আমার মান্ডি

তারপর আমরা দেখলাম কাক ভোরে মান্ডি থেকে ডাক উঠছে
৩ ২ ১ আমরা পিছিয়ে পড়তে পড়তে কাদায় চটিতে কাপড়ে আঁশটে গন্ধে
মেয়েদের ফেলেদেওয়া নির্যাসে শিশুদের কাঁথা কানি আর  
রাতের দরজার সাথে ছায়া শরীর হয়ে উঠছি
মিশে যাচ্ছে আবছা অশান্ত ঘন কালো মেঘ
চামেলিকে আর খুঁজে পাইনি রেখা টিনা মিনু ভাভি
অবিশ্বাস্য রকম গ্যাস বেলুনের হাত ধরে উঠে গেছে
নেড়া ছাদের কিনারা থেকে আমি শুধু কারখানার চিমনী দেখতে পেয়েছি  

এখন জন্মদাগের কথা মনে পড়ছে
হাজার কান্নার সাথে যে সকল মুখগুলো জন্মেছে
অন্তর্বাসহীন কাপড়ের তলায় বিষণ্ণ রক্তের সাথে
মনে পড়ছে হেরে এসেছিলাম
কোনো যুগান্তর নয়
আমার মজুরিটুকু তুলে দিয়ে বলেছিলাম  
জল দাও মিঠা ঠাণ্ডা আন্তরিক  
জলের কোনো বর্ণ নেই তাই হিজাব বা ঘোমটা লাগেনা
ব্যতিক্রমী হাত এগিয়ে ছিল সে দিন
আত্মার মাঝে হারমোনিয়ামের রিড বেজেছিল  
নিজেকে নিজের কাছ থেকে কিনে তুলে দিয়েছিলাম  

বেরং আর অন্তহীন সুড়ঙ্গমুখের কাছে আমদের ভয় বাঁধা রেখে   
নেমে আসা সূর্যের কাছে হাঁটু মুড়ে বসা কটা টাকার মূল্যের জন্য

 

এক অববাহিকার কাছে   

 তারপর এক ট্রানজিশান পয়েন্টের কাছে এসে মনে হল এও তো এক অববাহিকা হতে পারে, যার কাছে এসে আমি সত্যি থামতে চেয়েছিলাম, নাহলে আমার এই চলা আকাঙ্ক্ষিত মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে, অবশ্য এই সব মুক্তি আসলে কোনো মুক্তিই নয় কারণ, পৃথিবীর সকল মুক্তিই, সত্যি এক মায়া থেকে অন্য মায়ার মাঝে, খানিকটা স্বগতোক্তি আর কিছু নয়, তারপর আবার সেই স্বজন বর্জিত গুহার ভিতরে এক অনন্ত কাল যাপন, যেখানে শুরু আর শেষ একই বিন্দুতে এসে নিজেদের মধ্যে সঙ্গম ঘটায়, আমি তখন কেন্দ্রে বসে দেখতে থাকি কিভাবে গলিত শরীর নেমে যেতে চাইছে ঐ অববাহিকার দিকে, অথচ আমি তো বিকল্প চেয়েছি, চেয়েছি মাজার থেকে যে রাস্তা সোজা চলে এসেছে এখানে, তার দুপাশের ছড়ানো আঁচলে ঢেকে থাকা প্রকৃতি, নারী হবে, আদর করবে আমাকে, দেখাবে গুহাজন্মের গোপন রাস্তাগুলি।

তাহলে সে খেলার মাঠ আর খেলার নয়, কাটা ঘুড়ির পিছনে ছুটে যাওয়া ছেলে আর কিশোর নয়, সে আজীবন সন্ন্যাসে উড়ন্ত ছায়ার নিচে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে, নিজের অক্ষমতায় নিজেরই ভিতরে আগুন, কাহিনী নেই, কথা ফুরিয়ে গেছে, বন্যায় ভেশে গেছে অতিক্রান্ত কাল, তার এক চালা ঘর তার পিছন লাগোয়া শস্য ক্ষেত, দূর দিয়ে চলে যাওয়া বড় রাস্তা, সে তাকিয়ে আছে যেন হাতছানি, এগিয়ে যাচ্ছে কিছু না বলে কাউকে, তাকে যে যেতে হবে, পেরোতে হবে এই আপাত বাঁধন।

অথচ নাগপাশ সে বড় রাস্তাই হোক বা নিজেকে জড়ানো কোনও মরানদী, যে আমাকে চোখ দিয়েছে, ক্লান্ত কিন্তু ক্লান্তির বিপক্ষে, দূরে খালি সে দূরে তাকিয়ে থাকে, ঘুড়ির পিছনে ছুটে যায় কিন্তু ধরে না, ছুটতে থাকে শুধু, যেন ঘুড়ির ঠিকানা জেনে নেবে, যেন ঘুড়ির কাগজে লেখা আছে তার কল্পনার মেয়েটির নাম, ছুটে যাবে দেখে আসবে তার আলগোছে লেগে থাকা ওড়নায়, হাতের মেহেন্দি মোছা রং, আমি তার থেকে শুধু নীল রঙটুকু তুলে নিতে চাইছি, বিছানার পাশে সেই বিবর্ণ আলনায় যেখানে প্রায় প্রাগৈতিহাসিক কাপড় রয়েছে তাদের রাঙিয়ে দেবো করে।

 

অর্ধনারীশ্বর অথবা মাইলস্টোন

 একদিন জলের স্পর্শে জেগে উঠে মনে হল
আমার প্রেমিকা শরীরে নথ ভাঙা ফর্মালিন
অমরত্ব দেবে বলে জোয়ার এনেছে
আমি শেষ মাইলস্টোনের অক্ষর গুলিকে তেল সিঁদুরে চিরস্থায়ী করছি
কেননা একটি অতিক্রমণ বসে আছে অতিক্রমণের জন্য

খেত মুজুরের কোদাল আর খাদানের পাশে পড়ে থাকা গাঁইতি
কঠিন মন উদাস রাস্তা
বসে আছে অথবা পড়ে আছে
অথবা তোমার চাহিদার কাছে অসহায়
আত্মরতির পরে ঠাণ্ডা জলের স্পর্শ অসহায়

আমার হাতে এখন মেঘের জীবাশ্ম
হাতের রেখায় দাগ
অথবা
হেঁটে গিয়েও ফিরে আসা মায়ের ঠোঁটের কাছে আমার গাল
স্বপ্নের ভিতর একটি দোলনা থেকে কখনও প্রেম কখনও মৃত্যু
অন্তহীন আকাশের সমাধি
হয়তো কোনো পথই না সামান্য দীর্ঘশ্বাস
সেই বিকেল
অথবা পথেই লেখা পথের নাম

এতগুলি ছেঁড়া ছেঁড়া স্বপ্ন
একদিন ছেনি দিয়ে লিখে ছিল আমার গায়ে আর তো মাত্র একটা জীবন   
দেখো শূন্যতার মাঝে ঝুলে আছে
ভয়ে বিলচ্ছে শরীরে শরীর   

কি নেবে তাহলে  
সবই ভালো মন্দে অর্ধনারীশ্বর
অথবা একই অঙ্গে ঢেলে সাজাচ্ছে কাঁটা তারে ছেঁড়া শাড়ি   

যেখানে তুলশী তলা সেখানে বেড়া  
হাতে করে ছুঁয়ে বুঝলাম