'য়া দশক



ব্লগ

যখন করু‘না’র পোকা কাটে

সংহিতা মুখোপাধ্যায়



এ যাবৎ যা দেখলাম করোনা পর্বে, তার ফর্দ করে ফেললাম।

বইমেলা কী বন্ধ হয়ে যাবে?

প্রথম যখন শুনতে পেলাম তখন বইমেলা গনগনে। আযৌবনের সাধ রোজ বইমেলা যাব। যৌবন কেটে যেতে বইমেলার টিকিটের পাট গেল উঠে। বইমেলা আর বাড়ি হয়ে গেল আড়াই কিলোমিটার আড়াআড়ি। এমন সাধ পূরণের দারুণ সাধ্য কালে বলে কিনা ছোঁয়াচে রোগ হচ্ছে। হাত ধোও, মাস্ক পরো, .........।

বিয়েবাড়ি থেকে কী বার করে দেবে?

ফেব্রুয়ারি ২০১১-তে বিয়েবাড়ি গিয়েছিলাম। যদি বাড়িতে বিয়েবাড়িটা গুণি তাহলে জানুয়ারি ২০১২-তে। তারপর মার্চ ২০১৯-এ। মার্চ ২০২০-তে আবার বিয়েবাড়ি যাওয়ার সুযোগ হতে তিন দফা বিউটি পার্লার ঘুরে ফেললাম। তারপর বিয়েবাড়ির ফুলে সাজানো ফটকে দাঁড়িয়ে মনে হলো এখান থেকে তাড়িয়ে দেবে না তো। এত্তো লোক...

সাথিয়োঁ

মিত্রোঁর দিন গেছে। কাঁসি বাজাবার নির্ঘন্ট পাওয়া গেল। তা বিকেলে ঢাক বেজে উঠতে প্রাণে একটা পুজো পুজো উত্তেজনা জাগল। হেডফোন খুলে ফেলে দৌড়ে বারান্দায় গেলাম। ভেঁপু, কাঁসর, হাতা-কাঁসি বেজে উঠতে বেশ ভালোই লাগল। কিন্তু ছাদে জড়ো হয়ে কী সমাবেশ করছে লোকজন? কথা ছিল নিজের বাসার চৌহদ্দির ভেতর থেকে...।

এ তো ভারতবর্ষ। এখানে আইন নাকি বানানো হয়েছে ভাঙার জন্য। নিয়ম করা হয়েছে এড়াবার জন্য। আর অনুরোধ ... তার যতোটা ইচ্ছে ততোটা যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে রাখা হবে। (তাই পরের অংশটা লেখা গেল।)

“দয়াকরেঅনুরোধকরাহচ্ছে ......”

আইন এবং নিয়ম নিয়ে আমাদের ভারতীয়দের যা ভাবনা ......... সেই জন্যই কর্তব্যপরায়ণ লোকগুলো দয়া করে অনুরোধ করেছে। লকডাউনের দিনগুলোতে সীমিত সময়ে বাজারকরতে লোক হামলে পড়ছে। এর হপ্তাখানেক আগে থেকেই দোকানের তাক খালি। দোকানি বলে ছিলেন, “ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছি। একেক জনের বাড়িতে বাড়িতে দোকান হয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে মাল নিয়ে নিন।”আরও বলে ছিলেন, “এ মাসে মাল দিয়ে কুলোতে পারলাম না। সামনের মাসে সব পড়ে থাকবে।”

তো হামলে পড়া লোকেদেরকে সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে দয়াময়ী সরকার রাস্তায় নেমে এসেছেন। বলছেন, “দয়া করে অনুরোধ করা হচ্ছে; নিতান্ত দরকার না হলে বাড়ির বাইরে বেরোবেন না। দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করুন...”

ঘেঁটে যাচ্ছি। বাংলাটা গোলমেলে। নাকি অনুরোধের আগের দয়াটুকু বাদ দিলে......

