||সমুদ্রশ্রুতিকে ||

পর্ব ১.

যে ভুল লাবণ্য আনে ,তার পাশে বসে থেকো আজীবন।

ভোর হলেই আমার গোটা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে তানপুরার সা পা সা।সকালে উঠে রেওয়াজে বসতে মন চাইছিল না।গতরাতে একটাই মুখ মনে পড়ছিল।আমার না হওয়া সন্তানের মুখ।প্রজননের সমাধি-গণ্ডুষে আমি অন্য কারোর ভুলে কাঁদি।যোনির কষ বেয়ে নেমে আসে ব্যর্থতার ফুলমালা।আমার শরীরজোড়া গৃহস্থালিতে মাটি মাটি মন।কোন ভালোবাসাই ভুলি না আমরা,মায়াটুকু রয়েই যায়।জংশনের হাটে তবু ছেড়ে আসি নীরব প্রেমিকদের।বেঁচে থাকতে গেলে জ্যান্ত প্রেমের প্রয়োজন।সমুদ্রশ্রুতি ,আজো আমি সেই নামহীন মগ্ন প্রেমিকের ফ্ল্যাটে জানালার ধার ঘেঁষে গাঁজা মদ খাই,আর চুমুও।হাইরাইজ ফ্ল্যাটের খোলা জানালা দিয়ে ঝাঁপতাল আমাকে ডাকে।আমার মরতে ইচ্ছে করে।ভুলের লাবণ্যে ভরে উঠি আমি।সমুদ্রশ্রুতি, চান্দরমাসের শীলমোহর স্তব্ধতায় লুকিয়ে ঐ মগ্নজনকে বলা হয়ে ওঠেনি,আমি ওকেও ভালোবাসি।ভাত আর অ্যালকোহল একসাথে মেখে খেতে বসব।সন্তানের মুখাগ্নি করেছিল আমার অকৃতজ্ঞ দাম্পত্য।পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে এসেছি সপ্রতিভ শূন্যতা।শরীর শরীরকে চায় জানি,তবু ঔপনিবেশিকতার মুখোমুখি হব না।বুড়ো বটসারিগাছমাখা ঘরে বন্ধ জানালাকে স্থিতিস্থাপক বানিয়ে আমি চলাচল করব নীলাঞ্জনের 'সামাল সামাল' রবে।ডঃ সাহেবের আজ থেকে নাম দিলাম নীলাঞ্জন।বেসামাল প্রেমিকার জন্য প্রস্তুত হোক সে।
গ্রহণের দরোজা খুলে আমি পাহারা দিচ্ছি ভালোবাসার সূর্যবুড়োকে আপাতত।

ছেড়ে আসছি আতরসুবাস পুরুষবৃন্ত।উপেক্ষা কিংবা উপুড় করা ভালোবাসা কোনটাই আমার সহ্য হয় না। পুরুষকথা লেখাটা শেষ হচ্ছে না।পাঁক ও জঙ্গলজাত জীবনে সম্ভ্রান্ত মাছির মতো বসে আছে ভালো থাকা।নির্লিপ্তি কামড়ে ধরে উদাসীন গলা।যত বলি অপরাধী হয়ো না,ততটাই দূরে যাই আরো।
তুমি অনেকটা মরফিনের মতো।ছাড়বো ছাড়বো করি কিন্তু ছাড়তে পারি না।এই নিয়ে চারজন ভীষণ সালিশী,তবু ওরা থাকে সেই দেশে যাকে বলে উড়োনদী।রাস্তা চলুক ও নদী বেয়ে।

-সেই একটা রাস্তা।
-ভারি সুন্দর ,আপনারা দেখেছেন কি?
-যতটা মন দিয়ে দেখার দরকার ছিল,ততটা মন ছিল না।
-সেজন্য রাস্তাটা ভুলে গেছেন,এই হয়।

