এসো, এসো রে, মারো, আমারে আগুনের চাবুক দিয়ে মারো
তীব্র দহন-জ্বালায় জ্বলে যাই আমি, পুড়ে যাই
এই তো তুমি চাও
পাবে গো, তাই পাবে তুমি
আমি যে তোমার প্রণয়-ভূমি
খনন করেছি কোদাল হাতে
আসবে, তুমি আসবেই চাঁদনি রাতে
তাই আমি ঘুমাইনি
অপেক্ষা করেছি
রাত যখন ভোর হয়ে গেছে
তখনও ভাঙেনি আমার ঘুম
তখন স্বপ্ন দেখেছি আমি
দেখেছি তোমাকে,
তাই চেয়েছি আমার এই ঘুম
যেন আর কখনো না ভাঙে,
ঘুমের ভিতরে আমি চেয়েছি মরে যেতে,
মৃত্যুর ভিতরে আমি চেয়েছি-ঘন-ঘোর ঘুম...
কোদাল দিয়ে আমি খনন করেছি যে মৃত্তিকা
যাকে আমি ভেবেছি প্রণয়-ভূমি
তুমি তাকে বলেছো কবর...
আমি আজও শুয়ে আছি
আমি আজও বেঁচে আছি
হয়তো তুমি জানো না এই খবর
হয়তো তুমি নতুনতর প্রেমে
টেপাচ্ছো সেই পুরনো মাইদুটি
খাচ্ছো চুমু প্রাক্তন সেই ঠোঁটে...
আমি যখন কবরখানায়
তুনি তখন রেস্তোরাঁয়
কাউকে বলছো, ভালোবাসি
যেমন তুমি আমাকে বলেছিলে
এবং আমার আগে আরও অনেক জ্যোৎস্নাকে
বলেছিলে আসবে তুমি চাঁদনি রাতে
তাদের বিফল অপেক্ষার প্রহরগুলিতে
তাদের তীব্র প্রতীক্ষার মধ্যে যে
আলো জ্বলেছিল, সেই আলো আজ
আমাকে আর দেখায় না কোনো পথ...
আমি শুধু ভাবি, বাংলা ভাষায় এত মিথ্যা কী করে বলে
বাঙালির ছেলেমেয়ে?
বাংলা ভাষায় এত এত মিথ্যা কী করে লেখা হয়?
সম্পাদকেরা কেন সেসব ছাপায়?
এইসব ভাবতে ভাবতে আমি মরে যাই কবরখানায় ...
তবু কেন তাকে ঘুম মনে হয়?
উত্তর তুমি জানো, তাই মুখে আমার পুরে দিচ্ছো মাটি
মৃত্যুর পরে মানুষকে ভুলে যেতে হয়
আমি কোনোদিন মরব না, এরকম মনে হয়...
শুধু কথা বলে চাঁদ, পুরাতন সনাতন বাংলাভাষায়...