রাস্তায় থু থু ফেলা, শিকনি ঝেড়ে হাত না ধোওয়া

সেদিন বেস্পতিবার। সারা দেশের হৃদপিন্ড গলগত করে “সাঁথিয়ো” ডাকা হয়ে গেল।

পরের দিন শুক্রবার সন্ধেবেলা দোকানে গিয়ে কিছুই না পেয়ে বাড়ি ফিরছি। এই এলাকায় সজাগ হয়ে রাস্তা চলতে হয়। না হলে সাইকেল, তিনচাকা রিক্সা, ব্যাটারির রিক্সা, বাস, মোটরবাইক, মোটরগাড়ি থেকে উড়ে এসে থকথকে থুতু গায়ে পড়তে পারে, লোকজন পা মাড়িয়ে, গায়ে নখ ঘষে দিয়ে চলে যেতে পারে। তাই দেখতে পেলাম চা দোকানের সামনে ফুটপাথ জুড়ে দাঁড়ানো ছেলেটা ফ্যাৎ করে শিকনি ঝেড়ে ফেলল ল্যাম্পপোস্টের গোড়ায়। ইস্কুলে শেখে  নি। কাজের জায়গার নিয়ম মানবে না। টিভি ... হয়তো দেখে না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া? হোয়াট্‌স অ্যাপ, ফেসবুক, ইউটিউব? শালা, শুধু পানু দেখে......

ঐ জন্যই মাস্ক পরতে বলছে। মুখটা নাকটা বাঁধা থাকলে অন্তত ফ্যাতাফ্যাত শিকনি ঝাড়া আর ঘ্যাতাঘ্যাত থুতু ফেলা বন্ধ থাকবে। বলছে নাকি করোনার বাসা নাকি ঐ চোখের জলে, নাকের জলে, জিভের লালায়। নতুন শরীরে করোনার গমনও মুখ, নাক আর চোখ দিয়ে......

ভুবন শ্রবণ

বয়স তিনের কোঠা পেরোতে টের পেয়েছিলাম যে জগৎ সংসারে নতুনত্বের খবর রাখতে গেলে অল্পবয়সীদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। তা,অনুজও কথার আগে আজকাল বলেন, “আজকালকার ছেলেগুলো......”

তাই অনুজতমের শরণ নিলাম। সে এখনও কুড়ির ঝলমলে দিকটায়। আর মনে রাখে না যে আমার থেকে তাঁর বয়সটা কুড়ি বছর কম। সে ছোকরা আমাকে তিনটে গল্প বলে জানালো জনচেতনা ব্যাপারটা ঠিক কী।

১। “হাতা-খুন্তি দাওনা” খেলার সাদা চকের গোল দাগে দাঁড়িয়ে ভন্টু শাক কিনতে কিনতে জানতে চাইলো, “মাসি, রোববার বাড়ি থেকে বেরোতে বারণ করছে কেন?”

মাসি বলল, “আরে, করুনা বলে একটা পোকা এয়েচে। মোদি রোববারে মিসাইল দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে মারবে সেটাকে। তাই বাড়ি থেকে সক্কলকে বেরোতে বারণ করেছে।”

২। টোটোন, মিঠুন, শানু, ঘোচন রোজ রাত দশটা থেকে বারোটা লোকনাথ সুইটস্‌-এর চাতালে বসে টোয়েন্টি নাইন খেলে। আজকাল মশারি খাটিয়ে, ডিমের ক্রেট জ্বেলে বসছে।

৩। বিদেশ থেকে আসা করোনা সংক্রামিত এক রুগীকে জেলা সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছিল। রুগী সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরের দিন সংবাদপত্রে লেখা হয়, “এলাকার চার যুবক নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পলাতক রুগীকে খুঁজে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। তাঁদের সাধুকর্মকে প্রশংসা জানাতে স্থানীয় দুটি গ্রামের অধিবাসীরা ঐ অসমসাহসী যুবকদের নিয়ে গ্রাম পরিক্রমা করেন।”