আয়নামনের ঘরটায় নিভে আসছিল শব্দ।লয় যত শান্ত হয়,তত দ্রুত স্থির হয় বুকের মাঝের লাবডুব।বুকছাপের কার্ভিংগুলো জানান দেয় বেঁচে আছি।গতরাতে ও খুঁড়ে ফেলেছে অশান্তির সত্য।নিম্নচাপের মেঘে ছেয়ে যাচ্ছে শহর।মনও।রাজহাঁস হাতে চেপে ঘরে ফিরেছিল যে নাবিক , সে এখনো জানেনা কবে যাবার ডাক আসবে,শেষ ডাক হয়তো।ভাসানসই প্রিয়তমাকে শেষবার ছুঁয়ে দেখব।কোন কোন সত্য অসত্য হলেই ভালো।

কখনো কখনো গুচ্ছকথারা চুপ করে যায়,নদীকে হাজারজন কলসে ভরতে এসেছে বলে।কান্না পেলে হব ধোঁয়া।অসহমালা ছোঁয়ারা থাক হৃৎপিণ্ডে।কিছুই হবে না বলা,পাতালেই মরুক বসন্ত।

সমুদ্রশ্রুতি , নিভন্ত চুল্লির ওপর বসে বৃষ্টি মাপছিল আজন্মের কোন কোন শত্রু।আর হাইরাইজের ফ্ল্যাটের জানালার ধার ঘেষে বসেছিল পায়রা।আকাশে দেখা মিলেছিল নীল তিমির ,রোদের ঘাম শুঁকে সন্ধের পাড়ে জ্বলছিল বাতিঘর।বসন্তসেনা আদুরে পুরুষ সেজে এসেছিল যে রাতে,রাজারহাটে গুমঘরে মরেছিল আমার মতোন কেউ।ঠিক আমি নই।আমার অনেক নকল আছে চলতি বাজারে।ইচ্ছে দর্শন প্রমুখ প্রমুখ নামবিশেষণ জুড়ে বেঁচে থাকে তারা।বোধিসত্ত্বের বিষাদ রোপণ করেছে কোন কোন জন খেউর না ভেজে।ওদের সাথেই কাটিয়ে দেব মৃত্যুর জনম।

সমুদ্রশ্রুতি, ঘরে ফিরতেই হয়।করোটির ক্লান্তিছাপ মুখে মেখে শাঁসভুক সংসারী মেয়েদের ফুলচারা শাড়ি হাতে নিলে মনে পড়ে কত কিছু।আমার শান্তি অশান্তি আমূল কোন গৃহিণীর বুকে বিঁধে আছে।কোন কোন মেয়ের গায়ে গন্ধ লেগে থাকে সংসারের।তাদের চলন বুঝিয়ে দেয় ,নিজস্ব একটা পুরুষ থাকার সুখ ঠিক কেমন! নীলাঞ্জন বলেছে আমার লেখা নাকি আমার থেকে বেশি শক্তিশালী।আমাকে চেনা যায় না,যখন লিখতে বসি।আমি তবু লেখাও ছেড়েছিলাম সংসারের আসক্তিতে বিভোর হয়ে।লেবুপাতার ভোর,ধুনোর গন্ধ উপচে ভরা সন্ধেগুলোতে আমার কোন নিজস্ব পুরুষ ছিল না।তবু ঘর ছিল,নিকোনো ছাদ ছিল।কোমরছাপানো প্রখর চুলে লুকোনো ছিল 'তুমি' নামক আশাতুর শীৎকার।কেউ ছিল না,নেইও।শরীরব্যাপী ছড়িয়ে রেখেছি শাসন আর বোঝাপড়া।পুরুষথাবার সামনে আমি ডমরু বাজাতে জানি।চোখ চাঁদ আর ছিটকে ওঠা জলকণার ভেতর নারীকেই নিয়ে যেতে হবে পতঙ্গ-রোখো বাগানে।

নষ্ট হবার সময় হলে মানুষ নিজেকে রুখতে পারে না।আসলে নষ্ট বলে কিছুই নেই।ভ্রষ্ট বলেও নয়।

