'য়া দশক



ব্লগ

রমলাকান্ত ও লকডাউন

রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়



রমলাকান্ত ও লকডাউন (প্রথম পর্ব)

আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে এক্রস দ্য ওয়ার্ল্ড এতো বড়ো একটা সংকটের কোনো মোকাবিলা নেই, এ হতে পারে না। জিংপিং, ট্রাম্প, মোদি এদের যে কেউ অথবা প্রত্যেকে জানে। অথবা, গেটস, ওর্তেগা, জুকের্বার্গ। ওয়াল মার্ট আর স্ট্রীট জানে।
আম্বানি জানলেও জানতে পারে।
হেলথ ইস দ্য লিডিং ইন্ডাস্ট্রি! তার পরেই শিক্ষা।
অনাবশ্যক কিছু ছেঁটে ফেলো। বুড়ো হাবড়া। রুগী। বেসিক্যালি গরীব। এবাভ অল ফাকিং কাস্ট এন্ড কমিউনিটি। জলবায়ু ফলবায়ু পরিবর্তনের আর কোন ব্যাপার নেই। সিমেট্রির পাশাপাশি ওল্ড স্টেগুলো পৃথিবীর মাটি কামড়ে যেন পড়ে আছে। নীচে ওপরে কিচ্ছু রাখা যাবে না।
তাই আগে স্মৃতিগুলোকে ভ্রষ্ট করে দাও। ই রে জ।
তারপর অধুনান্তিক পরিষেবা।
ইন্টার্নেট বেসড এবসোলিউটলি ডিজিটাল। প্লাস্টিক মানি।
খাদ্য বস্ত্র শিক্ষা স্বাস্থ্য সব। একুশে আইনে কেমন শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়া গেলো।
বাড়িতে থাকতে শেখো। ইস্পেশাল মিট ফিট থাকলে আপিসে আসবে।
গ্রসারি লাইভস্টক কসমেটিকস মেডিসিন্স এন্ড কোহল (এদেশে এট্টু সবুর করো) সব অনলাইন দোরগোড়ায় উইথ স্যানিটাইজার দিয়ে যাবে।
অনেক সেক্টর ৫ ৬ ৭ ৮ করেছো। বউকে ভালোবাসতে শেখো, বাচ্চাকে আদর করতে। নাহলে নীল চশমা পড়ে ভার্চুয়াল তো আছেই।
রীতি পাল্টাও।
জানো না বীর জাতি পঙ্গু, জীর্ণ ও জরাগ্রস্তদের বহন করে না।
ভাসিয়ে দেয়।
সুচতুর, পরিকল্পনা মাফিক ও প্রায়োগিক সার্থক একটা বানভাসি।
তুমি বহন করবে, জানতেও পারবে না। শুধু আমরা জানবো আর কোয়ারেন্টিনে পুরে নেবো।
তথ্য বিকৃতির যুগ। সামান্য ডেংগি হলেই সঠিক (সেটা আবার বাল কী ঠিক) পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না, আর এ তো সদ্য প্রিয় করোনা।
এটাও ডিটেইনশান-ই। তবে গ্লোবালাইজড আর হাইলি কন্সেন্ট্রেটেড।
 
রমলাকান্ত এসব লকডাউন ফাউনের মামা মাসী আর পাপা পিসি করে তার উটেদের নিয়ে নগর পরিক্রমা করে সবে ফিরলো।
এই লেখা পেছন থেকে উঁকি মেরে দেখে নিয়ে বললো, একটু বেশী ভাবছো।
এদিকে পুটকি কী করেছে জানো?
আমি ব্যস্ত সমস্ত হয়ে বললাম, কী?
বাপকে বলেছে, কী সারাদিন ফেসবুক করো! একটা লেখাতেও তো লাইক পড়ে না! আমার ছবি দিলে ১৩৫টা। মার শাড়ি পরা যেটা দিয়েছিলে সেটাতে ১৩৬।
আমি বললাম থামো তো বাপু।
বললো, আরো খবর আছে শোনো।
বাবর কাশিমকে বলেছে, আব্বা, এতদিন ধরে খাসির বাচ্চাগুলোকে জিইয়ে রাখা যাবে না। লোকগুলার হলো কী! রোব্বার কবে আসবে বলো তো?
দুটো কানপটাকা দিয়ে কাশিম বলেছে, পুলা এখন থেকে সবদিনই রোববার। বোঝো। বোঝার চেষ্টা করো। যতক্ষণ না বুঝছো ঝাড়ে বাঁশে বাড়তে দাও।