করোনা সি আই এ প্রজেক্ট

শুনছিলাম কোল্ড ওয়ার নিয়ে পডকাস্ট। নিজের কানকে বিশ্বাস হলো না। তারপর দেখি গোপণীয়তার সব ফিতে ছিঁড়ে সি আই এ তাদের ওয়েবসাইটে ফাঁস করে দিয়েছে। সি আই এ-র কৃত্রিম উপগ্রহ চেপে চরগিরি করার প্রথম প্রকল্পটার নাম ছিল করোনা।

করোনা বিষয়ক সাবধানতা প্রচারে ভাইরাস সমৃদ্ধ ভিডিও

পিতৃবন্ধু হোয়াটস অ্যাপে ভিডিও পাঠিয়েছেন। সঙ্গে একছত্র বর্ণনা যে বর্তমানের ভয়াবহ প্রতিকুল পরিস্থিতিতে নির্ভয়ে ভালো থাকার ফর্মুলা আছে ভিডিওতে। ভিডিও তিন সেকেন্ড চলতে না চলতেই আমার ঝরঝরে ফোনের ৯৯% চার্জ ঝপ করে ০% হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে গেল। ফোনটা গরম হয়ে হাতে ছ্যাঁকা লেগে গেল।

যাচ্চলে। ভিডিওতে ভাইরাস কিংবা স্পাইওয়্যার কিংবা দুটোই ছিল।

পিতৃবন্ধুকে জানালাম ওয়াট্‌স অ্যাপের ছবি ও ভিডিও থেকে কী কী বিপদ ঘটে। তিনি বললেন, “আমাদের পত্রিকার আসছে সংখ্যার জন্য একটু লিখে দেবে?”

সে না হয় দেব।

কিন্তু কদিন পরে ফেসবুকের নতুনপাঁয়তাড়ার পাল্লায় পড়ে ভিডিও ট্যাব খুলে দেখি পিতৃবন্ধুর ভিডিওর ড. অর্কপ্রভ সিন্‌হা যিনি নাকি দিল্লীর এইমস্‌-এ কাজ করে তিনি“সুস্বাস্থ্য” নামের একটা ফেসবুক পাতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডাক্তার জাকির হয়ে গেছেন!

হ্যাশট্যাগায়ঃ ফেকনিউজায়ঃ জয়

মার্চের শুরুর দিকেই পড়লাম উহান, হুবেই-তে পঞ্চান্ন হাজার লোক সুস্থ হয়ে কাজে ফিরে গেছে। যদিও সাড়ে তিন হাজার লোক মারা গেছে। তবে লকডাউন ছিল। ডিসেম্বরে রোগ দেখা দিয়েছিল...। নাকি নভেম্বরে...?

সব তথ্যই নড়বড়ে হয়ে যায় যখন লাখ লাখ মানুষ সারা পৃথিবী জুড়ে মারা পড়ে।

চিনে মানুষ মরছে শুনে এক সপ্ততিপর মন্তব্য করেছিলেন, “নিজেদের লোক মারার জন্য করেছিল। সামলাতে পারে নি। সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে ফেলেছে...”

কিন্তু আমেরিকা? জুডেয়ো-ক্রিশ্চিয়ান আদর্শে চলা আমেরিকান সমাজে পা রেখে দেশের সঙ্গে প্রথম তফাত যেটা টের পেয়েছিলাম সেটা ছিলো, “আমেরিকায় মানুষের জীবন ভীষণ মূল্যবান। যে কোনো জীবন ভীষণ মূল্যবান। সারাক্ষণ প্রাণের সুরক্ষার আয়োজন চলেছে।” সেই আমেরিকা নাকি করোনাহতের তালিকাতেও শীর্ষে।

তাহলে চিন কী সারা পৃথিবীর সাথে মারণযুদ্ধে নেমেছে আর মৃত চৈনিকরা কোল্যাটারাল?