আমি তবু জ্বরের মধ্যে ভঙ্গুর শরীরে যত্নের হাত খুঁজি।পেশাদারিত্বকে লুপ্ত করে যে ছেলেটা উবেরে যত্ন করে তুলে দিয়েছিল ,আমি তাকে হাত নেড়ে উবেরে দূরগামী হই।ভালোবাসায় পল কে সম্বল করে কখনো কখনো পেরিয়ে যেতে হয় যা সব সম্ভব ছিল।উদাসীন অপেক্ষায় আমি এড়িয়ে চলতে চাই ফেলে আসা দাম্পত্যের রহস্যবলয়।

কাচনির্মাতা জনৈক কেউ হাইরাইজের ফ্ল্যাটে দাঁড়িয়ে ঠিক করুক সে মন্দারমণি যাবে কিনা!

আমি বরং যাব আসংবিধানিক আলোর হে-মূলক গানে।

খালেদ চৌধুরীর সাজানো মঞ্চ দেখেছি,জীবনকে খুকু মনে হয় তাই।

সমুদ্রশ্রুতি,মুকুল বলে ডেকেছিলাম যাকে সে আসলে জন্মান্ধ।মগ্ন প্রেমিক বেতালা বেভুলো।নীলাঞ্জন মুখ রেখো গোছের ভালোবাসায় পুরোনো প্রেমিকাদের স্মৃতিতে আতর।আমি তাই সিঁড়িতে যাবো।ইদানিং মনে পড়ে কোথায় কবে সাদা পোশাকে বাগানে ঘুরতাম।সাদা ফ্রকটার সাথে মনে পড়ে সেই অল্পবয়স্ক ছেলেটাকে,যাকে এ জন্মে ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।সে আমার বর ছিল।হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আচমকা স্পষ্ট মনে পড়েছিল সেসব স্মৃতি।জেনেছিলাম নান হবার আকাঙ্ক্ষায় ঠিক কখন কাকে ছেড়ে এসেছি।সে আমাকে আঘাত করবেই।মাফ করেছিলাম তাকে আগাম।বলিনি ওকে।বলেছি তোমাকে সমুদ্রশ্রুতি।বরাবর মনে পড়ে আমার সেই নাচনেওয়ালী মাকে।কী সুর তার গলায়!প্রতি ভোরে আমি রেওয়াজে বসতাম ,আর জমিদার বাপ ছক কষতে কষতে ক্লান্ত হতো না।ভাইটাকেও এমনকি মেরে ফেলা হয়েছিল।মাটির নীচের গুমঘরটায় চুপি চুপি গেছিলাম।কাউকে বলিনি।সিঁড়িতে রাখা বড় ঘড়িটার কাছে প্রায়ই যেতাম।আজো সিঁড়িতে যাই।ছন্দ ভঙ্গী নাচ গান এমনকি মন্ত্র তন্ত্র এসব আমার সহজাত।আমার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক জনম।আমার আনজনমের প্রিয়া সে আর আমার ঘরণী নয়,বান্ধবীমাত্র।ঝাউমোচরের শব্দে আমি আলো অন্ধকারে যাই।আমার সন্তান জন্মের পর আমি মরে যাই সংসারের সাধ নিয়ে।ফের সন্তান জন্মের এক বছর পরে আমি আত্মহত্যা করি আফিম খেয়ে।মৃত্যুর সাথে যাপন শেষ হয়নি আর।চরাচর ফুরোলেও আমি যেতে পারিনি বেশিদূর।মওকা বুঝে কাছে ডাকি আরবি মাগীকে।সাথে যদিও দালালও জুটেছিল।ওকে চুমায় চুমায় ঘর শেখাতে চাইছি।ঝুপরিতে সন্ধে নামছে।আমার ফেরবার কোন ঘর নেই সমুদ্রশ্রুতি।আজ সকালেই জ্ঞান হারিয়েছি মিনিট পাঁচেক।

 

||সমুদ্রশ্রুতিকে ||

পর্ব ২.

