বিকেল

ঋতুচন্দ্রের গুঁড়ো ভেসে আসছে।খসে যাচ্ছে আকাশের আঁশ।
সহস্র সোনার ত্রিভুজ নিয়ে বিদেশি স্বর্ণকার
সকলের বুকে বুকে
পরিয়ে দিচ্ছে প্রেম।
ঠিক তখন মাঝিকে নৌকো থেকে ফেলে দেয় শীৎকৃত জল।

এমন তো হবার কথা নয়
স্বভাবে ঘাতক বিকেল আজ এসব কী করে দেখাল?

এক হরিণী এসে শিকারীকে সেধেছে আপনা মাঁস,
এক আতরঅলা দেখি
নাকেমুখে ছুঁড়ে দিচ্ছে কস্তূরী তার!

এ বিকেল আমার? আমার একার?
অজন্তা হতে বিভঙ্গ এসে তোমাকে জড়াল

জল থেকে উঠে এসে সেই একাবোবা মাঝি

জলের গায়েই বিদেহী গানের স্বরলিপি ছড়ায়


সংসার

আমি ও আমার তৃষ্ণা পাশাপাশি বসি।
একটি সোনার পাত্রে এনেছ বিরল
পরিত্রাণ।
বহু পুরাতন নিদ্রা আর নিভন্ত সংগীত
দিয়েছ আলাদা করে, তৃষ্ণা তাই নিয়ে
চলে গেল।
তৃষ্ণাহীন আমি, বলো কী দিই তোমায়?
বুকের বল্কল খুলে, বিছিয়ে দিয়েছি
গতজন্ম

আমি ও আমার তৃষ্ণা সেইদিন থেকে
পরিত্রাণ ফিরি করি, গ্রাহক দেখি না…


আমন্ত্রণ

সাপের বসত, এসো হে ওঝাই কানু
জমানো ছোবল নিতে, নিতে এসো বিষ
এসো হে এবার বৈরী, এসো এসো আজ
চৈত্রদিনে ধুলো নিয়ে, মন্ত্রপূত ধুলো…

সাপের বসত, দেখো নীল দিয়ে ধোয়া
যে নীল তোমারও চোখে, বুকের ভেতরে

এসো হে পরান, তাড়াতাড়ি করো
আমি যে বিষের বশে শিব হয়ে যাই।


বজ্রপাত

এ বৃক্ষ অরণ্যের অধিক। ঘন আর রোমশ তার
ফেলে দেওয়া ছায়া। সেখানে বসেছে এক তাপিত
শকুন। আকাশের ঘামের গন্ধে সে মাটিতে নেমেছে।
এখন?

এখন পাহাড়কে রেখে সরে যাচ্ছে তার উচ্চতা,
নদীর বুকের থেকে শুষে নিচ্ছে ঢেউ, কে যেন।
কে যেন গভীর দুঃখের কয়েকটি গল্প কাঁধে নিয়ে
নারীকে ভেবেছে
অপরূপ ঝিঙেফুল।

ওদিকে, সেই যে বৃক্ষ, যে কিনা অরণ্যের অধিক,
তার পায়ের দিক থেকে কেমন শিনশিন করে উঠে গেল
দৃষ্টিরহিত লতা। তার অপার বেষ্টনী সে নিজেই
ছাড়াতে পারবে না জেনে
কিছুটা উঠে মরে গেল।

এসব হচ্ছে তোমার বাড়ির থেকে অনেক দূরে
একটা ছোট্ট গ্রামে,
সেখানে বৃক্ষের নামে সন্তানের নাম রাখা হয়।
এই করে করে প্রতিটি সংসার একদিন অরণ্য
হয়ে যায়,
বনানী হয়ে যায়।
সেই সংসার ছেড়ে সরে গেলেন এক বৃক্ষ,
এ বৃক্ষ অরণ্যের অধিক।
আপাতত তার ছায়ায় শকুন আর শরীরে লতা
এবং
তারা সকলেই মরে স্থির হয়ে আছে।