কবির নাম ও তত্ত্বের উল্লেখ সেখানে গবেষণাধর্মী পাঠককে সাহায্য করবে, সাধারণ পাঠক নিশ্চয়ই বেছে বেছে বইয়ের অংশ নির্বাচন করে পড়তে চাইবেন না। অঙ্গসৌষ্ঠবে একটি অসঙ্গতি নজরে আসে, বইয়ের প্রথম ব্লার্বে – যেখানে রীতিমাফিক পুস্তক পরিচয় থাকার কথা – তার জায়গা নিয়েছে দ্বিতীয় ব্লার্বের ম্যাটার – লেখক পরিচিতি। ফলত দ্বিতীয় ব্লার্বে কবির ছবির তলায় শূন্যস্থান চোখকে একটু পীড়া দেয়। তাতে অবশ্য পাঠকের পর্বতারোহনের আনন্দে ভাটা পড়ার কোনো আশংকা নেই।

------ ০ ------