সমুদ্রশ্রুতি , সমুদ্রশ্রুতি।

এমনিই ডাকতে ইচ্ছে করে।

লিখেছিলাম - মনে পড়ছিল তোমাকে আচমকা।
তুমি লিখলে- প্রেম

শব্দটার পরে কোন কমা বা বিস্ময় বা জিজ্ঞাসা কিছুই ছিল না।স্মার্ট প্রেমিকদের মতো এর আগেই আমার হ্যাঁ বা না এর তোয়াক্কা না করে বলেছিলে- "তোকে আমি ভালোইবাসি , আর তুইও বাসিস এদিক-সেদিক...  মানে আমাকেই ভালোবাসিস আর কী!"

আমি নীরবতা ভেঙ্গে বলেছিলাম- "আমি কাউকেই ভালোবাসি না।"


মালবিকা অগ্নিমিত্র একে অপরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।ধারিণী , ইরাবতীরা অন্তঃপুরের ঠিক কোথায় ?আমি ভাবছি , মধুকরিকার রোলটা নেব!
নৌকা চলেছে মাঝগঙ্গায়।আন্ধাররাতের ছবিতে সবই ঝাপসা।সমুদ্রশ্রুতি , আমি তোমাকে ভালোবাসি না ।তুমি অপেক্ষা করতে না শিখলেও আমি 'উপেক্ষা' শব্দটাকে আয়ত্ত করে ফেলেছি।সমুদ্রশ্রুতি , শোনো ভুলেও কখনো আমার মাঝরাতের ভিডিও কল ধরো না।আমার আসলে তখন জলে ঝাঁপাতে ইচ্ছে করে।আর তুমি তখন ঠিক মাঝগঙ্গায়।

মাতাল কাকাকে জাপটিয়ে ঘরে ফেরাচ্ছিল ছেলেটা।খেয়াল করেনি মাদার টেরিজার মূর্তির পাশে ভূতের মূর্তিটা কালো খঞ্জনী নাড়ছিল।আমার জ্বর বাড়ছিল, সমুদ্রশ্রুতি।আমার ঠোঁট নরম।মা ছোটবেলায় টুসকি মেরেছিল, ফুলে ঢোল হয়ে গিয়েছিল।কাটলে সারতে সময় নেয়।বয়সে ছোট প্রেমিকের চোখে চোখ রেখে দেখেছি দেশি থিয়েটার,আর বছর তিরিশের বড় প্রেমিকার চোখে যৌবন।পৃথিবীর সমস্ত বুদ্বুদই জানে তাকে হারিয়ে যেতে হবে ।তবু তারা আমার জ্বর বাড়লে ঠাণ্ডা হাতের চেটোতে এসে দাঁড়ায়।আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকি পাড়ার মোড়ের লাল গাড়িটার সামনে , যেখানে আমাকে ড্রপ করে দিয়ে ফিরে গিয়েছিলে।প্রেম - ভালোবাসা নিপাত যাক , এই মি টুয়ের জমানায় সমুদ্রশ্রুতি আমি শুধুই বন্ধুত্ব করতে শিখেছি এতদিনে।সবুজ খর্খরির পাশের কাচের জানালার ওপর দিয়ে ঝোলানো ঐ তিনটে আলো-দুলালিদের কসম ,উনুনের গনগনে আঁচে চিলি পর্ক রাঁধতে রাঁধতে একটুও তোমার কথা ভাবব না।বরং কাল ভোরে উঠে রেড ওয়াইন আর জিঞ্জার ওয়াইন বানাতে বসব।শীত আসছে।ডিসেম্বরের আগে ওয়াইন বানাবার পর্ব মিটিয়ে পাড়ি দেব খোয়াইয়ের পথে।আমার জ্বর বাড়ছে সমুদ্রশ্রুতি ।আস্ত সূর্যাস্তকে পুষব ভাবছি।আদুরে গলায় তুমি বলবে সূর্যাস্তের সময় ...থাক , সেসব ।নষ্ট হবার বয়স হলে শাল-জঙ্গলে ঘনিয়ে আসে পূর্ণদুপুর।