রমলাকান্ত বললো, বুঝলে, এটা হচ্ছে দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান রিপাব্লিক অফ রামপাঁঠাস। যাও যাও, শুতে যাও। ঝোলার মধ্যে উটগুলোকে পুরে নিয়ে বিদায় জানানোর আগে আমাকে বলে গেলো, শুভ রাত্রি।

রমলাকান্ত ও লকডাউন ( দ্বিতীয় পর্ব )

বললাম, বেশী ভাবছো। শুনলে না।
কোথা থেকে আবার উদয় হয়েছে আর আড়মোড়া ভাঙছে।
বললাম, আজ বেরোওনি?
বললো, কপু বেলা বোস আর উই শ্যাল ওভার কাম গাইছে। রাজীব কুমারের পর থেকে তোমরা এই হেঁদেলগুলোর কিছু রাখো নি!
আমি বললাম, থামো বাপু। কোথা থেকে কে শুনে ফেলবে!
বললো, চুপ করো। জানো না, তোমার ভাষা-সাহিত্যের শেষ মেজর কবি লিখে গেছেন, কেবলই শ্রাব্যের জন্ম হয়।
আমি বললাম, শ্রাব্যের নয়। দৃশ্যের।
বললো, থালা বাটির আওয়াজ শুনেছিলে তো। এবার মোমবাতি দেখবে। তিনি নিদান দিয়েছেন। শ্রাব্য আর দৃশ্যের কী অপূর্ব এক শোভা যাত্রা। আমি বললাম, রমলাকান্ত, অনেক বৈশ্বিক ভাঁড়ামো হয়েছে। এবার থামো।

জনগণ থামছে না। আমাকে থামালেই হবে! বলেছে, সার্বভৌম ১৩০ কোটি আমার সঙ্গে আছে। তারপরেই শুধরে নিয়েছে, সাথীওঁ বাড়ি থেকে কেউ বেরোবে না। স্যোসাল ডিসটান্সিং মানতে হবে। আগেরটা মনে আছে না। জয় করোনা মাঈকি জয়। আসছে বছর আবার...
আমি গলা একটু সরু করে বললাম, ভায়া এটা কোনো ব্লাফ নয় তো! ট্রায়াল আর এররে ধরো ফার্স্ট ফেসটা খেলে দিয়েছে। দেখেছে দুটো মারাত্মক এরর। ট্রপিক্যাল রিজিওনে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। দেবীর খুব ফার্স্ট মিউটেশন হয়েছে। ফীবলি এডাপ্টেবল, বিশেষত পেরেন্ট বডির গড় আয়ু যখন ষাটের আশপাশ। মোস্ট আনহেলদি আনহাইজেনিক তৃতীয় বিশ্বে, বিশেষত এই সাবকন্টিনেন্টে, যেখানে ভাইরোলজির কম্পোনেন্টগত চরিত্র ও চেহারা আলাদা হতে বাধ্য, সেখানে মায়ের দেওয়া মোটা ভাত কাপড়ে রোগ প্রতিষেধক ক্ষমতা ইউরো আমেরিকার থেকে বেশি।

কিন্তু ধরো, এটা যদি শীতকাল চলে আসে সুপর্ণা! ২০-২২! হাল্কা বুটি তোলা চাদর, সাল!

রমলাকান্ত বললো,আবার ভাবছো। ভাবাটা আর কাজ নয়। এখন পর্যবেক্ষণ করাটাই কাজ। সব ডাটা শিটগুলো ফাইল করে ফেলো।
তারপর দেখো একটা গোটা করোনা নামিয়ে দেওয়া যায় কিনা, অথবা লাভ ইন দ্য ডেয়স...
থামলে তুমি!
আসলে গুয়েমাছির মতো সব ভন ভন করছে। একটা বেস্ট সেলার। আর একটা ফিফটি টু উইক্স হাউসফুল!
আচ্ছা বাপু চললুম। আমার ঢের কাজ আছে। নিমেষে তালুর মধ্যে উটগুলোকে পুরে ফেললো। হাত নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে যাওয়ার আগে বললো, যে হারে বিয়োবে বলেছিলো সে হারের কিছুই না হলেও কোয়ারেন্টিন কিন্তু থাকছে। কার্স ইন ডিসগাইস। স্টেট প্রভিন্স কেউ ছাড়বে না। এটাই স্টেক। লং রানে যেতে হবে।  আসলে সবাই ভেবলে রয়েছে। এটাই খেলা। জগতে আনন্দযজ্ঞকালে।
বোঝো। বোঝো।
না বুঝলে চুলোয় যাও।

হাতে রইলো পেন্সিল নিয়ে সেই থেকে বসে ছিলাম।

সম্বিৎ ফিরে পেতেই আর্তনাদ করে উঠলাম, তাহলে তো বড় মেজো সেজো ন' ছোটো সব নেপোয় দই মেরে দেবে, রমলাকান্ত, জনগণমনের কী হবে?


