পাহাড়ি পথের ধারে যে সব গাছেদের ঘরকন্না, সে ঘরের পুরোহিত কে ছিল তা জানি না। সেভাবেই এলোমেলো যেমন খুশি বেড়ে ওঠা। আঙুল তুলে কেউ বলে নি ডালটা গোটাও, অথবা মেদ ঝরিয়ে ছিমছাম ফুলটুসি হও।
ইউক্যালিপটাস আর এলভিস কোথাও একাকার হয়ে গিয়েছিল সেসময়। বিখ্যাত কবিদের নাম জানি না, পড়া দূর অস্ত।প্রভাব বলতে পাইন পাতার ফাঁকে বাতাসের শিস আর কুড়িয়ে তোলা  ফলের বুনো গন্ধ।
কবিতাহীন সেইসব দিন কি প্রবল কবিতাময়।  পিঠের বোতাম খোলা ফ্রক আর শীতে ফাটা  ঠোঁট। কবিতার ক্লাস টেকনিক বিদেশি কবিতা বিষয় বিষয়হীনতা শব্দ শব্দের জাগলারি থেকে বহুদূর।
তারপর ঋতু পাল্টালো। তীব্র হাওয়ার থাপ্পড়ে জন্ম নিল ধূধূ মরুভূমির মাশরুম রক। ঝরল আবেগ কোমলতা।
কবিতা আধুনিক হোক। বাসনা। ডালপালা ছেঁটে টবের গাছে দেদার ছেটানো রাসায়নিক সার।এক সবজান্তা চালাকি কবিতার ভেতর ঢুকে আমাকে সরিয়ে দিল দূরে, সেখান থেকে দাঁড়িয়ে দেখছি হাততালি, ভেতরের ফাঁপা  আমিটাকে নিজেই চিনতে পারছি না।
কার যেন তীব্র শ্বাসকষ্ট, অনুভব!
মন চাইল শিশু হই,ছড়া, লিমেরিক। আর কোনো আঙুলের চোখরাঙানো মানবো না।যা কিছু ধুলোবালি লুটপুট, সেই আলখাল্লার ভেতর কোন অতল,যার শুরু শেষ নেই।পায়ে মাটি।শূন্যে দাগ লাগে না।
পেছনে কখন এসে দাঁড়িয়েছে 'চুপ'।এই চুপ খুব দামী। মাঝে মাঝে সে আমার পাশে এসে বসে।বলে,নিজের ভেতর নিজেকে জমানোর অভ্যাস কর।
না জমালে খরচ করবি কি!

ইউক্যালিপটাস
-----------
আমি ওকে এলভিস ডাকতাম
গভীর নীল চোখ
লম্বা জুলফি আর ঝাঁকড়া চুল
সে বাজাতো  স্পেনীশ গিটার

বন্ধুরা আমায় ডাকতো  কালিন্দী
আমার এই  বিদেশি প্রেমিক
ওদের হিংসে ছিল  খুব
ওর ফর্সা গায়ের পুরুষ গন্ধ
মার্চের হাওয়ার মেলোডি
চার্চের ঘন্টা বাজতো  দূরে

কোথাও সন্ধ্যা নামত  খুব কাছেই কোথাও
ঝরা পাতা উড়ে যেতে যেতে বলে যেতো
দেখা হবে বন্ধু, দেখা হবে
কোথাও আবার


ডাক থেকে পাখি পর্যন্ত
----------------------------------
যে ডাকের পাখি নেই
ডাকের চারপাশে
একটা পাখি রঙ
অফুরন্ত
যেন
ডাক ফুরিয়ে না যায়

 

গাছ

-----------
বন্ধু
ওরে আয়
খেলবি যদি আয়
ঘুঘু শালিক ময়না চড়ুই
কইছে কথা ফুটছে মুখে খই
দোয়েল কোয়েল নাচছে তা তা থৈ
লেখা
পড়া
পেন
খাতা
বই
কিছুই আমার নেই      ধিন তা ধিনা ধেই


দেখা
--------
বুকের ভেতর একটা চেয়ার আছে
কাঠের
তুমি বসলে সিংহাসন মনে হয়


টান
-----------
জলের সঙ্গে জল এমন ভাবে সেলাই হয়ে থাকে,  কোথায় জোড়া দেখা যায় না। জলের থেকে জল যখন দূরে সরে যায়, তখন সেই অদৃশ্য সুতোয় টান পড়ে। এমন এক টান, ব্যথা টনটন করে ওঠে। ব্যথা এক রূপকথা। পুরনো জলের কাছে ফিরে গিয়ে হয়ত দেখলে, সব শুকনো। বালি মাটি পড়ে আছে। জল সরে গেছে আবার আছেও।
সুতো তোমার ভেতর দলা পাকিয়ে আছে। খুলতে খুলতে চলো...