অতর্কিত পাখি

প্রান্তপাখির লেজটিও এসে পড়ে তোমার জামার ওপর! শব্দের নিমিত্ত হয়ে আধখোলা একটি জানালা তোমার ওপর এঁটে বসে। গলার সামান্য ফাঁস যেরকম হয়, দিক ও নির্মিতির ভুল হয়ে যাওয়া হিসেব। জানালার ওপর বসে থাকে লেজকাটা পাখি। শিস দেয়, নড়ে চড়ে। দেশত্যাগী কবন্ধরাও এভাবেই নড়ে, এই এক ভঙ্গিমাতেই নকল করে রাখে ন্যুব্জ বিশ্বাসের আড়াল! পাখি শিস দেয়, মারী ফুরিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে রাস্তায় হাঁটবে মানুষ, সেসব নকল করে বারবার।


এপ্রিল খামার

স্বীকৃতি ছুঁয়ে দিচ্ছে দড়ির দাগ, চুন আর দেওয়াল থেকে খসে পড়া পাথর। একটা অর্ধেক বছর যেভাবে গিলে ফেলে মানুষ, রোদের উপকরণগুলি লেখার আগে জড়ো করে সাক্ষ্যপ্রমান! টবের শহরে পুঁতে রাখে অন্য কারও ভবিষ্যৎ! হাত-পা, কোমরের মাস, পাকস্থলী পুঁতে দেয় টবের মাটিতে, রোদজলবৃষ্টির জন্য জড়ো করে রাখে শস্তা প্লাস্টিকের টব। তর্কাতীত একটি মেঘ নেমে আসবে একদিন। সংক্রমণের চিহ্ন ডিঙিয়ে পাড়া প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর নেমে আসবে লোকশ্রুতির হাড়গোড়।


অবাক যান

যা হয়, একটি রাতের প্রকল্প মাড়িয়ে ক্ষেত্র গঠনের দিকে চলে যায় কেউ! সবুজ ডোরেমন, প্রকল্পের মাথামুন্ডু বলতে দীর্ঘ একটি টিভির কথাই জানে সে। ছায়াকল্প, ছায়া হয়ে ওঠা সন্ত্রাস, এসব শুধু অবরোধকামী মানুষের জন্যেই পড়ে থাকে। হত্যাদৃশ্য আর ফিরে আসার মাঝখানে শুধু দরজা আটকে দাঁড়িয়ে থাকে খসড়া তালিকার শুকনো পাতা। মেঝের ওপর অন্য গ্রহের সংকেত, গ্রহাণু পুঞ্জের মতো শোলার কদম। কদমের পাঁপড়ি ছিঁড়ে ছিঁড়ে ফিরে আসার চিহ্ন বানিয়ে রাখে অবরোধপ্রিয় দেশের মানুষ।


প্লেগ প্লেগ

পা খুবলে নিচ্ছে সামান্য জ্বরের স্মৃতি। ছেঁড়া আঙুল, লবণের বয়ামের ভেতর স্পষ্ট হয়ে ভেসে আছে চোখের পাতা। খুব পুরনো একটি গর্তের মুখে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো দেখে নিচ্ছি দুপুর নকল করে ফেলে রাখা আলো। বয়ামের ঘাড়ের কাছে বাসা বানায় জোনাকিরা। কুঁকড়ে যাওয়া দেওয়াল ডিঙিয়ে ঘরের ভেতর রেখে দেয় কাগজে মোড়ানো গত জন্মের পাতা। স্পষ্ট শীত আসে, শীতের সংসার ডিঙিয়ে স্পষ্ট নেমে আসে  প্রাপ্ত বাড়ির দরজা।