দেবজ্যোতি রায়ের সাথে কথোপকথনে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়

১)প্রশ্নঃ- কবি দেবজ্যোতি রায়,গল্পকার দেবজ্যোতি  রায়,গদ্যকার দেবজ্যোতি রায়, ঔপন্যাসিক দেবজ্যোতি রায় - কোন দিকটাতে তুমি নিজে সবচেয়ে বেশী স্বচ্ছন্দ?
 উত্তরঃ - প্রথমত আমি সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করি গদ্য লিখতে গিয়ে,যদিও এপর্যন্ত তিনটি কবিতার বই আমার আছে। আমার লেখার শুরুই ছিল গদ্যে। কবিতা অনেক পরে লিখতে শুরু করি। আর গল্প হোক বা উপন্যাস,যে ভাষায় লিখছি,শব্দকে ব্যবহার করছি যেভাবে,বাক্য-গঠন রীতি,style of writing,এসবে প্রথা ও প্রচলিতকে ভেঙে,আভিধানিক শব্দের বাইরে প্রান্তিক জীবনের থেকে শব্দকে তুলে আনা,মানে যেভাবে স্কুলে লিখতে  শেখানো হয়,যেরকম সংবাদপত্রের ভাষা,যেভাবে বেশির ভাগ লেখক লেখেন,তার বাইরে লেখায় একটা নিজস্বতা তৈরি করা,এটা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,এবং যিনি এটা করতে পারেন,সে তিনি গল্পই লিখুন বা উপন্যাস,এঁদের আমি গদ্যকার বলি। এবং একজন গদ্যকারও তো শেষবিচারে একজন কবি,সে তিনি কবিতা লিখুন বা না-লিখুন,ভেতরে একজন কবি না থাকলে ভালো গদ্যও লেখা যায় না বলে আমি বিশ্বাস করি।

 ২)প্রশ্নঃ-  কবিতা  নির্মাণ  না সৃষ্টি? গদ্য ও কবিতার মধ্যে উৎপত্তিগত তারতম্য  নিয়ে যদি বলো..
উত্তরঃ- কবিতাকে নির্মাণ করতে হয়,যে কোনো লেখাই আসলে নির্মাণ। রবীন্দ্রনাথ বা জীবনানন্দের পাণ্ডুলিপিতে নইলে এত কাটাকুটি কেন ? তবে একথাও ঠিক,আমার অভিজ্ঞতা বলে,যে,কোনো একটি বা দুটি লাইন বা বিষয়ের একটি ঝলক,কোত্থেকে আমি জানি না,হঠাৎ করেই মনের চেতন স্তরে ভেসে আসে,তারপর ধীরে ধীরে গোটা লেখাটা নির্মিত হয়। ওই একটা বা দুটো লাইনের বা বিষয়েরই একটুকরো ঝলক যা ভেসে আসে,মনের চেতন স্তরে,যা থেকে গোটা লেখাটা গড়ে উঠতে শুরু করে,কেউ কেউ ওটাকেই দৈবী প্রেরণা বলেন,আমি জানি না দৈবী প্রেরণা বলে আদৌ আছে কিনা কিছু,আমার যা মনে হয় মনের অবচেতন স্তরে লাইন বা বিষয়ের একটা ভাঙাগড়া অহরহ চলতেই থাকে,যারা লেখেন,একসময় সেটা চেতনে ভেসে ওঠে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এও দেখেছি,যে,একটা ভাবনা বা দু'একটা লাইন ভেসে আসার পর যখন টেবিলে গিয়ে বসি,কলম তুলে নেই,কোথায় শেষ না জেনেই,লেখাটা একটা চেহারা পেতে শুরু করে,হয়ে যায়,বিস্তর কাটাকুটিও সেসময় চলতেই থাকে।
কবিতা হলো আত্মার কণ্ঠস্বর। তাকে আবিষ্কার করতে হয়। যাত্রা সেখানে ভেতরের দিকে। গদ্যেরও একটা যাত্রা থাকে ভেতরের দিকে,তবে লোক-সমাগমকে এড়িয়ে নয়। কবিতার একটা লাইন যত কথা বলে গদ্যকে সেখানে বিস্তারের পথে যেতে হয়।গদ্যই একটা জাতিকে সাবালক করে তোলে।চেতনার জগৎকে বিস্তৃত ও গভীর করে। তবে ভালো গদ্য বলতে আমি বুঝি স্টাইল অফ রাইটিং-এর সঙ্গে যেখানে কবিতাও মিশে থাকে। মার্কেজের 'হান্ড্রেড ইয়ারস...'-এ এরকম পাতার পর পাতা আছে যেখানে কবিতার স্বাদ পাওয়া যায়। ইতালো কালভিনোর ছোট গল্পগুলিতেও ছড়িয়ে থাকে কবিতা। ইলিয়াসের 'খোয়াবনামা' বা এমনকি 'চিলেকোঠার সেপাই'-তেও কি কবিতা নেই ? একজন কবির লেখা কবিতা ও একজন গদ্যকারের লেখা গদ্যে থাকে যে কবিতা দুইয়ের মধ্যে ফারাক থাকলেও কোথাও হয়ত অজান্তেই এসব মিলেমিশে যায়। আর এখন তো প্রবন্ধকে গল্পে কিংবা গল্পের মধ্যে প্রবন্ধকে মিলিয়ে মিশিয়ে দেওয়াও চলছে কোনো ছুঁৎরোগ না রেখেই।

