১/
ফেরার পথে

 
জ্বরটুকু খুলে ফেলে যে ভাঙা উঠোন বাঁধিয়ে নিচ্ছি তারই অবয়ব আঁকি এই ঘন হয়ে আসা বিকেলের নামে।  খুব জড়িয়ে নেই আঙুল বরাবর। রগরগে করে তুলি সমস্ত অস্থিচূর্ণ।  ভিতর বহর জানে এই নাম ভুলে যাওয়া আসলে ছুতো... কেমন  দিকে দিকে সরে যায় আপোষ আর আমি দৃঢ় অস্তিত্বের সাথে আলগোছ বুনে চলি৷ বুঝি এই দূরে থাকা বস্তুত হিসেব কষা, যে হিসেব শাড়ির পাড় ধরে নিজের জৌলুশ জাগায়। অভিমান মাপে তার ঘোর জুড়ে। আবার প্রিয় করে তোলে জ্বর। আসলে অভ্যাসের নামে গাছের পাতায় হাত বোলানোই নিয়ম, দিনের পার্থক্যে এই অনুতপ্ত প্রহর আমায় জাগিয়ে রাখে,  আলাদা করে প্রতিটি আমি থেকে...

যে নাবিক কেবল ঘিরে রাখতে জানে, বুঝি তার হিসেব মেলা ভার। তীর ধরে হেঁটে যাওয়া থেকে বাদ পড়ে প্রিয় কথারা সব।বিস্ময় থেকে সরে গিয়ে যতটা দূর বোঝাতে চাই, তার সবটা থেকে অনস্তিত্বের অভ্যাস খুলে পড়ে । লাবণ্যটুকু ছুয়ে দিলেই বদলে যায়। ছুটতে থাকি খোলসের অন্ধকারে। রুপকথা থেকে  কুড়িয়ে নেই হাসির শব্দ।  ঢেউ কেটে কেটে পার করেদিগন্ত... অথচ কি অনায়াস যাতায়াত সে উঠোনময়। বাহার ছড়িয়ে রেখে যায় কে যেন। আহা, রুপোলী রেখাটুকুও এঁকে দিতে পারো সেখানে...

এই অবেলায় ফিরে তাকানো বাদে সবটাই ঝরঝরে। গড়িয়ে পড়ার ফাঁক ফোকর দিয়ে বিকেলের অবাধ যাতায়াত। শেষ মেঘের সাথে  সবুজের  বাড়ি ফেরা।  গাঢ় ক্যানভাস শূন্য করে একা  দাঁড়িয়ে থাকে যে, সে অন্তিম নয়। অথচ কি অদ্ভুত মিল।  চলে যাওয়াটুকু ফেলে রেখে যায় যারা... অবুঝ সাঁকোটি কি জানে তার টান কতটা গভীর? ওই যে দূরে পাখিরা সব উড়ে যায়, আর তোমরা তার ডানায় বেঁধে দাও ইস্তেহার...

২/
এবং যা দেওয়া যায়

ছেঁড়া ছেঁড়া শূন্যতার ভিতর বিস্তার
পথ আগলে বসে আছি অহর্নিশি
রাতের ভিতর তাকে আবিষ্কার করতে গিয়ে দেখি
ধুলো বালি সরিয়ে কেমন ভিজে উঠেছে

জল তার তরঙ্গ বিছিয়েছে যে নিরালায়
সেইখানে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকে চাঁদ
নখের আবদারে সাজানো মুখ
অন্যমনস্কতার অপর বিন্দুতে

সারি সারি মেঘের সাথে জমে থাকা ভারে
একদণ্ড ভুল খুঁজতে বাকি নেই
রেশম রেশম ভিজিয়ে দেওয়া এ শহর,
ও গ্রামে...