১.
আমি ভালো হয়ে যাবো, দিগন্ত পেরিয়ে
মাঠের বিস্তার আর আখাম্বা বসতিগুলি
চেয়ে চেয়ে দেখবে, ভাতঘুমের আগে সেই জ্বর জ্বর
মাথাভর্তি অসুখ, গাল ভর্তি দাড়ি, কানভর্তি শব্দের  
                                        কাড়ানাকড়া
পথ নেই, যেহেতু মানুষজন ছাড়া পথ হয় না
একটা প্যাকেট পড়ে আছে, কিন্তু পাথেয় নয়
ক্রেতা ও দোকানদার দুজনেই কেঁপে ওঠে
বোধহয় শেষ বিনিময়, বোধহয় সমুদ্রের দিকে
ফিরে যাবার শ্রেষ্ঠ সময়,গাছ আর পাখিদের দিকে...

 

২.
কোলাহল থেমে গেছে, একটা দুটো পাখির স্বর
খুব প্রাসঙ্গিক লাগছে আজ, জানলা ঠেলে অদ্ভুত হাওয়া
চাদরের কোণ ধরে টানল, মনে হচ্ছে প্রেম
আজ তুমি এসেছো অজ্ঞাতে, পড়শির কার্নিশে
ঝুঁকে পড়া রোদ চুঁয়ে সোঁদা বালিশে
গড়িয়ে পড়ছে পুরোনো ধারণাগুলি, বুঝে নেবার খুব
                                         নিঝুম নিবিড়ে
এভাবে আসোনি আগে, তবে তুমি কি সে নও!
ভিতরের আকস্মিক পূর্ণতা নও!
কী ভাবে এই মাটি ভেঙে ভেঙে তৈরি হচ্ছ
                        অচেনা দালান                                                                                                                           
কী ভাবে বস্তুর মধ্যে ঘুমিয়ে থাকছো, চারদিক এতো মন্থর
তোমার পায়ের শব্দ বালতির জলের বুকে,
                     ভিতরে ধুকপুক, বুড়বুড়ি কাটছে ভাষা
নক্ষত্রগুলো যোগ করছি, তোমারই রেখায়
মহাকাশ থেকে নেমে আসা ঠান্ডা উল্কা
গিলে ফেলেছি একঢোক জল আর অসুখের সাথে
আমার শীত করছে, গুমোটের ভিতর শীত
               নাকি মেধাহীন শীতের আশ্চর্য গুমোট   
আজ এই পয়লা বৈশাখে...

 

৩.
দিন বড়ো হয়, মাস্টার আসবো বলে আর আসেনি
প্রতিটি পাঠের শেষে তাই শূন্য মন, স্রেফ ঘোরের  দালানে
এই পায়চারি, মাঝে মাঝে রাশিফল দেখা
যেন দিন আহ্নিকেই শেষ হবে, এরকম
                  কেউ একটা  বলেছিল
 নাম ভুলে গেছি, বালিকার চপলতা ভুলে গেছি,
                           আর বাচালের গুমগুমে স্বর...
 অপেক্ষার ভ্যাবলা চোখ, পেটে মোচড় মারা ক্ষিধে,
রোদপড়ে আসা জীবন আজ খুব স্পষ্ট নয়
যেমন সাজানো নয় তোমার বাসনগুলি, সেই রান্নাঘর
আজ তেলঝুল, চিটকালি, খসা চাকলার গন্ধে মাতোয়ারা
কেউ তার ঠিক কেন্দ্রে বসে আছে,
হাতে তেলমুড়ি মাখা বাটি,পরনে হাফপ্যান্ট,
উড়ন তুবড়ির জাদু ভুলে...                            
কেউ বলছে যাবার নয়, এ’ কাতর ভোলাবে অনেকটা
 রং ফিকে হয়ে থেকে যাবে, বসতিতে, ধারণায়,
                       ফুলপরি আঁকা কাঠের রেকাবে
কেউ গেছে বাজারের অনাবিষ্কৃত দিকটায়
 কেউ জেনে গেছে রাত ফুরোবে না
        যেহেতু মাস্টার আজও আসেনি সন্ধ্যায়


৪.
ঘর থেকে বেরোও না কেন অপরূপ, কতদিন দেখিনি
ওই হাসি ও অশ্রু, সিঁথির নগ্নতা, সুপার মার্কেট
               অথবা শিবমন্দির থেকে বেরোনোর মুহূর্ত
  হঠাৎ সরে যাওয়া আঁচলের মতো, হঠাৎ বেলফুল
               গন্ধ পরাগে সংযোগে বেঁচে থাকা
এই ভয় ভয় তাকানো, এই জীবাণুর বীজ, এই ছড়িয়ে
                  পড়ার পাস্পরিক প্রক্রিয়া,রক্ত,বেডশোর
এভাবে হেসোনা, চমকে উঠবো, দিন সোনালি হয়ে
                                                     পড়লে                                                                      
ছিটকে বাইরে চলে যাবো, মাথা ছাড়া আস্ত শরীর
খুব মর্মর করবে, পাতার মতন ঝরে দক্ষিণের বারান্দায়
আরেকবার ফুটব, অস্ত হয়ে, ডিমের কুসুম হয়ে

 

৫.
তোমাদের বাড়ি যাবো,ঝুমিদি,কালুর চেনা থাবা, দাঁত আর মৃদুডাক,থমথমে চৌকাঠ,নাভির নীচে থমথমে অতল, মুখ ও চোখের বিরক্তি, কান্না ও ভয় ডিঙিয়ে...
চা করে দেবে! বিস্কুটের মোহ আর নেই, কীভাবে যে সব গুলিয়ে গেল! স্বপ্ন আর মানুষের সঙ্গে  মাখামাখি, কীট আর দানবের আশ্চর্য মিশ্রনে নতুন করে পেলাম সব, ব্যথার প্রলেপ সব আজগুবি, মুখোশ তোমায় এভাবে ভালবাসলাম আজ, প্রিয় ডেটলের গন্ধ, ব্যালকনিময় বেডকভারের পর্দা, জীবন ও রাত্রিকে এভাবে টাঙানো খুব সহজ নয়,নিজের ভিতর ঢোক গিলে ডুবে থাকা, মরে যাওয়া খুব সহজ নয়, পিছনে তারও ওৎ পেতে আছে ঝুমিদির শুকনো ঠোঁট, নিষ্প্রাণ সন্দেহ