৩)প্রশ্নঃ- সাহিত্যিক  কি নিজেকে  একজন সাংস্কৃতিক  কর্মী  ভাববেন?
উত্তরঃ- হেনরি মিলার বলেছিলেন,'সবসময় এবং সবার আগে লেখালেখি,চিত্রকলা,গান-বাজনা,বন্ধু-বান্ধব,সিনেমা---এসব তারপর।' আমি মনে করি,সাংস্কৃতিক কর্মী বলতে যা বোঝায়,একজন কবি বা লেখকের সেসব হবার কোনো প্রয়োজন নেই। যদিও একথাও ঠিক যে,একজন কবি বা লেখক,কোনো না কোনো সংস্কৃতির উত্তরাধিকার নিজের মধ্যে বহন করেন বলেই তিনি কবিতা লেখেন বা সাহিত্যের অন্যকোনো ধারায়।

 ৪)প্রশ্নঃ-  একজন  অক্ষরকর্মীর আর্থসামাজিক - রাজনৈতিক  দায়বদ্ধতার প্রয়োজনীয়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ-  একজন অক্ষরকর্মীর দায়বদ্ধতা থাকা উচিত কেবলমাত্র তাঁর নিজের প্রতি। তাহলেই নিজের লেখার প্রতি তিনি সৎ থাকতে পারেন। একইসঙ্গে প্রতিটি লেখাই তো আসলে রাজনৈতিক লেখা,তার দাড়ি,কমা,সেমিকোলন,স্পেস এমনকি সহ। দলীয় রাজনীতি বা নির্দিষ্ট কোনো আর্থিক-সামাজিক ব্যবস্থার প্রতি
আনুগত্য লেখার ক্ষতি করে। কোনো ব্যবস্থাই শেষপর্যন্ত মানুষকে মুক্তি দিতে পারেনি তার অসহায়তা থেকে,অসহ যাপন থেকে। হয় তুমি সিস্টেমের পক্ষে নতুবা বিপক্ষে দাঁড়াবে,এছাড়া অন্যকোনো মধ্যবর্তী নেই।

 ৫)প্রশ্নঃ- সাহিত্য এবং  যৌনতা...
বা বলা ভালো,  যেকোন শিল্প এবং যৌনতা...
উত্তরঃ- যৌনতা জীবনের মূল চালিকাশক্তি। যারা রতিক্রিয়াটিকেই সমগ্র যৌনতা ভাবেন তারা আসলে ভুল ভাবেন। রতিক্রিয়া যৌনতার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ কিন্তু সমগ্র নয়। শিল্প-সাহিত্যে যৌনতা জ্বালানির কাজ করে। যৌনতা ছাড়া সৃষ্টি অসম্ভব। যে কোনো তৃপ্তিই আসলে যৌনতৃপ্তি বলে আমি মনে করি।