রমলাকান্ত ও লকডাউন (তৃতীয় পর্ব)


জিডিপির মাত্র ১.৮% তুমি ভাবতে পারো স্বাস্থ্য খাতে! আর লিখে দিলে জনগণের ম্যানিফেস্টো! আবার গণ আদালত!
হাতে একটা প্রিন্ট আউট নিয়ে রমলাকান্ত দাঁড়িয়ে আছে। আমি দিন দুয়েক আগে ফেসবুকে যা লিখেছি।

সারাৎসার হলো:

"বিপ্লব ফিপ্লব মারাবেন না। বাজার উন্মুক্ত, ফলত: এই সুযোগে দাঁওটা মেরে দিন।
মানে ম্যনিফেস্টোটা আপনিই লিখে ফেলুন। এই যে আকাশে বাতাসে গণ স্বাস্থ্য শিক্ষা পরিবেশ মায় সংস্কৃতি যা উড়ছে, ধরে ধরে টুকে দিন। দেখবেন, প্যাকেজের পর প্যাকেজ পিচ্ছিল দড়ির মতো খুলে যাচ্ছে। পিছিয়ে পড়ছে মন্দির মসজিদ প্যাটেল ভাকরানাঙ্গাল গোরক্ষা অনার-কিলিং নীতি-পুলিশী দলিত সবরীমালা ক্লাব-সমন্বয় বিচিত্রশ্রী-সব হবুচন্দ্র-যোজনা গবুচন্দ্র-প্রকল্প।
পরিশেষে গণ আদালতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করবেন।
টেলিকম বিটুমেন ইন্সিউরেন্স থেকে মোদী শাহ চোকসি থেকে সারদা নারদা পর্যন্ত সব কবর খুঁড়ে বের করা হবে।
সর্ব অগ্রাধিকার এক্ষণে কমিউনিটি, সবার ওপরে গণ-সত্য, তাহার উপরে নাই। উত্তর করোনা পৃথিবীতে বহু সঙ্গত কারণে এই 'সীমিত' গণজনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
দেরী করবেন না কমরেড।
শুধু ম্যানিফেস্টোটা আপনিই লিখে ফেলুন।
তারপর সব শিয়ালের এক রা কিনা শোনার জন্য অপেক্ষা করুন।
তার আগে পা চালিয়ে।"

দেখো 'গণ' যা কিছু তা একটা চেতনা (ধর্ষণ বাদে)। তুমি ভারতবর্ষের শাসকের কাছ থেকে তার উন্মেষ আশা করো!
এমন হতচ্ছাড়া সময়ে প্রেসার কুকারের সিটিটা, যেটা দুলে দুলে উঠছিলো, সেটা হিল্লোলে বেরিয়ে এলো।
নাক টানছিলো অনেকক্ষণ ধরেই, এবার হেঁ হেঁ করে জিবটা অনেকটা টেনে নিয়ে বললো, মাংস বুঝি?
আমি বললাম, অনেকদিন বাদে আজ পাঁঠা পেলাম। অল্প একটু এনেছি, তুমি তো জানো বারণ আমার!
তা বাপু, তুমি দুপুরে ইয়ে মানে খেয়ে যেও।

দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান রিপাবলিক...
আমি বললাম, কী বললে? শুনতে পেলুম না, ইয়ে পাঁঠা খাও তো!
উট আর উট সম্পর্কিত যা কিছু বাদ দিয়ে সব খাই।
ইয়ে মানে তোমার বাড়িতে স্টক আছে?
কীসের?
মানে, ওই আর কী
আমি বললাম, রমলাকান্ত আমি সব ছেড়ে দিয়েছি। মায় কফি পর্যন্ত!
হেঁ হেঁ তা মন্দ নয়। দুটো ভাত খাওয়াই যেতে পারে। এই শশা নিশ্চিত আছে।

কিন্তু কাল রাতে মোমবাতি জ্বালাচ্ছো কি?
আমি বললাম তুমি জানো কি কাল ভাজপার ইভ অফ ফাউন্ডেশন ডে, অন্তত গুগল সেরকমই বলছে।

সার্বভৌম ১৩০ কোটির দখলদার যা বলবে তাই শুনতে হবে বাপু। চাড্ডি বললে হবে? এখন চাড্ডি তোমার বাপ।
আসলে এই মৃত্যু উপত্যকায় তোমরা এড্রেস করতেই শিখলে না। শুধু রাম মন্দির করে ভারতবর্ষের কোথাকার জল কোথায় উঠলো। আর নামাতে পারবে?

