একটা বাড়ি ক্রমাগত ঘর বার করছে। তার ছাদে আলসে লাগানো চিলেকোঠা। চিলেকোঠায় নিষিদ্ধ বইসব। মেঝে ফাটানো সেলার। সেলারে পিপেতে নিষিদ্ধ পানীয়। একটা ঠিক পোকা নয়, বুকে হাঁটে এমনও নয়, হামাগুড়িও দেয় না, দাঁড়ায় যে তেমনও না একটা অতি বদসুরৎ ঢ্যামনা গোছের কী যেন কী একটা গুটি গুটি চিলেকোঠায় ওঠে আবার গুটি গুটি নেমে মেঝের ফাটলে ঢুকে যায়।
কেউ কেউ বলে, তাকে দেখেছে। তার বেশী বানিয়ে ছেড়েছে তাকে। বিশ্বাস করেছে। করিয়েওছে বেশ কিছু।
তাদেরই কারো কারোর বাড়িটায় ঢুকলে মনে হয় মালটা লেপ্টে আছে কোথাও। হাতের মুঠো থেকে থকথকে বেরিয়ে ছিটকে পড়ার মতো জেলীসদৃশ কোথাও পড়ে আছে।
তারা কেউ কেউ উঠোন মারালেই বাড়িটা অস্থির হয়ে পড়ে। ঘর বার করতে থাকে।
একতলাতেই মনে হয় এথলেটিক ক্লাব ছিলো, পরে যুবর ইউনিট কোথাও একটা বসতো, যখন রাংতাপোড়ানো এলো তখন পুলিশ রেইড করেছিলো, এখানেই নীলাঞ্জন, মানে নীলু, সুদীপ্তাকে পেট থুড়ি গর্ভ দেয়, শিব মন্দিরে পুজো করতো আশীষ চিলেকোঠাতেই দড়ির সাথে লাট খাচ্ছিলো, মেঝের ফাটা থেকে বেরিয়েছিলো ঝুমার মা, অনেকটা উবু হয়ে অনেকটা ছড়িয়ে বাসন মাজতো-র পলা পরা একটা হাত।
এই বাড়িটা প্রমোটারেরও অরুচি। সরু এক অন্ধ গলির শেষ প্রান্তে দুকাঠার থেকে সামান্য বেশী জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
থাকতে দাও। থাকতে দাও।
বারো শরিকের বাড়ি। যেমন আছে থাকতে দাও।
বারোজোড়া জানলা আর বারোটা দরজা। যখন যেমন রোদ ছায়ায় বন্ধ হয় খোলে, হতে দাও।
প্রবেশাধিকার নিষেধ লটকে আছে বিপজ্জনক বাড়ির নিচে। কবে সেই লটকেছে।

গোচরের ভেতরে ও ভেতরের বাইরে আমি খালি সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে উঠি।
নামিও সিঁড়ি ভেঙে। ভেঙে।

এতোসব তালিতাপ্পির জোরে।