 ৬)প্রশ্নঃ- তুমি একটা  সময়  নিজে লিটিল ম্যাগাজিন  করেছো। সেই সময় আর এখন  - লিটিল ম্যাগাজিনের অবস্থান? প্রসঙ্গান্তরে ওয়েব বা ব্লগজিন...
উত্তরঃ- এখনো লিটল ম্যাগাজিন বেরয়। কিন্তু অনেক লিটল ম্যাগাজিন যেমন এখন আর লিটল নেই,সেগুলোকে বড় পত্রিকা বলা যেতে পারে,তেমনই যত লিটল ম্যাগাজিন বেরয়,তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিটল ব্যাপারটা থাকলেও যা পাইনা তাহল ম্যাগাজিন শব্দের তাৎপর্য। প্রযুক্তির উল্লম্ফনের কারণে এখন অনেক ওয়েব বা ব্লগজিন বেরয় ঠিকই,কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রিন্টেড ম্যাগাজিনেই অনেকবেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। অন্তত পড়তে গিয়ে। মনে হয় না যে প্রিন্টেড ব্যাপারটা এত সহজে লোপ পাবে। দুটোই চলবে পাশাপাশি। এখন এই অতিমারীর কালে যারা প্রিন্টেড ম্যাগাজিন করতেন তারাও অনেকেই ওয়েব বা ব্লগে ঝুঁকছেন ঠিকই,কিন্তু অবস্থা স্বাভাবিক হলে এদের অনেকেই আবার প্রিন্টেডে ফিরে আসবেন মনে হয়। আমি নিজেকে লিটল ম্যাগাজিনের লেখক বলেই মনে করি এবং তাই থাকতে চাই।

