(ক)
প্রতিদিন বেঁচে থাকার ভয় কেটে গেলে
আমার এই অন্ধকার ভালো লাগে
গাছে গাছে কোকিলদের র‍্যাপ ভালো লাগে
বিরাটির মোড়ে হারিয়ে যাওয়া জ্যোৎস্না ভালো লাগে
জ্যোৎস্নার ভেতর ফেলে রাখা এইসব উদাসীন টম্যাটোদের    
খুব লাল রঙের বিপ্লব ভালো লাগে

আমার মৃত্যু ভালো লাগে।
দুই মহাদেশ পেরিয়ে ভেসে আসা
তোমার চুলের পোড়া গন্ধ ভালো লাগে।
তবু মরে যাওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করা

ভীষণ কঠিন কাজ হে প্রভু !   

(খ)
সুতোগুলো ছিঁড়ে যাচ্ছে একে একে
কিছু দাগ থেকে যাবে
এইসব দাগ মুছতে যতদিন লাগবে
ততদিন বেঁচে থাকব কিনা কে জানে ?

(গ)
বেলেঘাটা আইডির গায়ে একটা নক্ষত্র ফুটে ওঠে
আর টেলিভিশনের ভেতর একজন মানুষ মারা যায়।

মানুষেরা মরে গেলে কি তবে ফুলগাছ হয়ে যায় ?
কলকাতা কি একদিন ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স হয়ে যাবে ?
নীল রঙের প্রজাপতি উড়বে সেন্ট্রাল এভিনিউ জুড়ে ?

হাতিবাগানের বুকে, বুনো ফুলের খোঁজে
বাঁকুড়ার সোনামুখী গ্রাম থেকে আসবে অভিযাত্রীদের দল
আর জোড়াসাঁকোর আশেপাশের মাটি খুঁড়লে
দু-একটা রবীন্দ্রসঙ্গীতের খাতাও পাওয়া যেতে পারে।

(ঘ)  
ওরা হাঁটে জ্যোৎস্না কাঁধে
বিহার থেকে বর্ধমানে
কিছু বাঁচে, কিছু মরে
সরকার তখন ওদের সংখ্যা
একটু এদিক ওদিক করে

ওরা হাসে, ওরা ভাসে
জাতীয় সড়কের আশেপাশে
অন্ধকার নক্ষত্রদের ফাঁকে
ওরা আছে
কেন্দ্র আর রাজ্য সরকারের মাঝে
মাঝে মাঝে জ্যোৎস্না এসে
ওদের আদমসুমারি করে

ওরা হাঁটে জ্যোৎস্না কাঁধে
ইকো পার্ক থেকে সুন্দরবনে।

(ঙ)
এখন ফাঁকা হয়ে আসা
এই লেনিন সরণি ধরে
মুখে মাস্ক আর হাতে রেশনের ব্যাগ নিয়ে
একা একা হেঁটে যায় বিষণ্ণ কার্ল মার্ক্স।

(চ)
ক্রমে জীবনানন্দ দাশের কবিতা গুলো এক এক করে
মাস্ক পড়ে চলে যায় উল্টোডাঙার মোড়ে
তাদের ধরবে বলে সারাদিন
ধূর্ত শেয়ালের মত ঘুরে বেড়ায় কোভিড নাইনটিন।

যেন মিশন ইমপসিবিল নাইনের শুটিং চলছে কলকাতায়
টম ক্রূজ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের কারখানা খুলেছে বজবজে
যে কোন সময়ে যা খুশি হয়ে যেতে পারে
ভারতবর্ষ জুড়ে – প্রতিদিন
সাত হাজার মানুষ মরে যায় না খেতে পেয়ে।
সিগারেটের আলোয় একা একা ভিজে যায় বসন্ত

শিবের কণ্ঠ থেকে নেমে সভ্যতার নীল বিষ
এখন নাইট গার্ডের চাকরি করে বন্ধন ব্যাঙ্কে।