লকডাউন কত দিন চলবে তাই নিয়ে জল্পনা চলতে চলতে ড. অর্কপ্রভ সিন্‌হা কিংবা ডাক্তার জাকিরের মতো কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর অধিকারী ও রাকেশ সিং গজিয়ে গেছে। ফেসবুক পোস্টের তত্ত্বকে সিরিয়াস গবেষণার সাজ পরিয়ে। হারিয়ে গেছে দ্য হিন্দুতে ছাপা তামিলনাড়ুর চিফ এপিডেমোলজিস্ট-এর ব্যাখ্যা।

আর লকডাউনের মেয়াদ বাড়তে সব যুক্তি বুদ্ধি বিজ্ঞান ছাপিয়ে রাজনীতিটাই জিতে গেল...... যেমন যায়। সব সময়।

সবেতেই পিছিয়ে পড়ছে

কথা হচ্ছিল মুম্বই, মহারাস্ট্রের নানান পৌর এলাকায় (নাসিকে, পুনেতে) আর ওড়িশার কয়েকটা জেলায় লকডাউন শুরু হয়ে গেছে। তখন মহারাস্ট্র আর ওড়িশায় সংক্রমণ সংখ্যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সেই কথা শুনে একজন বলে ছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সবেতেই পিছিয়ে পড়ছে।”

movie: Contagion (2011)

স্টিভেন স্পিলবার্গ প্রায় নস্ত্রাদামাস। স্কট জি (z) বার্ন্স-কেও তাই বলা যায়। স্পিলবার্গ নির্দেশিত, বার্ন্স-এর লেখা চিত্রনাট্যে তৈরি ২০১১-এর হলিউডি থ্রিলার কন্টাজিয়ন। হুবহু তাই দেখলাম যা চলছে করোনা-শাসিত বিশ্বে।শেষে অবশ্য বলা হয়েছে আমেরিকাই দোষী।

মাস্কওয়ালাদের থেকে নিশ্চয় প্রশাসন ঘুষ খেয়েছে

খেতে পারে। নাও পারে। সব ঘটনারই আঁটেঘাঁটে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কারখানা খোলা যায়। এবারেও গেছে। ফেক নিউজে চোখ পড়লেই হাসি পাচ্ছে।

আজ পড়েছি খবরে বাজার বন্ধ করে “কাফে একান্তে”-র খানা গেলানো হবে। দয়া করে না অনুরোধ করে, না দয়াপূর্বক অনুরোধ করে জানি না। এই কদিন আগেই সব রেস্তোর‍্যাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সংক্রমণের আকর বলে। নিউটাউনে, কলকাতাতে, মুম্বাইতে, এমনকি লস এঞ্জেলেসেও। মায়াম বাইলিক তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে এমনটাই জানিয়েছিলেন।

তাহলে?

মনে হচ্ছে মগজটা গ্রানাইটের। নিউরোণগুলো সব মেটামরফোজড হয়ে গেছে।

পুলিশ গান গায়!

আগে জানতাম পুলিশে ঘুষ খায়। এখন দেখছি গানও গায়।

আলো জ্বালো

দেখলাম, সব্বাই জ্বালল। শুনলাম। “জয়শ্রীরাম”অনুরণনিত, কিন্তু“ভারতমাতাকীজয়”সাড়াপেলোনা।একাক্ষর রাম হারিয়ে দিল চারাক্ষর ভারতমাতাকে।

কালো রাজহাঁস

ইতিহাস বলে যে অস্ট্রেলিয়ায় কালো রাজহাঁস যতো দিন না দেখতে পাওয়া গিয়ে ছিল, ততো দিন ধরে নেওয়া হয়ে ছিল রাজহাঁস কেবলমাত্র সাদা হয়। যে সব ঘটনা না ঘটলে টের পাওয়া যায় না যে তেমন ঘটনা ঘটতে পারে, যেমন ২৬/১১-এর পাকিস্তানি উগ্রপন্থী হানা, সে সব ঘটনাকে কালো রাজহাঁস (black swan) বলে। এই ধারণার প্রচার ঘটে নিকোলাস নাসিম ট্যালেব-এর ২০১২ সালে লেখা ‘দ্য ব্ল্যাক সোয়ান/ দি ইম্প্যাক্ট অফ হাইলি ইম্প্রোব্যাব্ল’ বই থেকে।এই বইতে লেখা হয়েছিল যে পৃথিবীজুড়ে মানুষের ভ্রমণ যতো বাড়বে, ততোই মহামারী ছড়িয়ে পড়বে দ্রুততর বেগে।