বীয়ারের গ্লাসটা রাখো।ফ্রিজের দরজা খুলে খাবার খুঁজো না।টেবিলের মাখনকৌটোর ঠিক পাশে রেখে এসেছি তোমার জন্য গরম ভাত।

তোশকের ঠিক তলায় চাবিটা রাখা ছিল সমুদ্রশ্রুতি ।

একটাই প্লেটে আঙুল দিয়ে মাখা হচ্ছিল ভাত-মাছের কোপ্তা-আলু।'ক্ষমা' শব্দটাকে পুষতে শিখতে হয়, তারও আগে জানতে হয় 'আশ্রয়' দিতে।গ্রাফোলজিতে এক্সপার্ট দুটো বিড়াল চোখ এক গ্লাস জলের দিকে তাকিয়ে কবিতা শুনতে শুনতে খুঁজছিল কবির হাতের লেখা।হাতের লেখা অনেক কিছু বলে দেয়।ট্রমা , ইগো, দোটানা , আঘাত ! আপেক্ষিক কোন কোন সিচুয়েশনকে চিনিয়ে দেয়।পিঠের আঁচড়ের দাগ মিলিয়ে যাবার আগেই অতশত বুঝতে না চেয়ে কুমির-ডাঙ্গা খেলতে খেলতে অতীতের দিকে হাঁটতে হয় , ভয় পেতে হয়।সোহাগী নারীরা 'বর' শব্দটাকেই ভয় পেতে শুরু করেছে প্রাকজন্মকাল থেকে।

এই অব্দি বলে থামছি, সমুদ্রশ্রুতি।আমি তোমাকে কখনোই কোন কিছু স্পষ্ট বলিনি।বলবও না।অনেকটা দেরী করলে আমি দূরে যেতে পারি।অভিমান শব্দটাকে মোটাদাগ দিয়ে চিনিয়ে দেওয়া আমার ধাতে নেই।একটা মানুষ আর একটা মানুষ থেকে দূরে যায় না, যেতে পারে না বলেই।তাদের সময়টুকু একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়।রাত্রি হলে আমি দর্শনের কাছে এসে বসি ,কান্না পায় বলে।তোমাকে চিনতে চাই না এসময়।নিজেকেই প্রশ্ন করি - তোর ঘর কোথায় বানজারা ? দীর্ঘতম চুমুতে প্রবেশ করেছিলাম বলে আমি ঘরে ফেরার পথ হারিয়ে ফেলেছি ,সমুদ্রশ্রুতি।কিংবা পথই আমার ঘর!ঘরময় পথ ,পথময় ঘর ।উল্টানো ছাতা পছন্দ বলে বৃষ্টিকে মাসকাবারির দরে কিনিনি ।

পুরুষ তোমার নামের শেষে কান্না ফেলে রাখি।

 

||পর্ব-অপর্ব||
-------------------

ভাঙা আঁশবটি দিয়ে আমি খুঁড়ে নেব খাঁজকাটা ঢেউ।উটেরা ছুটছে।ভেবেছে সূর্য কমে এলে শান্তিজল পাবে তোমার কাছে।পৃথিবীর তিনভাগ জলে তাই আমার সমস্ত অপমান।একদিন জন্মবীজ স্ফুটনের আগে ঘেরাটোপ বারান্দায় ডিটিপি বসেছিল।জানি , সমুদ্ররা তলিয়ে যাবে চাঁদের প্রেমের চটকা ভাঙার আগে।ওরে পাখি , তোর ডানায় কেন রক্তদাগ ! আমার অসহ্য অসহায়তায় কেউ কেউ গোপনে শ্মশানে পোড়ে।গঙ্গার জলে মাঝে মাঝে চোখে পড়ে নায়গ্রা - ভেনিস, বুকচেরা শার্পলাইনে চুমুর ছোবল।কেন্দ্রিকতায় যাবার নামে আদুল গায়ে তুমি খোঁজো আমার সর্বনেশে কবিজন্ম।অথচ আমি উপগ্রহের তোলা ছবিতে সমস্ত দেখেছি।

