১) ত্রিকোণমিতি

তুমি তাকালে কেমন জানি
আলোকবর্ষ অতিক্রম করে তাকাও।
ফিরে ফিরে আসে পনের বছর আগের কয়েকটি দুপুর।
সেই যে চৈত্র রোদে খাবি খাওয়া আমগাছটায়
উড়ছিল ঝিরঝিরে কতক যুবক হাওয়া।
আর তোমার সদ্য অফিস-লেখা দৃষ্টির মত বেলগাছটায় ধরেছিল অনেক কচিবেল।
বেলপাতার মতই পবিত্র ছিল তোমার ত্রিকোণমিতি।
আমি জানি।
এজন্য আমি কখনও তাকাইনি তোমার দিকে।

পোকায় খেয়ে গেলেও পাতাকে যেমন  ধরে রাখে গাছ।
ঝরিয়ে বলে না  বিকলাঙ্গ জীবন তোর নিন্দার,অসামাজিক।
কেননা গাছ জানে জীবন থাকলে এমন পোকা অনেক জন্মায়।

শত ছিদ্র পাতার ভিতর দিয়ে
বায়ু
ফুরফুর করে বাঁশি বাজাতে বাজাতে আসা যাওয়া করে।

বিনা কাজে সময় উড়ায় না গাছ;
এসব রাস্তাকথা লিখে ফেলে পাতায়।
কবিতা হয়ে ওঠে কথা হতে নিঃসৃত বিষ।
পাতার  মনেও তো আরেকটি উহ্য পাতা থাকে
আত্মার মত আস্ত একটি পাতা।

গাছের মত আমিও ফেলিনি ছেড়া পাতা,খাওয়া পাতা, ফুকো পাতা সব রেখেছি বৃন্তে সাজিয়ে।

 তোমার বেলপাতা চোখ শিবের মাথায় রাখব বলে হাওয়ার মত পাশ ঘেঁষে চলে যাই আজও।
উপন্যাস হতে গিয়েও বোধহয় হয় না তাই এতগুলো বছর।

আমি জানি তোমার পাঁজরে হাজারটা ফুটো আছে;
তবু মধ্যশিরার মত শিরদাঁড়া নিয়ে এখনো তাকাও আমার বাঁকা চোখে,বাঁকা কথায়।
বাঁকা মনে রাখো মন।
আর জেরক্স কপির মত ঢুকিয়ে দাও বুকে।
গোপন ফাইল হয়ে ওঠে বুক।
হৃদয় উপচে বিষাদ এলে
ভাবো  এসব পুরোনো পৃষ্ঠা তুমি ফুটো করে
উড়িয়ে দেবে সমস্ত অক্ষর।
আপসোস অক্ষর পৃথিবীর কেউ নয়।
মানুষ সৃষ্ট তাই মানুষের পোষ্য হয়ে থাকে।ওড়ে না।

এখন ঝরার সময় হয়ে এল শুভঙ্কর।
রুক্ষ ফাল্গুন ভ'রে সময় এখন অনেক রোগা।
পোকারাও তো রুচিশীল।
জানে অভিজ্ঞ চোখে ছানি পড়া থাকে।
ঘোলা ঘোলা দৃষ্টি খেলে এখন..... অম্বল হবে পোকার।


২) শূন্যের সম্পদ শূন্যই

বেদনারা অন্ধ। বুক থেকে তাই যায় না কোথাও।
চশমা খুললে দেখেছি পৃথিবী মুখোশহীন।এ দৃষ্টি ততটাই  ,
যতখানি আকাশ চুঁইয়ে নেমে আসে চোখে।
যতখানি আবছা হয় দূরের পথ।
কেননা আমার  দৃষ্টি কাঁচ দিয়ে আঁকা  । কাঁচ  পর্দা চোখের....
চশমা, সম্পদ-যবনিকা।কিছুটা দূর দেখা যায়।
কিছুটা আর 'ভিতর' ঢেকে রাখা যায়।
 
এ বিবাদ হাতে নিয়ে  দাঁড়িয়ে পড়লাম আজ, অতিক্রম করেছি গোধূলিকা চৌকাঠ।
আয় দেখি আর অতিরিক্ত  মুখোশ কত প্রকার? সামনা কর।
এ বুক আজন্ম  কুরুক্ষেত্র।
যুদ্ধের জন্য কিনেছি এ জমি ,যুদ্ধ দিয়ে  করেছি অধিকার  অক্ষর।

সম্পর্ক তোমার সবটাই  ফল্গুধারা। যায় কী দেখা?
অন্তর্নিহীত সম্মান কথার কতখানি  উষ্ণ প্রস্রবণ? ছিল কী তার নদীর  উচ্চাশা?
 
