সতর্কীকরণঃ আগামী চারশ থেকে পাঁচশ শব্দ খরচাহয়েছে খাঁটি খিল্লি করে। কেউ মনের আবহাওয়া বিশুদ্ধ করার জন্য জ্ঞানের গুঁতোর সন্ধানে এখানে এলে আগণ্ডা গোঁত্তা খাবেন।
রাজর্ষিদা আবার লিখেছে, ফেসবুকের মেসেজবক্সে, “এ এক অন্য আগমনী, অন্য পৃথিবী, অন্য গেইটওয়ে তার... একটা গদ্য দে। ৫০০ শব্দ।”
পাঁচশ শব্দ! তাতে তো দশটা মিনি সাগা বলা যায়। মানে দশটা গোটা, সম্পূর্ণ গল্প।
একটা গদ্যে এতো শব্দ গুঁজলেদূষণের সম্ভাবনা প্রবল। কিন্তু আমি তো আর যেচে দূষণ ঘটাচ্ছি না। নেহাৎ সম্মানীয় সম্পাদকের সাথে সৌজন্য করছি, যদিও বুঝি নি আগমনী অন্য হলো কিসে।
মহালয়ার পঁয়ত্রিশ দিন পরে দূর্গাপুজো বলে?
সেতো আশ্বিন মাসটা ম’লো মাস বলে। সে কবে ফান্ডা জড়ো করার নেশায় শুনেছিলাম বা পড়েছিলাম যে যে মাসে দুটো অমাবস্যা হয়, সেই মাসটা ম’লো মাস। তো সুশ্রুত আই ফাউন্ডেশনের ক্যালেন্ডারে আশ্বিন মাসে একটাই অমাবস্যা দেখাচ্ছে। তারপর এক সহকর্মীর কাছে শুনলাম ভাদ্র মাসের সংক্রান্তির দিন, মানে বিশ্বকর্মাপুজোর দিন দুপুরে অমাবস্যা কেটে যাবে ও তিনি গৃহপ্রবেশ করবেন!
ভাদ্রমাসের সংক্রান্তিতে তো কেউ কোত্থাও যায় না! অগস্ত্যযাত্রা ঘটতে পারে বলে। ইনি হয়তো গৃহে চিরটাকাল প্রবিষ্ট থাকার অভিপ্রায়ে … অথবা কতটা মানলে শিক্ষিত আর কতটায় কুসংস্কারগ্রস্ত সেই দ্বন্দে … কিংবা গেঁড়ে…
কিন্তু ঘেঁটে গেল ফান্ডা। অমাবস্যা যদি পয়লা আশ্বিনের আগেই ছেড়ে যায়, তাহলে আশ্বিন মাস ম’লো মাস হলো কী করে! ফান্ডা কী ঠান্ডা হয়ে গেছে? নাকি পরিবর্তন ঘটেছে শতাব্দীপ্রাচীন পাঁজির চর্চায়?
বোঝা মুস্কিল। এমনিতে বাংলা প্রকাশন সংস্থার দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেই মাছচোর বেড়ালের মতো তাড়িয়ে দেয়। সেখানে গিয়ে পাঁজির ফান্ডার সন্ধানে পাঁজির সংকলককে খুঁজলে নির্ঘাৎ গায়ে থুথু দেবে। তার ওপর এখন সামাজিক দুরত্বের চল।
এটা একটা ভরসার কথা। মাস্কটা যদি থুতনিতেও থাকে তাহলে নিজের মাস্কে থুথু লাগবে বলে আমার গায়ে থুতু নাও দিতে পারে, কিন্তু নাকে-মুখে-চোখে সস্তা স্যানিটাইজার ছিটিয়ে দিলে?
হাত ধুয়ে ধুয়ে হাতে হাজা; তাতে স্যানিটাইজারের অ্যালকোহল জ্বালা দেয়। এরপর মাস্কে ঢাকা মুখে স্যানিটাইজার ছিটিয়ে দিলে?
কি হবে জানি না। কিন্তু ভালো নিশ্চয়ই হবে না। দিনকাল খুব খারাপ কিনা। যা হয় এখন, সব খারাপ হয়। আগের মতো নেই আর কিছুই।
মানে যেমন বাবার কালে দমাদ্দম খুনোখুনি হতো, সন্ধের পর রাস্তায় বেরোনো মুস্কিল ছিল, তেমন নয়।
মানে যেমন ঠাকুর্দার কালে, দাদামশায়ের কালেও, দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল, দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, তেমন নয়।
মানে দাদামশায়ের ঠাকুর্দার বাবার কালে, পলাশী যুদ্ধের পরে, মুর্শিদাবাদে নবাবীর পতনের পর পর্তুগীজ জলদস্যুদের দা বানানোর পারিবারিক ব্যবসা লাটে তুলে দিয়ে, ময়মনসিংহ ছেড়ে দাদামশায়ের পুর্বজদের যেমন হাওড়ায় পালাতে হয়েছিল, তেমনও নয়।
তাছাড়া মাঝে মাঝে ভুতের মুখে রামনামের মতো যে খবরে ছাপে স্প্যানিশ ফ্লু বা বিউবনাক প্লেগের কথা, তার মতোও নয়।
এখন প্রশ্ন হলো যে কবি যে প্রিয়ার মুখ আকাশে দেখতেন সে সবও কী এখন ফ্যাকাশে মাস্কে ঢাকা দেখবেন? আপনার জানা থাকলে মন্তব্য করে কিংবা সম্পাদককে জানান। তাহলে আমিও জেনে যাব।
পৃথিবীর অন্যরকমটার মধ্যে যেটা টের পাই সেটা হলো জামাকাপড়ের খরচ প্রায় নেই। বাড়ির বাইরে বেরোতে লাগে না। তাই যাতায়াতের খরচাও নেই। তবে সাশ্রয়ও খুব হচ্ছে না। যে কুদরি জঙ্গল থেকে তুলে এনে খেয়েছি তাও আশি টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। বর্ষার কুড়কুড়া ছাতুর মানে মাশরুমের কথা না হয় বললামই না।
জীবনে যেটুকু বাড়তি সময় পাচ্ছি সারাদিন বাড়িতে থেকে তাই দিয়ে কী সবজি ফলাবো?
না। সময়টা, শ্রমটা বাঁচিয়ে বরং দুর্ভাবনা প্র্যাকটিসে লাগাই।
সর্বনাশের বেশি দেরি নেই যে।