৭)প্রশ্নঃ- কোচবিহার শহর,  অমিয়ভূষণ মজুমদার, অরুণেশ ঘোষ, নিত্য মালাকার ও দেবজ্যোতি রায়...
উত্তরঃ- কোচবিহারে আমি জন্মেছি,বড় হয়েছি। এই শহরের একটা প্রভাব তো আমার ওপরে থাকবেই। অমিয়ভূষণ,অরুণেশ,নিত্য মালাকার শুধু এই শহরেরই নয়,বাংলা সাহিত্যের গর্ব। আমার সৌভাগ্য যে এঁদের সান্নিধ্য আমি পেয়েছি। আমার সম্পাদিত 'মাসিক ব্যতিক্রম' পত্রিকায় অমিয়ভূষণ গল্প লিখেছেন। অরুণেশের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছরেরও অধিক সময় ধরে আলাপচারিতা,ঘনিষ্ঠ মেলামেশা,কখনো আমি অরুণেশদার বাড়িতে,কখনো অরুণেশদা আমার,অরুণেশদার হাত ধরেই প্রথম নিত্যদার বাড়িতে যাওয়া,তারপর তো বছরের পর বছর,মাসের পর মাস,দিনের পর দিন,নিত্যদার বাড়িটা অরুণেশদার সঙ্গে আমারও বাড়ি হয়ে উঠেছিল,অনেক আড্ডা,আলোচনা,রাত্রিযাপনের স্মৃতি,কখনো বা দুই-চারদিন নাগাড়ে,এঁদের সঙ্গ আমাকে সমৃদ্ধ করেছে,আমাকে কথা বলতে শিখিয়েছে নিজের সঙ্গে নিজের,আমার উঠতি সময়ে এইসব ব্যতিক্রমী গদ্যকার-কবিদের প্রশ্রয়,ভালবাসা,যেন ছিল অনেকটা ঈশ্বরের আশীর্বাদের মত,আমি নতুনভাবে দেখতে শিখেছি জীবনকে।বিশেষভাবে বিশ্বসাহিত্যের রসাস্বাদনের ক্ষেত্রে অরুণেশদার সাহায্য এবং সান্নিধ্য ভুলবার নয়।অরুণেশদার হাত ধরেই আমার ষাটের দশকের হাংরি সাহিত্য আন্দোলনের সংস্পর্শে আসা।ষোল বছর বয়সে, সেটা ১৯৭০ সাল ,পরের বছর আমার উচ্চমাধ্যমিক দেবার কথা, গোটা দেশ জুড়ে তখন তোলপাড় হচ্ছে নকশাল বাড়ির কৃষক বিদ্রোহের রাজনীতি,গ্রাম দিয়েই শহর ঘিরতে আরো অনেক ছাত্র-যুবাদের সঙ্গে আমি গ্রামে চলে যাই কৃষকদের মধ্যে বিপ্লবী রাজনীতির প্রচার ও প্রসার ঘটাতে।১৯৭১ -এ ডিসেম্বর মাসে গ্রাম পেরোতে গিয়ে আমি ধরা পড়ি এবং ২ বছর জেল খেটে বেরিয়ে এসে ফের গ্রামে চলে যাই।১৯৮২ সালে আমার জীবন সম্পর্কে যেসব উপলব্ধি গ্রামে পার্টির কাজ করতে করতে হয়েছিল তাতে পার্টি নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধ ঘটে এবং দলীয় রাজনীতির বৃত্ত থেকে আমি নিজেকে বের করে আনি।সেই সময়কার জীবন রাজনীতি এবং দলীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার উপলব্ধিগুলো পরবর্তীকালে একটি বইয়ের মধ্য দিয়ে আমি প্রকাশ করি এবং সেই বইটি হল 'নরকের থেকে একটুকরো অনির্বচনীয় মেঘ' যেটি ২০০৫-এ 'মনচাষা' থেকে এবং ২০১৮ তে 'কোয়ার্ক ' পাবলিকেশন থেকে পুনঃ প্রকাশিত হয়। ১৯৮২ সালের পরে কোচবিহারে আমার প্রথম সামনাসামনি দেখা হয় অরুণেশ ঘোষের সঙ্গে।অরুণেশদা আমাকে খুঁজচ্ছিলেন এবং আমিও অরুণেশদাকে।তারপর তিরিশ বছরেরও অধিক কাল জুড়ে অরুণেশদার সঙ্গে আমার সুদীর্ঘ পথ চলা।উত্তরবঙ্গে সেসময় নতুন করে হাংরি আন্দোলন গড়ে উঠছিল অরুণেশ ঘোষের নেতৃত্বে।নিত্যদার সঙ্গে অরুণেশ ঘোষের তারো অনেক আগের থেকে ঘনিষ্ঠ পরিচয় ও বন্ধুত্ব সত্ত্বেও নিত্যদা কিন্তু কখনই হাংরি আন্দোলনে যোগ দেননি ।দুজনেরই লেখার ভাবনা ভিন্ন থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বোধের অভাব আমি কখনো দেখিনি ।আমাদের তিনজনের মধ্যে জীবন ও সাহিত্য নিয়ে বহু আলোচনা বার বার হলেও অরুণেশদা কিংবা নিত্যদা দুজনের কেউই আমার লেখাতেও কখনও প্রভাব বিস্তার করতে চাননি।

৮)প্রশ্নঃ- দেবজ্যোতি রায় অন একবিংশ শতাব্দীর প্রথম এক চতুর্থাংশের কবিতা / গদ্য
উত্তরঃ- তরুণদের থেকে আমি আজও শিখি। আমার বেপরোয়া দিয়ে ওদের বেপরোয়াকে(লেখার ক্ষেত্রে)আমি ভালবাসি।

 ৯)প্রশ্নঃ- শিক্ষিত  পাঠক হলেই তিনি কি দীক্ষিত পাঠক? তোমার উত্তরের সাপেক্ষে  তোমার লেখা কোন পাঠকের  জন্যে?
উত্তরঃ- শিক্ষিত হলেই যে কেউ সাহিত্যের পাঠক হবেন এমনটা নাও হতে পারে। কিংবা সাহিত্য বলতে অনেক শিক্ষিতজনকেও দেখেছি তাঁরা বাজার যে লেখাগুলো প্রোমোট করে,সেগুলোকেই বোঝেন। বাজারের বাইরেও যে একটা বড় অংশের লেখার জগৎ আছে,সে খোঁজটুকুও রাখেন না বা প্রয়োজন বোধ করেন না। আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধু আছেন যারা অমিয়ভূষণ,অরুণেশের নাম হয়ত শুনেছেন,কিন্তু তাঁদের লেখা পড়েননি,কঠিন বা রক্তে মিশে যেতে পারে বলে ভয়ে এড়িয়ে গেছেন।আমি দীক্ষিত পাঠকে বিশ্বাসী যারা
বাজারের বাইরে শিরদাঁড়া টান করে দাঁড়িয়ে থাকা লেখার খোঁজ করেন। আমি লিখি এই দীক্ষিত পাঠকের জন্য।