ভ্রমণের পরিসর এবং পরিমাণ দুইই বেড়ে গেছে। ছড়িয়ে গেছে করোনা সংক্রমণ দ্রুতবেগে। তাহলে করোনা নিশ্চয় ব্ল্যাক সোয়ান এমন দাবি উঠেছে।

লেখক চিন্তক অধ্যাপক ট্যালেব অস্বীকার করেছেন যে করোনা সংক্রমণ ব্ল্যাক সোয়ান। শ্বাসযন্ত্র বিকল করে দেওয়া মারাত্মুক ভাইরাসের সংক্রমণ পরিচিত ঘটনা। বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও পরিচিত। সেই হিসেবে করোনা সংক্রমণ একটি সমাধানযোগ্য পরিস্থিতি মাত্র। যথাযথ ব্যবস্থা নিলে ইবোলা বা জিকা ভাইরাসের মতো করোনাও প্রতিহত করা যেতে পারে।

এর মধ্যে ভূমিকম্প

দিল্লীতেই এপিসেন্টার। মাত্র ৩.৫ রিখটার স্কেল পাঠের ভূমিকম্প বাধ্য করল লকডাইনে নির্বাসিত মানুষকে পথে নামতে। কাঁপের প্রকৃতি রাখে কে!

কে কাকে যে বাঁশ দিচ্ছে...

লকডাউনের কথা শুনে মনে হয়েছিল, “মরবই। হয় করোনায়, নয় তো না খেয়ে।”

কোনটা বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন আর কোনটা বাস্তববুদ্ধিবর্জিত অবস্থা সেটা আর ভাবছি না। বুদ্ধিতেও লকডাউন চলছে।

ইবোলার সময়ে লাইবেরিয়ার লোকেরা মরা মানুষ খায় আর খাওয়ার পর হাত ধোয় না বলে একটা ছিছিক্কারের ধুয়ো উঠে ছিল। এখন তর্ক এই যে করোনার দায় কার চিনের নাকি চিনে বাদুরের বাসস্থাণ বিধ্বংসী আমেরিকান বাণিজ্যের?

সে প্রশ্নের উত্তর মহাকাল দেবে।

আমি প্রচণ্ড ঘেঁটে ঘ বর্তমানে বসে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করতে পারি মাত্র। ভাগ্যিস এখনও সংক্রামিত হয় নি।

কাল শুনেছি করোনা গাঢ় ফোঁটা ছেড়ে নাকি হাওয়াতেও ভাসছে (যদিও WHO তেমন বলছে না, WHO -তে ভরসা রাখি কারণ ক্যান্সার ঘটায় বলে জগৎজুড়ে ডিডিটি ছড়ানো বন্ধ করে দিয়েFAO ফিরিয়ে এনেছিল ডেঙ্গুর মড়ক যাতে যশ চোপড়ার মতো ধনী লোকও মরে গিয়েছিল, সেই ডিডিটিকে জনজীবনে ফিরিয়ে এনে জীবনদায়ী বলে প্রমাণ করেছে WHO; প্রমাণ রেখেছে বাস্তব বিবেচনার।)

হাওয়াতে ভাসছে করোনার ভাইরাস, তাও তের ফুট উঁচুতে। এখন হাওয়ার ঘনত্ব আর ভাইরাসের ঘনত্বের উপর নির্ভর করছে ভাইরাস কতটা উঁচুতে ভাসবে। ভাইরাসের ঘনত্ব ধ্রুব হলেও, দীঘা, দমদম আর দার্জিলিং-এ হাওয়ার ঘনত্ব এক নয়। দূষণের জন্য নয়, সমুদ্রতল থেকে এই এলাকাগুলোর উচ্চতা আলাদা বলে, এদের অক্ষাংশ (পৃথিবীর উপরে এদের অবস্থাণের এলাকা) আলাদা বলে। তাহলে নিশ্চিত তের ফুট উচ্চতাটা কিভাবে মাপা হলো?