আঁশবটি দিয়ে খুঁজে নেব খাঁজকাটা ঢেউ।আর সকলের মনঃপীড়ার দিকে আমি আর কিছুক্ষণ যেতে চেয়েছিলাম। ধূলোয় লুটোল মেঘলা।লজ্জা নেই।নরক গুলজার।জানি, এভাবেই ওরা কৃত্রিম কলহ বাঁধিয়ে মাদুর বেছানো তেতলার ছাদে ছড়িয়ে দেবে ভেঙে যাওয়া ভাঁড়।টেবিলের মাঝখানের টেলিফোনেরা বোবাকালা হয়ে গেলে পরশুদিনই ওরা কাঁদবে।আর তারপর হারিয়ে যাওয়া মোবাইলে কেউ জ্বরিতস্বরে বলে দেবে মিথ্যের পরের সত্যি।আমি কাঁদি, রোজ তোমার জন্য কাঁদি।কারণ ,বাঘের কামড়েই জলকন্যা শুনেছিল জলস্রোতের শব্দ।পাতালপুরীর দরোজা খুলছে,তুমি আসবে না!এসব কথা বলা উচিৎ নয় ,তবু অন্ধকার করা আলোয় এসব মনে পড়ে।ঘুম ভাঙতেই বারান্দায় মেঘের শেষ খেলা।গর্ভপাতের পরও ভিজেছি জলে তোমার সামনেই।নবমুদ্রণের পদ্ধতি ছেড়ে চীৎকার করেছি।তুমি পাগল ভেবেছো।তবুও আমি হনন-অরণ্য চাই।ওরা আসার আগেই দেখতে হবে সমস্ত প্রুফ।যার যা খুশি বলুক , তবু ব্যাধের কাছেই চড়ুইদের বনোমহোৎসব।ওর চোখে চাপা অসন্তোষ আমি লক্ষ্য করেছি।কবিতার কেন্দ্রে এসব প্রসঙ্গ পাখি হয়ে আসে।গলাবাজিতে ঠিকমতো অভ্যস্ত হতে পারলে মীমাংসা সহজেই হবে।ওরা কোন অমীমাংসা পছন্দ করে না।বাস্তুতন্ত্র নিয়ে আমি কবিতা লিখব ভ্রূণের জন্মের পর।

এক মজার স্বপ্ন দেখেছি কাল রাতে।চাঁদেরা জড়াজড়ি করে ছুঁতে গিয়েছিল নদী।আর তারপর উল্টে ধপাস।তোমার লাগেনি তো ! কষ্ট হচ্ছে না তো! উঠতোই এ প্রশ্ন।তবে আর একটু পরে উঠলে ভালো হত।খেঁজুরগাছের কাঁটাভরা বাগানে ফুলের মরসুমে টাটা সুমো।আমি একই সঙ্গে দেখেছি তোমার আমার প্রেম , তিস্তা তোর্সার পূর্বরাগ।তিনটে টিপবোতাম খুলেছিলাম।এরপরই বিস্ফোরণ।দেখেছিলাম ,যতই ধমক দাও।তোমাদের ছবি এল ,ভালো বটে! তবে জ্বালিয়ে দিতে পারি তার লজ্জারুণ স্তন! দুহাতে জড়িয়ে হারানোর ভয়ে চন্দনবাগান দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

পুরোটা খোলোনি কেন?মন পাবার তাগিদে দেবে শুধুই অন্তরাল ঢাকা জল!
নাকী ওরাও অমীমাংসা পছন্দ করে না !