 ১০)প্রশ্নঃ- দেবজ্যোতি রায়ের ভাবনায় যেকোন লেখায়- কবিতায় বা গদ্যে, বা গল্পে ডিপারচার...
উত্তরঃ- আমার লেখা বহুবার পাল্টেছে। নিজেকে বারবার ভেঙেছি আমি। ভাঙতে চেষ্টা করেছি। যতদিন এই ভাঙাটা চলবে ততদিনই লেখার মধ্যে আমি খুঁজে পাব জীবন,লেখার আনন্দ। কোনো বদ্ধ জলাশয়ে আমি নিজেকে আটকে ফেলতে চাই না। একজন লেখক বা কবির সেটা কাজও নয়।

 ১১)প্রশ্নঃ- আবার প্রথম থেকে লিখতে গিয়ে কী লিখবে কী লিখবে না?
উত্তরঃ- আবার প্রথম থেকে লিখতে গেলে যা লিখেছি,যেভাবে,তাই লিখব। শুধু এই চেষ্টাটা থাকবেই যে,লেখা আমার কাছে আত্মউন্মোচন,নিজেকেই আবিষ্কার করা,এখনো যেটুকু পারিনি সেটা করতে পারা।

 ১২)প্রশ্নঃ- উত্তরবঙ্গ ও দেবজ্যোতি রায় ;
দীর্ঘ  কয়েকবছর তুমি দক্ষিণবঙ্গেও কাটিয়েছো।  সেজন্যে  দক্ষিণবঙ্গ  ও দেবজ্যোতি  রায়...
উত্তরঃ- আমার শেকড় প্রোথিত উত্তরবঙ্গের মাটিতে। এই মাটি থেকেই রস টেনে নিয়ে আমার সালোকসংশ্লেষ,বা যা কিছু। যেজন্য দক্ষিণবঙ্গে বিশেষ করে কলকাতায় জীবিকার টানে একবার গেলেও আমি ৫ বছর মাত্র সেখানে ছিলাম,ফিরে আসতে হয়েছিল নিজের ডেরায় বাঘ যেভাবে নিজের ডেরা ছেড়ে সচরাচর খুব বেশিদূর যায় না। তবে কলকাতার ৫ বছর যে আমার জীবনে বৃথা ছিল তা কিন্তু নয়। প্রচুর বিদেশি ফিল্ম যেগুলো এখানে থাকলে হয়ত দেখাই হতো না,ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটির কল্যাণে সেসব দেখা হয়েছিল। আর আমি যেখানে থাকতাম সেই রাসবিহারীতে একটা বইয়ের দোকান ছিল,জানিনা এখনো আছে কিনা,যে দোকানে প্রচুর বিদেশি বই ধারে পড়া যেত,সেসব পড়া হতো। এছাড়াও কিছু চমৎকার মানুষের সঙ্গে পরিচয় আমি যে বোর্ডিং হাউসে থাকতাম,হয়েছিল,খাঁটি ভদ্রলোক তাঁরাও ছিলেন না,আমিও নই। আর আমি যেখানেই যাই তরুণ কিছু বন্ধু আমার কীকরে জানি জুটে যায়,যাদের সঙ্গটা আমাকে অক্সিজেন দেয়,কলকাতাতেও যেখানে ছিলাম সেখানে পেয়েছিলাম। এই।

 ১৩)প্রশ্নঃ- দেবজ্যোতি রায় অন দেবজ্যোতি রায়
উত্তরঃ- দেবজ্যোতি রায় সম্পর্কে কিছু বলবার থাকলে তো সেটা বলবে দেবজ্যোতি রায়ের পাঠক যদি কেউ থাকেন,তাঁরা। ওই বেটে,কালো,বিদঘুটে লোকটা সম্পর্কে আমার অন্তত কিছু বলবার নেই। #