কতখানি মন বিকিয়ে  গড়েছিস তুই উপরের সিড়ি? সামনে আয়।
এ বিবাদ শেষমেষ হাত থেকে উবে  ,সন্ধ্যে যার নাম।
দেখেছি তার রঙিন খোলা চুলে রাত্রিরা অলংকার।
 
কেউ আসলো না বিবাদে বিবাদ মেলাতে।
চারিদিক অন্ধকার।
 দু একটি জোনাকি তাই ছুঁড়ে দিই লেখার উপর, আলো দিক।
আর কিছু না পেয়ে পৃষ্ঠায় রেখেছি একটি তিরতির নদী।
তারপর  কিছু জোটেনি সংলাপে। তোমার স্তন দিয়েছি তাই সাহিত্যে ফোড়ন।
লেখার রাজনীতি ভেবেছো আমিও কী কম জানি?

কবিতায় এ  ফাঁকা চিৎকার।প্রতিধ্বনি ।পাহাড় তবে তুমি।
বুমেরাং হয়েছে বিবাদ... ফালিফালি নিস্তব্ধী কবি,
নিঃশ্চুপ লালসায় ভিজে যায় অক্ষর ....আর অক্ষরে পুরে থাকা অনুভব।
শূন্যের কাছে চেয়ে দেখো কিছু...আদতে পেয়েছো শূন্যই সম্পদ।


৩) ধর্ম-দূষণ

জল হও ক্ষোভ।
বিন্দু বিন্দু দূষণ নিয়ে চোখ মোছো।
আগুন ছোঁয় না যে কথা, সে কথায় উনুন ভর্তি করো সব ,
আর জ্বলবে না ক্ষিদে।
আগুন খেয়ে  মানুষ, কখনও কী আগুন নিভিয়েছে?

এ ঘর,এ দেয়াল, এই বিছানায় রেখে দেয়া সমস্ত আমার  ক্লান্তক্ষণ
আমার যে আর না।
ঈশ্বর দূষণ খেয়েছে মায়া,ধর্মদূষণ ভরিয়েছে মন। পুড়িয়ে  দাও সব স্মৃতিকথা।
আগুন বলছে এ ঘর  আমার আর না।

নিভিয়ে নিভিয়ে  দাবানল সীমিত কর বহ্নি-সীমানা, আগুন সব প্রদীপ হোক।
পুষেছি বুকে ক্লান্ত বাতাস, নিঃশব্দে ওরাই শ্বাস।
ঈশ্বর-ক্ষণ আনো হে ঈশ্বর।
জরায়ু নয়। জরায়ু নয়।সময় হয়েছে এখন  বই ফুঁড়ে  মানুষ জন্মাক।


 ৪) আগুন ফুল

ওইখানে মন খানিকটা  পাতার মত খাওয়া  আছে,
আর
যে তরঙ্গে আলো এক রেখা,
 একবার জন্মালে মৃত্যু হয় না।
শুধু ফিরে যাওয়া আছে তার।  চলে যাওয়া ও আছে।  
সহজ ভেদ্য নিকষ কালো আঁধার
এ কারণে লিখে ফেলতে পারে ঝাঁকে ঝাঁকে জ্বলন্ত ফুল।
ও গাছ ঝাঁকালে ঝুরি ঝুরি জোনাকি মাটির কাছাকাছি,
উড়ে উড়ে  সম্পত্তি অন্ধকার।
 
ওখানে খানিকটা  বুক পোকায় খেয়ে গেছে।
কিছুতেই আর ভরাট হল না গুজরটি ফোড়ে।
যতদিন
সবুজ থাকে গাছ রঙ বেরঙের নিরীহ ফুলের বাহার।
শুকিয়ে গেলে আর আগুন ফুলে ভ‘রে ওঠে কাঠ।
এ শূন্যতায় তরঙ্গ এক ,বিদেহী শব্দ বহন ক‘রে
অনেকখানি তুমিহীন কাঁচ ভাঙতে পারে।