| এক |
উথাল-পাতাল জ্বরের ঢেউ কেটে
একটি কবিতা পৌঁছলো ওপারে

এখন সেই নদী দর্পণবৎ – শান্ত, শীতল
উদ্বেগগুলি থিতু হয়েছে তার তলদেশে

| দুই |

আত্মকেন্দ্র খুঁজতে বৃত্তের মতো একটি কবিতা
ক্রমশ ছোট হতে হতে
নিজেই কেন্দ্র হয়ে যায়

কিন্তু সব কেন্দ্রই আসলে অদৃশ্য গহ্বর –
রসাতল

উপরিতলে কম্পাস কিংবা কলমের আঁচড়ে
শুধু মৃদু জ্যোৎস্না লেগে আছে

| তিন |

কালো অক্ষরের একটি কবিতা
সাদা কাগজের নিগূঢ় লালে পৌঁছয়
পার হয় একে একে সব রঙের পাহাড়

কিন্তু পাহাড় শেষে অন্ধকারে
যমজ তারা হয়ে ফোটে একজোড়া চোখ

সেই চোখের চাহনিস্রোতে ভেসে
কবিতাটি
ফিরে আসতে চায় তোমার চোখে

| চার |

কিছু শব্দকে একটি কবিতা
সর্বদাই লুকিয়ে রাখে
তারাই তার শরীরে
অনর্থের হিল্লোল তোলে
বস্তুসব হয়ে ওঠে অবস্তু
আর্তনাদগুলি নৈঃশব্দ্য
আর এই সময়ই কবিতাটি
আশ্লেষে চুম্বন করে অচিন্ত্যকে

| পাঁচ |

শব্দের গোপন উৎসবে একটি কবিতা
সবকিছুই অস্তিত্বশীল করতে পারে

আরশিবাগানে ফোটাতে পারে বিম্বফুল
বিস্মরণ থেকে একটা নদী টেনে এনে ভাসায় সপ্তডিঙা
একচিলতে অসীম বিছিয়ে বসায় ঈশ্বরকে
নগ্নতার ভেতর যে অশরীরী লুকিয়ে থাকে
খুঁজে বের করে তাকে
গতির অন্তর্গত স্থিতিতে পুরে দেয় গতির স্মৃতি

শব্দের গোপন উৎসবে কবিতাটি
সবশেষে নিজেকে অস্তিত্বশীল করে