আমি তেড়ে ফুঁড়ে বললাম, আমি আরটিআই করবো।
কী করবে?
মানে আমি জানতে চাইবো,
এই পর্বে বৈদেশিক উড়ান থেকে শুরু করে ধর্মীয় রাজনৈতিক সভা সমাবেশের পুঙ্খানুপুঙ্খ,
বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি ক্রয় বিক্রয় সেবা,
মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টস ও অন্যান্য আশু প্রয়োজনীয় বস্তু সকলের বরাত,
লকডাউন ঘোষণার পর ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের প্রান্তিক ও অসংগঠিত শ্রমিক মানুষের খাদ্য বাসস্থান স্বাস্থ্য পরিষেবা,
বিভিন্ন নামে কেন্দ্রীয় ও সব রাজ্যসরকারী ফান্ড দেশী বিদেশী সাহায্য ও তার সুষ্ঠু গণবন্টনের চরিত্র ও চেহারা,
সমস্ত সরকারী বিজ্ঞাপন এই পর্বে কাদের কোথায় কত দেওয়া হয়েছে? এবং,
এই মুহূর্তে সঠিক কতজন আক্রান্ত কতজন নিরাময় হয়েছেন, আর এন্ড ডি সমস্ত কিছু...

থামো হে।

মদ থাকলে দাও। খাটের তলা, বইয়ের তাকের পেছন, বাথরুমের ওপরে লফট, চিৎ হয়ে হামাগুড়ি দিয়ে প্রথমে উপুড় তারপর উল্টে পাল্টে দেখো পাও কিনা!

পেলে না তো। আরটিআইতেও কিছু পাওয়া যাবে না।
বিচারব্যবস্থাকে চমকে ধমকে রাজ্যসভায় নমকে মানে নমিনেশন দিয়ে হাতের মোয়া করে ফেলেছে, আর ইনি আরিটিআই মারাচ্ছেন।

ফিয়ার উই ফেইল, মাই ডিয়ার কমরেড, সব কটাকে পেটের মধ্যে পুরে নিয়েছে।

তোমার প্রতিবেশী দেশ কী বলেছে জানো, ‘শিল্পমালিকরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে উৎপাদন অব্যাহত রাখবেন।’

অ ব্যা হ ত।
ফ্রম ট্রাম্প টু হাসিনা।
সব সিঁধিয়ে গেছে বুঝলে। খালি খেয়াল রেখো তোমার দেশে দুই সরকারই মিটিগেইশান এবং সাপ্রেশান নিয়ে কী ভাবছে।
এই সাপ্রেশান কতো দিন চলবে? এবং, তারপর কী হবে?
এর পরেরটা হলো 'হ্যামার অ্যান্ড দা ড্যান্স স্ট্র্যাটিজি' এবং অ্যাগ্রেসিভ টেস্টিং এবং কন্ট্যাক্ট ট্রেইসিং করা।
এবং ফার্দার কোয়ারেন্টাইন এবং আইসোলেইশান।

টার্মগুলো না জানলে আমার মা সব জানের মতো গুগল মম দেখে নিও।
আপাতত চললাম। দুপুরে আসবো।
আর হ্যাঁ, মোমবাতিটা ভেবো কিন্তু। এটা ভাবার কাজ।

আমার উটেরা কিন্তু কাঁটা চিবিয়ে খায়। হেঁটে যাচ্ছে হেঁ হেঁ রমলাকান্ত আর আমি ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে আছি।

অইদিকে আমার ভারতবর্ষ।

রমলাকান্ত ও লকডাউন (চতুর্থ পর্ব)

কী বলেছিলাম! রমলাকান্ত অট্টহাস্যে ফেটে পড়লো।

Fear we fail. We're a failed nation.
A failed state. You'll find it soon.
It's no social distancing. It's socio-cultural. You got a mom and you've got a pop now.
You're nobody. And nobody is you.

তুমি লিখেছিলে:

...you've never seen what's a programming
that never negotiates
that, too, contagiously
unless there's one enemy
for one and all...

...and...

...if this is not perdition
patterned in our monologue
if this is not black washing
our fences of grief and agony
our boundaries of mistrust and disbelief
if this is not the broken piece of love
that we laboured
If this is not anything, but everything
we denied to write on our cenotaph...

Cry motherland cry.





রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়

রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়




To post comments Sign Up


Comments


×

CONTACT

RAJARSHI CHATTOPADHYAY (EDITOR)

289, ASHOKEGAR

PURNIMA VILLA

1ST FLOOR

KOLKATA – 700108

Copyright © 2019 www.nayadashak.co.in
A Literary Venture of Naya Dashak (S/SC NO.26851 of 2014-2015)