এসব কূট প্রশ্নের সময় এটা নয়।

করোনা নিরসনে হয়েছে টাস্ক ফোর্স। টাস্ক ফোর্স যদি একটা পেস্ট্রি হয় তাহলে তাতে মাখন, ময়দা, ডিম, দুধ, বেকিং সোডার মতো ডাক্তার, নার্স, এপিডেমোলজিস্ট, ভাইরোলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট, পুলিশ, প্রশাসক (ট্র্যাফিক ম্যানেজার, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস প্রোভাইডার) এসব লোকের থাকার কথা। কিন্তু এদের মাথার ওপর পেস্ট্রির ওপরে লাল চেরিটি হেন বসেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। এই সংকটেও জগঝম্প গয়নাগাটির মতো নোবেল লরিয়েট ঝলমলিয়ে লোক দেখানোর দরকার ছিল?

সংকটকালে সব চলে। শুধু ছোটো মনের কুচুক্কুরে নির্বোধ প্রশ্নগুলো অচল।

এত্তো এফ এম কাঁপিয়ে বিজ্ঞাপণ হলো ফেক নিউজ ছড়ানো বন্ধ করার জন্য। নিউজ পোর্টাল তত্ত্ব সাজিয়ে চলেছে (সাধারণ সব্বাই, প্রমাণ বোঝেও না, চায়ও না, শুদ্ধু ভয় পায়, অতএব) ভয়ানক। তাও লকডাউন বাড়বে কিনা জানতে নিউজ পোর্টালে যেতে হবে। কারণ ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট এসএমএস দিয়ে নববর্ষষের শুভেচ্ছা পাঠাতে পারেন, কিন্তু করোনাগ্রস্ত, ব্যতিব্যস্ত। তাই ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশনের ভোঁতা প্রচার চলতে পারে এসএমএস-এ। কিন্তু লকডাউনের সীমা ও পরিসর নিয়ে কোনো খবর জেলা বা তহসিলের প্রশাসন থেকে এসএমএস-এ প্রচার করা যেতে পারে না।

না, আর কোনো প্রশ্ন নয়। এখন জুজু (করোনা) দেখে ভয় পাওয়ার সময়। বুদ্ধির রসালো নিউরোন আতঙ্কে ঝাঁঝরা করে গ্রানাইট করে ফেলার সময়।

তাহলে তাই হোক।

(** আজকাল লোকে চেয়ে লেখা নেয় আর তারপর বলে ছাপা যাবে না... শুধু রাজর্ষি দা চেয়ে, সময় দিয়্‌ তাগাদা দিয়ে লিখিয়ে নেয়......... তাই দু-তিন দিন বলে বারো-তেরো দিনে লেখাপত্তর হয়ে যায় আরকি)

 





সংহিতা মুখোপাধ্যায়

সংহিতা মুখোপাধ্যায়




To post comments Sign Up


Comments


Sanhita
15th Apr, 2020 11:40 am

Thank you, for reading and most importantly, for feedback.

Sanhita
15th Apr, 2020 11:40 am

Thank you, for reading and most importantly, for feedback.

Sanhita
15th Apr, 2020 11:40 am

Thank you, for reading and most importantly, for feedback.

Commandante
15th Apr, 2020 3:12 am

জাস্ট দুর্ধর্ষ।

Uma
15th Apr, 2020 1:34 am

কিছু বলার নেই, অসাধারণ লিখেছ। খুব ভালো লাগলো যেগুলো মনে ছিল প্রকাশ হতে পারছিল না, সেগুলো তুমি প্রকাশ করে দিলে।

×

CONTACT

RAJARSHI CHATTOPADHYAY (EDITOR)

289, ASHOKEGAR

PURNIMA VILLA

1ST FLOOR

KOLKATA – 700108

Copyright © 2019 www.nayadashak.co.in
A Literary Venture of Naya Dashak (S/SC NO.26851 of 2014-2015)